বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫৯ অপরাহ্ন

দক্ষিণ কোরিয়ায় তীব্র তাপপ্রবাহে ১৬ জনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। মে মাস থেকে দেশটিতে দুই হাজারের বেশি মানুষ তাপজনিত অসুস্থতায় চিকিৎসা নিয়েছেন। পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে রাজধানী সিউলে প্রথমবারের মতো ‘চরম তাপপ্রবাহ সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

গত রোববার (২ আগস্ট) দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইয়াংসান শহরে সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা ১২২ বছরের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের ইতিহাসে দক্ষিণ কোরিয়ার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। বর্তমানে তাপপ্রবাহ পশ্চিম দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সিউলে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং পরবর্তী তিন দিন প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা মোকাবিলা এবং জনগণকে সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, চরম আবহাওয়া এখন নতুন বাস্তবতা হয়ে উঠছে, তাই দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে হবে।

সিউল কর্তৃপক্ষ তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রায় ৬৩ হাজার ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দা বিশেষ করে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের খোঁজখবর নিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। একই সঙ্গে শহরের তাপমাত্রা কমাতে ২০০টি পানিবাহী ট্রাক প্রতিদিন কয়েক দফায় প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার সড়কে পানি ছিটাচ্ছে। নগরজুড়ে বিভিন্ন স্থানে কৃত্রিম জলীয় কুয়াশা (মিস্ট) ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। উত্তর গিয়ংসাং প্রদেশে ড্রোনের মাধ্যমে লাউডস্পিকারে সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে। জনসমাগমপূর্ণ এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণে থার্মাল ক্যামেরাও ব্যবহার করা হচ্ছে।

সোমবার গোরিয়ং শহরে তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৪১ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। সিউলের গুরো জেলাতেও তাপমাত্রা প্রায় ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠে।

আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোরীয় উপদ্বীপের ওপর উচ্চচাপ বলয়, সরাসরি সূর্যের তাপ এবং পাহাড় অতিক্রম করে উষ্ণ ও শুষ্ক হয়ে আসা বাতাসের (ফোহেন প্রভাব) কারণে এই তীব্র তাপপ্রবাহ তৈরি হয়েছে। এছাড়া টাইফুন ‘ডলফিন’-এর গতিপথের ওপরও আগামী দিনের আবহাওয়া নির্ভর করবে। এটি দক্ষিণ কোরিয়ার কাছাকাছি এলে বৃষ্টি ও মেঘের কারণে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে, তবে অন্যদিকে গেলে গরম আরও বাড়তে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com