মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২:৫৪ অপরাহ্ন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনলাইন প্রতিবেদক:: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার-প্রধান হিসেবে ১০০ দিন পূর্ণ করলেন। এ সময়ে নির্বাচনি ইশতেহারের বেশ কিছু কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের মাসিক ভাতা, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ড্রেস বিতরণসহ আর্থিক প্রণোদনা, স্নাতক পর্যায়ে মেয়েদের বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ এবং খাল খননসহ বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন। আরও কিছু কর্মসূচি চলমান রয়েছে।
তবে এ সময়ে কিছু বিষয়ে সরকারকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে যা নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। বিশেষ করে হামে শিশুদের মৃত্যু, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা না ফেরা, ঋণের চাপ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, সংসদে বিরোধী দলের কর্মসূচি ও উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতাসহ কমপক্ষে ১০টি ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার কতটুকু বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে পেরেছে, তা নিয়েও নানাভাবে মূল্যায়ন হচ্ছে।
যদিও সরকার-প্রধানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে তারা এই ১০০ দিনে প্রত্যাশার বাইরেও অনেক কাজ করতে পেরেছেন। সামনে আরও সফল হবেন।
গত ২৩ মে ময়মনসিংহে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ চালাচ্ছে। তবে একটি পক্ষ তা সহ্য করতে না পেরে নানা অপপ্রচার করছে। সেই শক্তিটি আইনের স্বাভাবিক গতি বাধাগ্রস্তের চেষ্টা এবং অরাজকতা তৈরি করছে। মূলত উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো বাধাগ্রস্ত করতেই এই ষড়যন্ত্র।
জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সরকার ১০০ দিনে উল্লেখ করার মতো তেমন কিছু দেখাতে পারেনি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সেক্টরের অবস্থা আগের মতোই আছে। জাতীয় সক্ষমতার বিকাশ নেই। আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও ভয়াবহ আকারে ধর্ষণ বেড়েছে। শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতেও তেমন অগ্রগতি নেই। এই দুই সেক্টরেও আরও পর্যালোচনা দরকার। তবে কিছু বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। সেগুলোর বাস্তবায়ন করতে হয়তো তারা আরও সময় চাইতে পারে।
দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারকে যেসব সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো:
জ্বালানি থেকে সংকটের শুরু
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ ঘিরে হরমুজ প্রণালিতে পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে শুরু হয় তীব্র জ্বালানি সংকট। বাংলাদেশেও এর ধাক্কা লাগে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তা কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে ছিল। তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হওয়ার পর এ সংকট আরও দৃশ্যমান হয়। কারণ এ সময় ইরান যুদ্ধের মাত্রা ছিল বেশি। এই সময়ে পেট্রোল পাম্পগুলোর সামনে যানবাহনের লম্বা লাইন দেখা যায়। শুরুতে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে না। শেষ পর্যন্ত কথা রাখতে পারেনি। গত ১৮ এপ্রিল বৈশ্বিক সংকট দেখিয়ে সব ধরনের জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে। জ্বালানি তেলের দামের প্রভাব পড়ে অন্যান্য ক্ষেত্রেও। সরকারের এই কঠিন মুহূর্তে পাশে দাঁড়িয়েছে বিরোধী দল। দুইপক্ষের যৌথ সম্মতিতে গত ২৩ এপ্রিল ১০ সদস্যের কমিটি গঠনের পর কিছুটা সমস্যা কাটলেও সম্প্রতি আবার সে সংকট দেখা যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
বিদ্যুৎ সেক্টরেও চাপ
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পরপরই বিদ্যুতের দাম বাড়াতে বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তাবে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের মাঝে উদ্বেগ আর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, এ বছরই জ্বালানি, পরিবহন ও শিল্পের কাঁচামালসহ বিভিন্ন খাতে খরচ বেড়েছে। এমন অবস্থায় বিদ্যুতের দাম বাড়ালে রুগ্ন হয়ে পড়বে অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান।
এদিকে খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম গড়ে ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি)।
তবে এই সময়ে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে গেলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের সমালোচনার মুখে পড়তে হবে সরকারকে। যেখানে গ্রামগঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত, সেখানে নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়টি সরকারকে কঠিনভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হচ্ছে।
হামে শিশুমৃত্যু বেড়েই চলছে
বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর সবচেয়ে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে হামে শিশুদের মৃত্যু। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ গত ২৪ মে’র হিসাব মতে ৭০ দিনে হামে মৃত্যু হয়েছে ৫২৮ শিশুর। সঠিক চিকিৎসার অভাব ও সমন্বয়হীনতার কারণে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর জন্য সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সরকারে পক্ষ থেকে দাবি করা হয়—সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার এ নিয়ে তেমন উদ্যোগ নিতে পারেনি। এটাকে দায় এড়ানোর প্রবণতা হিসেবে দেখছেন অনেকে।
অবশ্য গত ২ এপ্রিল স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানান, বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে ৯০ লাখ ডোজ হামের টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে সিরিঞ্জের যে সংকটের কথা জানা যাচ্ছিল, সেটিরও সমাধান করা হয়েছে।
এছাড়া হামসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় টিকা কেনার জন্য নতুন করে ছয়শত কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে এত কিছুর পরও শিশু মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে। এটিও সরকারকে ভাবিয়ে তুলেছে।
ঋণের চাপ
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সর্বশেষ ‘আর্টিকেল ফোর কনসালটেশন রিপোর্ট’ অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ ১৮৮ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার। যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪১ শতাংশের সমান। আগের অর্থবছরে এই হার ৩৯ শতাংশ ছিল বলে জানা গেছে।
অন্যতম বড় ঋণদাতা সংস্থা আইএমএফ তাদের ঋণ স্থায়িত্ব বিশ্লেষণে বাংলাদেশকে ‘কম ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশ থেকে ‘মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের তালিকায় স্থান দিয়েছে। ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি, জিডিপির তুলনায় ঋণ পরিশোধের চাপ, রফতানি আয় ও রাজস্ব আদায়ের দুর্বল অবস্থার ভিত্তিতেই এই মূল্যায়ন করা হয়েছে। তবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য এই ঋণ পরিশোধের চাপ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। সরকার এখন তাদের প্রথম বাজেট প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সামনে কী হতে পারে, তা নিয়েও শঙ্কার কথা তুলছেন কেউ কেউ।
শৃঙ্খলা ফিরছে না ব্যাংকিং সেক্টরে
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই দেশের ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতি নিয়ে নানা আলোচনা ছিল। অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠে বিভিন্ন নেতার বিরুদ্ধে। নিয়মবহির্ভূতভাবে সরকারের পছন্দের লোকদের শীর্ষ পদে বসানো ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। তবে এ প্রবণতা বর্তমান সরকারের সময়ও বিরাজমান বলে অনেকে মনে করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ১২ দিনের মাথায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের জায়গায় একজন ব্যবসায়ীকে নিয়োগ, একীভূত ৫ ইসলামী ব্যাংকের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত না নিতে পারা ও পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে না আনতে পারাসহ নানা কারণে হতাশা দেখা যায় গ্রাহকদের মাঝে। এ বিষয়ে সরকার রোডম্যাপ না দিতে পারলে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি হতে পারে।
ভাবাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা
সরকারের গত ১০০ দিনে দেশে আইনশৃঙ্খলার দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। খুন ও ধর্ষণের ঘটনা থামছে না। তুচ্ছ ঘটনায় প্রতিপক্ষের ওপর হামলা ও মবের ঘটনা ঘটছে অহরহ। সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে ধর্ষণের ঘটনা। যার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী শিশুরা।
গত ২৪ মে স্বেচ্ছাসেবী মানবাধিকার সংগঠন ক্রাইম ডকুমেন্টেশন সেন্টার (ক্রিডো) প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে জানানো হয়— বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশব্যাপী প্রথম তিন মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৩৭ জন নারী। এর মধ্যে শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৯১ জন, যা মোট ধর্ষণের ৬৩ শতাংশ। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে লোমহর্ষক ছিল পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা।
একই দিন (২৪ মে) বিকালে সিলেটে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, এ বিষয়ে দ্বিমতের কিছু নেই। যে ঘটনা আপনার-আমার চোখের সামনে ঘটছে, তা তো মানতেই হবে।
তবে ভিন্ন কথা বলছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সম্প্রতি রাজারবাগে পুলিশের একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এ সরকারের সময়ে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। আরও উন্নত করতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে।
শিক্ষাঙ্গন নিয়ে চিন্তার ভাঁজ
