মঙ্গলবার, ২৮ Jul ২০২৬, ০৭:৫৬ অপরাহ্ন

পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন

বশির আহমেদ, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:: চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রায় ২৪০টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ। সংগঠনটির দাবি, এ সময়ে ৪৭টি অপহরণ, ১৬টি হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, নারী নির্যাতন এবং শিশু-কিশোরদের জোরপূর্বক সংঘাতমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মতো বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে বান্দরবান প্রেসক্লাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ আয়োজিত পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবর রহমান। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, অপহরণ, চাঁদাবাজি, হত্যা, ভূমি দখল এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের জননিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। অপহরণ ও মুক্তিপণের ঘটনা বেড়েছে এবং এর শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিক, চালক, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, বিভিন্ন আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠী ৭০ জনের বেশি শিশু ও তরুণকে জোরপূর্বক তাদের কর্মকাণ্ডে যুক্ত করেছে এবং অন্তত ১৪ জন নারী অপহরণ, প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

সংগঠনটির দাবি, অবৈধ চাঁদাবাজি বর্তমানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অন্যতম অর্থের উৎসে পরিণত হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত এক বছরে প্রায় ১ হাজার ৫২০টি চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে। কাঠ ব্যবসায়ী, ওষুধ কোম্পানি, পরিবেশক প্রতিষ্ঠান ও পরিবহন খাত থেকে বিভিন্ন অঙ্কের চাঁদা আদায়ের অভিযোগও তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনারও উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে রাঙ্গামাটিতে উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের মারধর করে চাঁদা দাবি, বান্দরবানে ট্রাক আটকে অর্থ আদায় এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ তুলে ধরা হয়। এছাড়া ভূমি দখল ও দখলচেষ্টার একাধিক অভিযোগ, সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্ত্র ও মাদক পাচার, সশস্ত্র প্রশিক্ষণ এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, কিছু আঞ্চলিক সংগঠন আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে সহানুভূতি ও সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র চোরাচালান ও সহিংস কর্মকাণ্ড আড়াল করতে রাষ্ট্র ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার কথাও বলা হয়। সংগঠনটি পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনের শাসন নিশ্চিতকরণ, নারী ও শিশুর সুরক্ষা, অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা, ভূমি বিরোধের ন্যায্য সমাধান এবং অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার দাবি জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, বান্দরবান জেলা নাগরিক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মো. নাছির উদ্দিন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. শাহজালাল, বান্দরবান জেলা ছাত্র পরিষদের সভাপতি মো. আসিফ ইকবাল এবং সাধারণ সম্পাদক মো. তানভির হোসেন ইমন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সকল নাগরিকের জীবন, সম্পদ, মানবাধিকার ও আইনের সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে তারা পার্বত্য অঞ্চলে সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং সকল নাগরিকের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com