সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন

৪০ শতাংশ ভোট পেয়ে শক্তিশালী শক্তি হিসেবে উদয় হয়েছে জামায়াত জোট: ডা. শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ॥
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রায় ৫৪ শতাংশ ভোটের বিপরীতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে জামায়াত একটি শক্তিশালী জাতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।

ফলাফল ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা
জামায়াত আমির তার পোস্টে উল্লেখ করেন, নির্বাচনে বিএনপি জোট সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন অর্জন করায় আমরা এই ফলাফলকে স্বীকৃতি দিচ্ছি এবং দেশের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করছি। তবে জাতীয় ভোটের এই ফলাফল একটি গভীর ও জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়।

নির্বাচনী ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও আইনি পদক্ষেপ
বর্তমান ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ (সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত বিজয়ী) পদ্ধতির সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই ব্যবস্থায় লক্ষ লক্ষ ভোটারের মতামতের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না। তিনি জানান, ৫৩টি আসনে বিএনপি মাত্র কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছে। এর মধ্যে বেশ কিছু আসন বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনাধীন রয়েছে। জামায়াত এই আসনগুলোতে আইনি প্রক্রিয়ায় লড়াই চালিয়ে যাবে। এটি ফলাফল প্রত্যাখ্যান নয়, বরং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি প্রচেষ্টা।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবি
গণতন্ত্রের জন্য স্বচ্ছতা অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেখানেই ভোট গণনায় বিলম্ব বা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেখানেই জামায়াতের প্রতিনিধিরা আইনগতভাবে পুনর্গণনা ও প্রতিকারের চেষ্টা করছেন। জনগণের আস্থা ধরে রাখতে প্রতিটি ভোট সঠিকভাবে গণনা করা জরুরি।

জুলাই সনদ ও সংস্কারের ম্যান্ডেট
গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, জুলাই সনদ এবং গণভোটে ৪ কোটি ৮০ লাখের বেশি মানুষ সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন, যা মোট বৈধ ভোটের প্রায় ৬৮ শতাংশ। এটি দেশের আমূল পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট জাতীয় ম্যান্ডেট। নতুন সরকার এই ম্যান্ডেটকে সম্মান জানিয়ে সংযম ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, “সংস্কার কোনো স্লোগান নয়, এটি একটি আমানত।”

ইসি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিএনপির প্রতি আহ্বান
নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহিংসতা ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। একইসঙ্গে তিনি বিএনপির নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন সংবিধানের মধ্যে থেকে দেশ পরিচালনা করেন এবং আইন লঙ্ঘনকারী নিজস্ব কর্মীদের বিরুদ্ধেও কঠোর ও পক্ষপাতহীন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

পরিশেষে, জাতীয় এই মুহূর্তে গভীর রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও দায়িত্ববোধের প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও আইনানুগ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে শান্ত থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com