মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ০১:২১ অপরাহ্ন

প্যাকেজ ভ্যাট নতুন মোড়কে ফিরছে

অনলাইন ডেস্ক:: এক সময় প্যাকেজ ভ্যাট বহাল রাখার জন্য রাস্তায় আন্দোলনে নামেন ব্যবসায়ীরা। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নতুন মোড়কে ফিরে আসছে সেই প্যাকেজ ভ্যাট। নতুন নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রাথমিকভাবে প্যাকেজ ভ্যাটের সুবিধা পাবে। এছাড়া আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ব্যবসায়ীরা কোনো ধরনের আবেদন ছাড়া অনলাইনের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ভ্যাট নিবন্ধন নিতে পারবেন। কিছু ক্ষেত্রে ভ্যাটের হার কিছুটা বাড়ানো হলেও বিশেষ করে হার্টের রিং এবং ডায়ালাইসিসের টিউবে নতুন করে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে আগামী অর্থবছরের বাজেটে।

এ ছাড়া যারা গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসায়ীদের জন্য বাজেটে মিলবে নতুন সুখবর। তবে বাড়ি নির্মাণ থেকে ছবি তোলায় বাড়তে পারে খরচ। আর এসব প্রস্তাবনা সামনের বাজেটে কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করছে আগামী বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের ফলে প্যাকেজ ভ্যাট সিস্টেম বিলীন হয়ে যায়। আন্দোলন করে এক বছর পেছালেও পরে নতুন হারে ভ্যাট দিতে শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নতুন নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নতুন করে প্যাকেজ ভ্যাট সিস্টেম চালু করতে যাচ্ছে এনবিআর। এক্ষেত্রে ভ্যাট কমিশনারেটের প্রতিটি ডিভিশনের সার্কেলগুলোতে নতুন করে যেসব প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত হবে, তাদের থেকে প্যাকেজ ভ্যাট আদায় করবেন ভ্যাট কর্মকর্তারা। যদিও এনবিআর কর্মকর্তারা এই সিস্টেমকে প্যাকেজ ভ্যাট বলতে নারাজ। তাদের দাবি, নতুন নিবন্ধনে উৎসাহিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ভ্যাট ব্যবস্থা সহজ করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে আগামী বাজেটে। বর্তমানে যে কেউ চাইলেই তৎক্ষণাৎ আয়কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নিতে পারেন। তবে ভ্যাটের নিবন্ধন নিতে হলে আবেদনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেটের নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসতে হয়। আগামী অর্থবছরের বাজেটে এই জটিলতা আর থাকছে না। যে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন) নিতে আর আবেদন করতে হবে না। ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে বিআইএন নিতে পারবেন। এ ছাড়া আগামী অর্থবছরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব খুলতে লাগবে বিআইএন নম্বর।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, প্যাকেজ ভ্যাট বা কিছু ক্ষেত্রে ভ্যাট বাড়ানো বা কমানো কোনো সমাধান না। এটা এক্সাইজ ডিউটির মতো হয়ে গেল বিষয়টা। ভ্যাটে বড় ধরনের রিফর্ম প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ধীরে ধীরে ভ্যাটের একটা স্ট্যান্ডার্ড রেটের দিকে যাওয়া এবং সংস্কার করা বেশি প্রয়োজন। এ ছাড়া ভ্যাটের বর্তমান বাস্তবতায় ক্রেডিট বা যে রিফান্ড ব্যবস্থা রয়েছে, তা নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে। তাই বিশাল অঙ্কের রাজস্ব আহরণ করতে ভ্যাটের রিফর্ম প্রয়োজন বলেও মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

সূত্র আরও জানায়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) আপত্তির মধ্যেও দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নতুন করে কিছু ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম মেডিকেল সরঞ্জাম। আগামী অর্থবছরের বাজেটে হার্টের রিং এবং ডায়ালাইসিসের টিউবে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে সহজলভ্য হতে পারে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল সরঞ্জাম। একই সঙ্গে কমতে পারে দামও। তবে এই ক্ষেত্রে ভ্যাটে ছাড় দিলেও বাড়ি নির্মাণের অন্যতমও সামগ্রী রডের ক্ষেত্রে ভ্যাট কিছুটা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। এক্ষেত্রে বাড়ি নির্মাণের খরচ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ছবি তোলার খরচও বাড়তে পারে। কারণ ফটোস্টুডিওর ভ্যাটের হার আগামী অর্থবছরে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। তবে তৈরি পোশাক খাতের ঝুট ব্যবসায়ীদের জন্য বাজেটে আসতে পারে সুখবর। দীর্ঘদিন ধরে জোগানদার হিসেবে ঝুট ব্যবসায়ীদের ১০ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হয়। আগামী বাজেটে এক্ষেত্রে ভ্যাট অব্যাহতির পরিকল্পনা করছে এনবিআর। আগামী বাজেটে তামাকে বড় ধরনের পরিবর্তন নাও হতে পারে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আগামী অর্থবছর থেকে ব্যবসার ক্ষেত্রে বিআইএন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। সেই হিসেবে আগামী অর্থবছর থেকে ব্যাংকে ব্যবসায়িক হিসাব খুলতে লাগবে বিআইএন নম্বর। আর এ কারণে আগামী অর্থবছর থেকে বিআইএন সহজ করা হচ্ছে। কোনো ব্যবসায়ী চাইলেই অনলাইনের মাধ্যমে বিআইএন নম্বর নিতে পারবেন। আর নতুন ব্যবসায়ীদের ব্যবসা সহজ করতে প্যাকেজ ভ্যাট সিস্টেম চালু হচ্ছে। শুধু নতুন নিবন্ধনধারীরা এই সুবিধা পাবেন।

এনবিআর সূত্র জানায়, ভ্যাটের নতুন নিবন্ধন থেকে শুরু করে ভ্যাট অব্যাহতি, ভ্যাটের সহজীকরণসহ প্রায় দশ ধরনের বিষয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপন করবেন এনবিআরের ভ্যাট অনুবিভাগের কর্মকর্তারা। আগামী বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নতুন করে ভ্যাট অব্যাহতি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভ্যাটের হার বাড়ানোসহ ভ্যাটের সার্বিক বিষয়ে এরই মধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন এনবিআর কর্মকর্তারা। আর অর্থমন্ত্রীর অনুমতিসাপেক্ষে বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলেও নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। আর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেলে বিষয়গুলো চূড়ান্ত হবে বলেও জানিয়েছেন এনবিআর কর্মকর্তারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com