শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৬ অপরাহ্ন
জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি॥ লালমনিরহাট জেলার ৪৩২টি পূজামন্ডপে সোমবার থেকে ঢাক, ঢোল, কাঁসার ঘণ্টা, শাঁখ আর উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠবে। বছর ঘুরে দেবীর আগমনি বার্তায় উৎসবের আমেজ এখন হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে। দেবীকে বরণ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকরা। লালমনিরহাট কালীবাড়ী, গোশালা বাজার, নয়ারহাট মন্দিরসহ বেশ কয়েকটি পূজামন্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রতিটি মন্ডপের প্রতিমা শিল্পীরাই প্রতিমায় মাটির কাজ শেষ করে তুলির আঁচড়ে প্রতিমার সৌন্দর্য বাড়ানোর কাজে ব্যস্ত কারিগররা। নিপুণ করে দেবীকে সাজাতে উৎসাহেরও কমতি নেই তাদের মধ্যে। ইতিমধ্যে পূজামন্ডপের চোখ ধাঁধানো মঞ্চ তৈরি ও নানা পরিকল্পনা, মন্দির প্রাঙ্গণকে দৃষ্টিনন্দন করে তোলার কাজ শেষ। মন্দিরের সামনের মাঠজুড়ে প্যান্ডেল স্থাপন ও মন্দিরের নানা রং বেরঙ্গের সাজ-সাজ রব চলছে। উৎসবকে ঘিরে লালমনিরহাট জেলার ৫ উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মাঝে দেখা দিয়েছে কর্মব্যস্থতা। আনন্দ বইছে কোমলমতি শিশুদের মাঝেও। দরজায় কড়া নাড়ছে শারদীয় দুর্গোৎসব আর একদিন পরেই উৎসবের আমেজ।
মহালয়ার মাধ্যমে জাঁকজমক আর বর্ণিল আয়োজনে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এ উৎসব। তবে প্রতিমা তৈরীর কারিগররা মজুরীতে খুশি নন। হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে তারা পান স্বল্প মজুরী যা দিয়ে সংসার চালাতে খেতে হয় হিমশিম। নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের মুল্য বেড়ে গেলেও তাদের মজুরী বাড়েনি। প্রতিমা তৈরীর কর্ম শেখে নিরুপায় কারিগররা বাধ্য হয়েই স্বল্প মজুরীতে এসব তৈরী করছেন। উৎসবকে ঘিরে শৈল্পিক আর দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্থ মৃৎশিল্পীরা। প্রতিমার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ধর্মাবলম্বী উৎসব। পারিশ্রমিক নয়, নজর দিচ্ছি দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা তৈরিতে, মাকে ওপরে রাখতে চাই।
ধরন অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিমা তৈরী করতে নিম্নে ১৫ হাজার থেকে অর্ধ লাখ টাকা ব্যয় হয়। এক একটি প্রতিমা তৈরীতে একজন কারিগরসহ ৫ সহযোগির ১৫ দিন সময় লাগে। প্রতিমা তৈরীর কাজে ব্যবহারিত সরঞ্জামাদির দাম বেশী হওয়ায় প্রতিমা তৈরীতে খুব একটা লাভ টেকে না।দুর্গাদেবীর সাথে থাকছে মহিষাসুর, গণেষ, কার্তিক, লক্ষী, স্বরসতী, সিংহ ও দুর্গার বাহন। এবার জেলায় ৪৩২টি পুজামন্ডবে ১৪ অক্টোবর ষষ্টীদেবীর বোধন আমন্ত্রনে অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে হিন্দু সনাতন ধর্মাবল্মীদের সবচেয়ে বড় শারদীয় দুর্গাউৎসব।
এদিকে পুজাকে সামনে রেখে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পুজা কমিটিদের নিয়ে মতবিনিময় করেছেন পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক। সভায় জানানো হয়, জেলার পুজামন্ডব গুলোতে পুলিশ, র্যাব, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি, আনসার ও ভিডিপি এবং স্থানীয় পুজা কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করবেন। জেলার ৪৩২টি পুজামন্ডবে আইনশৃংখলা রক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানালেন পুলিশের এ কর্মকর্তা
পূজা উদযাপন পরিষদের লালমনিরহাট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র্র বর্মন বলেন, গত বছর লালমনিরহাট সদর উপজেলায় ১৪৪টি, আদিতমারী উপজেলায় ১০৬টি, কালীগঞ্জ উপজেলায় ৮২টি, হাতীবান্ধা উপজেলায় ৭১টি ও পাটগ্রাম উপজেলায় ২৬টিসহ জেলায় মোট ৪২৯টি মন্ডপে দুর্গোৎসব উদযাপন হয়েছিল। এবারে তিনটি পুজা মন্ডপ বেড়ে ওই ৫টি উপজেলায় মোট ৪৩২টি মন্ডপে দুর্গোৎসব উদযাপন করা হচ্ছে। এ দিকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যেন পূজার প্রতিমা তৈরী থেকে শুরু করে মূল উৎসবের সকল আনুষ্ঠানিকতা সুষ্ঠুভাবে করতে পারে সেজন্য লালমনিরহাট জেলা পুলিশও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। এবারো নির্দিষ্ট স্থানে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা বিসর্জনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে।
লালমনিরহাট পূজা উদযাপন পরিষদ কমিটির উপদেষ্টা মাখন লাল দাস জানান, দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে আগামী ১৫ অক্টোবর দেবীর বোধন এর মধ্য দিয়ে। শুরু হবে ৬ দিনব্যাপী শারদীয় এ দুর্গা উৎসব। ১৫ অক্টোবর আমন্ত্রণ ও অধিবাস, ১৬ অক্টোবর দেবীর সপ্তমীবিহিত, ১৭ অক্টোবর দেবীর মহা অষ্টমীবিহিত, কুমারী পূজা, সন্ধি পূজা, ১৮ অক্টোবর দেবীর নবমীবিহিত এবং ১৯ অক্টোবর দশমীবিহিত পূজা, সমাপন ও দর্পন বিসর্জন এবং সন্ধ্যা আরত্রিকের পর প্রতিমা বির্সজনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ব বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা।
লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনএম নাসিরুদ্দিন জানান, প্রতিটি মন্ডপে আনসার ও গ্রাম পুলিশের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়াও সাদা পোশাকে পুলিশ, র্যাবের টহল এবং জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকছে প্রতিটি মন্ডপের নিরাপত্তায়।