শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৬ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
বিশ্ব রাজনীতিতে এক ভয়াবহ ভূ-রাজনৈতিক ভূমিকম্পের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। যে কোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে কয়েক দশকের পুরনো সউদী-আমেরিকা কৌশলগত মৈত্রী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত ও খামখেয়ালি সিদ্ধান্তে এখন চরম ক্ষোভে ফুঁসছেন সউদী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস)। পর্দার আড়ালে কি তবে বড় কোনো সংঘাতের প্রস্তুতি চলছে? এমন প্রশ্ন এখন বিশ্বজুড়ে।
ইরান নীতি ও নিরাপত্তাহীনতার আতঙ্ক
‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’র এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতি এবং যুদ্ধ পরিচালনার ধরন নিয়ে রিয়াদ এখন সম্পূর্ণ বীতশ্রদ্ধ। হোয়াইট হাউসের অদূরদর্শী পরিকল্পনা এবং উস্কানিমূলক বার্তা সউদী আরবকে এক চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার যে হুমকি ট্রাম্প দিয়েছেন, তাতে সউদী কর্মকর্তারা আতঙ্কিত। তাঁদের আশঙ্কা, এর পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে ইরান যদি আরবের তেল স্থাপনা বা পানি বিশুদ্ধকরণ প্রকল্পে হামলা চালায়, তবে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে।
সউদী আরব কি কেবলই ‘টাকা দেওয়ার মেশিন’?
সবচেয়ে বিস্ফোরক তথ্য হলো, ট্রাম্প চাইছেন সম্ভাব্য যুদ্ধের সমস্ত আর্থিক দায়ভার বহন করুক সউদী আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলো। অথচ যুদ্ধের রণকৌশল নির্ধারণে তাঁদের কোনো মতামতের তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প সউদী আরবকে অংশীদার নয়, বরং স্রেফ ‘পে-মাস্টার’ বা টাকা দেওয়ার মেশিন হিসেবে ব্যবহার করছেন।
ব্যক্তিগত অবমাননা ও এমবিএস-এর ক্ষোভ
শুধু কৌশলগত বিরোধই নয়, ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গাতেও দেখা দিয়েছে চরম ফাটল। ট্রাম্প বিভিন্ন সময় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সম্পর্কে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও অপেশাদার মন্তব্য করেছেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে এক বক্তব্যে বিশ্ব মিডিয়ার সামনে সউদী যুবরাজকে কটাক্ষ করে ট্রাম্প বলেন:
“সে আমার কাছে মাথা নত করেছে এবং সব সময় অনুগত থাকতে হবে।”
এমন অত্যন্ত নিচুমানের ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য রিয়াদের রাজপ্রাসাদে তীব্র ক্ষোভ ও অপমানের জন্ম দিয়েছে।
বিকল্প জোটের সন্ধানে রিয়াদ
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সউদী আরব এখন বুঝতে পারছে আমেরিকার ওপর আর অন্ধভাবে ভরসা করা সম্ভব নয়। যদি হরমুজ প্রণালী বা বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ হয়ে যায়, তবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও খাদ্যদ্রব্যের দাম আকাশচুম্বী হবে। এই ঝুঁকি এড়াতে সউদী আরব এখন রাশিয়া, চীন, তুরস্ক, মিশর এবং পাকিস্তানের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সাথে নতুন জোট গড়ার জোরালো চেষ্টা চালাচ্ছে।
উপসংহার:
ট্রাম্পের একগুঁয়েমি আর যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ধৈর্যচ্যুতি কি তবে নতুন কোনো বিশ্বযুদ্ধের মহড়া? ওয়াশিংটন থেকে রিয়াদ- স্নায়ুযুদ্ধ এখন তুঙ্গে। আগামী দিনগুলো বিশ্ব রাজনীতি ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে চলেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।