বিগত দেড় বছর দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো মোটামুটি শান্ত ছিল। তবে গত ২১ এপ্রিল চট্টগ্রাম সিটি কলেজের দেয়ালে গ্রাফিতি অঙ্কন নিয়ে বিতর্ক থেকে সহিংসতায় জড়িয়ে পরে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির। এর জেরে ঢাকা, জগন্নাথ, জাহাঙ্গীরনগর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রায় প্রতিটি সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এসব ঘটনায় ধারালো অস্ত্রেরও ব্যবহার করা হয়। আহত হন অনেক শিক্ষার্থী।
সর্বশেষ গত ১৭ মে গাজীপুরে অবস্থিত ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে আহত হন ১৫ জন। এ ঘটনায় ছাত্রদলকে দায়ী করেন শিক্ষার্থীদের একাংশ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্থিতিশীলতা নিয়েও সরকার চিন্তিত বলে জানা গেছে।
আলোচিত মামলার নিষ্পত্তি নিয়ে প্রত্যাশা
তারেক রহমানের দায়িত্ব নেওয়ার আগে সংগঠিত বেশ কয়েকটি আলোচিত মামলার বিচার নিয়ে নতুন প্রত্যাশার তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি, সোহাগী জাহান তনু, মুনিয়া ও ত্বকী হত্যার বিচারে সরকার কতটুকু আন্তরিক সে বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে।
যানজট নিরসন, ফুটপাত দখলমুক্ত করা ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি
মানুষের চলাচল স্বাভাবিক করতে সরকার শুরুতেই নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্য গুলিস্তানসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দফা অভিযান চালানো হয়। কিন্তু অভিযোগ ওঠে—একটি পক্ষ আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে আবার তাদের বসিয়ে দিচ্ছে। অপরদিকে এআই ক্যামেরা বসানোর কারণে রাজধানীর দুই-একটি সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে এলেও যানজট আগের মতোই আছে। আর দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া নিয়েও সাধারণ মানুষের মাঝে এক ধরনের নাভিশ্বাস তৈরি হয়েছে।
চোখ রাঙাচ্ছে দুই রাজনৈতিক শক্তি
সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াত ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে নিয়ে দুই ধরনের সংকট মনে করছে সরকার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক নেতা জানান, তারেক রহমান জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ও ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও বিরোধী দল মাঠ গরম করতে চায়।
অপরদিকে সম্প্রতি শেখ হাসিনার দেশে আসার ঘোষণা ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের তৎপরতা নিয়েও সরকার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন বলে জানা গেছে। তবে তাদের চোখরাঙানি বা ষড়যন্ত্র সরকার তেমন গুরুত্ব দিতে চায় না বলে বিভিন্ন সময় জানিয়েছেন সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা।
রাজনীতিবিদদের মূল্যায়ন
জানতে চাইলে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সরকার ১০০ দিনে মোটামুটি জনবান্ধব কিছু কাজ করেছে। সেগুলো নাইবা বললাম। তবে তাদের কিছু বিষয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জে পড়তে হয়েছে, সেটা স্বীকার করতে হবে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলার অবনতি, শিক্ষাঙ্গন ও ব্যাংকিং সেক্টরে অস্থিরতা, জ্বালানি সংকট ও হামে শিশুদের মৃত্যুর মিছিল থামাতে সরকার সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে পেরেছে কিনা, তা বিশ্লেষণের দাবি রাখে। এটাও ঠিক, এই কম সময়ে সরকার সবকিছু শৃঙ্খলায় নিয়ে আসবে—এমনটিও আশা করা ঠিক নয়। বরং আগামী দিনে তারা এসব বিষয় কীভাবে মোকাবিলা করতে পারে, সেটাই দেখার বিষয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, ১০০ দিনে একটি সরকারের ব্যাপারে মূল্যায়ন করা কঠিন। তবে এই সময় তাদের কর্মকাণ্ডে আগামী দিন কেমন চলবে, তার কিছুটা আভাস মিলেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি সেক্টরে অব্যবস্থাপনা, হামে শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে দায় দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা, খুন ও ধর্ষণ বৃদ্ধিসহ আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং ব্যাংকিং সেক্টরে দুর্নীতি ও লুটপাটকারীদের ফিরিয়ে আনার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আমরা মনে করি, এসব সংকট মোকাবিলায় সরকার ব্যর্থ। তবে সরকার চাইলে সংকট উত্তরণে বিরোধী দলসহ সবার সঙ্গে আলোচনা করে পথ বের করতে পারে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের এমপি সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, সরকারের ১০০ দিনে কিছু ক্ষেত্রে তাদের ব্যর্থতার চিত্র স্পষ্ট। বিশেষ করে ব্যাংকিং সেক্টরকে ধ্বংস করা হয়েছে। ৮৯ কোটি টাকা ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে বানানো হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি খুরশিদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। অপরদিকে জুলাই সনদ নিয়ে টালবাহানা করছে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে। সব মিলিয়ে সরকার চরমভাবে ব্যর্থ। তারপরও বলবো, সরকার চাইলে তাদের ভালো কাজকে সহযোগিতা করতে আমরা প্রস্তুত।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ১০০ দিনে সরকার প্রত্যাশার বাইরে অনেক কাজ করেছে। তবে সরকার নতুন আরও অনেক উদ্যোগ নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক। তারপরও সরকার সব কিছু ঢেলে সাজাবে বলে আমার বিশ্বাস।