সোমবার, ২৯ Jun ২০২৬, ০২:১৫ অপরাহ্ন

প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ বললেন তারেক রহমান

সংসদে তারেক রহমান

অনলাইন ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ হিসেবে নামকরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলমান বাজেট দেশের জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সহজ করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই সংসদের যাত্রা শুরু হওয়ার পর আমরা বিভিন্ন চড়াই-উৎরাই অতিক্রম করেছি। বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, কোথাও ঐকমত্য হয়েছে, কোথাও মতভেদ হয়েছে। কিন্তু তারপরও আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমরা দেশের মানুষের সামনে একটি আশার আলো তুলে ধরতে পেরেছি।
বিরোধীদলীয় নেতা তার বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। সবাই যদি সব বিষয়ে একমত হতেন, তাহলে তো একজনের বক্তব্যই যথেষ্ট হতো। কিন্তু গণতন্ত্রে আলোচনা, মতবিনিময় ও ভিন্নমতের প্রয়োজন রয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই আমরা জাতির সামনে আশার একটি পথ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি।

তারেক রহমান বলেন, এই অর্জনের কৃতিত্ব শুধু সরকার বা সংসদের নয়, দেশের ২০ কোটি মানুষের। তাদের সহযোগিতার কারণেই সরকার ও বিরোধী পক্ষ একসঙ্গে বসে সুন্দরভাবে আলোচনা করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি করতে পেরেছে। ৫ আগস্টের ঘটনার পর দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ সার্বিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় ছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে পর্যায়ক্রমে দেশকে একটি গণতান্ত্রিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সরকার সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে সংসদে রাজনৈতিক দল, স্বতন্ত্র কিংবা ইন্ডিপেন্ডেন্ট সদস্য- নির্বিশেষে সবাই দেশের মানুষের স্বার্থ নিয়ে সভ্য ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে আলোচনা করছেন এবং সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এজন্য তিনি সংসদের সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রব্যবস্থায় বাজেট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং সংসদের সময়ও অত্যন্ত মূল্যবান। অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। অতীতে কী হয়েছে, ভালো-মন্দ কী হয়েছে, সেই বিতর্কে তিনি যেতে চান না। কারণ দেশের মানুষ এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা শুনতে চায়। সরকারি দল হিসেবে একটি সুন্দর, স্বাভাবিক ও বাস্তবমুখী বাজেট উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে যত ভালো বাজেটই হোক না কেন, সব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব নয়। বাস্তবতা অনেক কঠিন। তারপরও সর্বোচ্চ বুদ্ধি, বিবেক ও জ্ঞান প্রয়োগ করে এমন একটি বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অন্তত কিছুটা হলেও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারে।

তিনি বলেন, বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬১টি পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জনগণ, বিশেষ করে নারীরা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। আমি গৌরব করে বলতে চাই না, তবে বাস্তবতার ভিত্তিতে বলতে চাই। প্রথমেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে শুকরিয়া আদায় করতে চাই যে, এই শুল্ক প্রত্যাহারের ফলে অতীতের মতো বাজেট ঘোষণার আগে বা পরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবার আমরা দেখিনি।

সংসদ নেতা বলেন, রাজনৈতিক দল ও সরকার হিসেবে জনগণের প্রতি যে দায়িত্ব রয়েছে, তার কিছুটা হলেও সরকার পালন করতে পেরেছে এবং জনগণকে কিছুটা স্বস্তি দিতে সক্ষম হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com