মঙ্গলবার, ০৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৪১ পূর্বাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত আন্তর্জাতিক ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। শুধু তিনিই নন-তার মন্ত্রিসভা, দলের কেন্দ্রীয় নেতারা, এমনকি তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও দেশ ছেড়ে ভারতে পালায়। এই রকম ব্যাপক দলীয় পতন, আতঙ্ক ও আত্মগোপন বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কখনও ঘটেনি। বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন। ইতিমধ্যেই মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাকে একাধিকবার ফেরতও চেয়েছে বাংলাদেশ।
এ প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন ভারতীয় মুসলিম রাজনীতিবিদ এবং অল ইন্ডিয়া মসলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তিনি বলেছেন, দিল্লিতে মোদির বোন সেজে যে শেখ হাসিনা বসে আছে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠান। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর চাপে এ বছর আইপিএলে খেলতে পারবেন না পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। কলকাতা নাইট রাইডার্স নিলামে কিনলেও তাকে বাদ দিয়েছে দলটি। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই এ কথা বলেন ওয়াইসি।
রোববার (৪ জানুয়ারি) এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, তারা (হিন্দুত্ববাদীরা) মহারাষ্ট্র ও মুম্বাইয়ের মানুষকে বলছে দেখো আমরা এক বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছি। আরে, আরেকজনকে ফেরত পাঠান যে দিল্লিতে মোদির বোন সেজে বসে আছে। আপনারা কি চান তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হোক? তাহলে স্লোগান তুলুন, নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার।
তিনি বলেন, মোদিজি শুনুন, আওয়াজ আসছে, তাকে ধরুন, বের করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠান। জালগাঁওয়ে এক মুসলিমকে হত্যার কথা তুলে ধরেন ওয়াইসি। তিনি বলেন, জলগাঁওয়ের যে সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে তাকে নিয়ে কেন আপনারা ক্ষুব্ধ হন না, মোদিজি, ফাদনাভিসজি?
ওয়াইসি বলেন, ২০১৪ সালে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম যে দাবিটি উঠেছিল, তা ছিল পুনেতে মোহসিন শেখের হত্যাকাণ্ডের বিচার। আবার জলগাঁওয়ে সুলেমান পাঠানকে তার নিজের বন্ধুরাই পিটিয়ে হত্যা করে শহীদ করে দিল। বাংলাদেশে যদি কোনো হিন্দু মারা যায়, আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। যারা মানুষ হত্যা করে, আমরা তাদের ‘জালিম’ বলি। জলগাঁওয়ে যারা সুলেমান পাঠানকে মেরেছে, তারাও জালিম। তাদেরও সমানভাবে নিন্দা করা উচিত। বাংলাদেশ হোক বা ভারত মানুষের জীবন তো জীবনই। একজন হিন্দুর জীবনের যেমন মূল্য আছে, একজন মুসলমানের জীবনেরও তেমনি মূল্য আছে। অথচ আজ সব বিজেপি নেতারা টিভিতে গলা ফাটাচ্ছেন যে ‘আমরা একজন (বাংলাদেশি) খেলোয়াড়কে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছি।’ আরে শুনুন, আপনারা কি সবাইকে বোকা বানাতে চান? স্রেফ একজন ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়া হয়েছে, আর তাতেই বিজেপি বলছে এটা নাকি ইতিহাসের এক বিশাল সাফল্য!
এখন শুনুন ভারতের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে ভারত ও মহারাষ্ট্রের আমার হিন্দু ভাই-বোনেরা আপনারা একজন ক্রিকেটারের চুক্তি বাতিল হওয়ায় মিষ্টি বিলি করছেন? তাহলে নরেন্দ্র মোদিকে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন, এই বছর মোদি বাংলাদেশকে ১২০ কোটি টাকা দিয়েছেন কি দেননি? আমাকে বলুন। ১২০ কোটি টাকা অনুদান ও সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারত থেকে বাংলাদেশে যাচ্ছে। আর শুনুন আমার হিন্দু ভাই-বোনেরা, গত ১০ বছরে মোদি বাংলাদেশকে কত টাকার ‘লেটার অফ ক্রেডিট’ দিয়েছেন? ৮ বিলিয়ন! ৮ বিলিয়ন ডলার! আর আপনারা গালি দেন আসাদউদ্দিন ওয়াইসিকে?
‘শুনুন, আমি কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে নই এবং ইনশাআল্লাহ কখনো হবও না। কিন্তু মজলুমের জন্য ইনসাফ চাওয়া যদি অপরাধ হয়, মোহসিন শেখের খুনিদের শাস্তি দাবি করা যদি অপরাধ হয়, জলগাঁওয়ে সুলেমান পাঠানকে যারা মারল তাদের বিচারের আওতায় আনা যদি অপরাধ হয় তবে খোদার কসম, আমি যতদিন বেঁচে থাকব এই ‘অপরাধ’ করে যাব। ওই ক্রিকেটারের ব্যাপারে আরও শুনুন তাকে কোনো একটা দল ১০ কোটি টাকায় কিনেছিল। অথচ আপনারা ২০২৫ সালে বাংলাদেশকে সাহায্য আর অনুদান বাবদ দিয়েছেন ১২০ কোটি টাকা। ভারত থেকে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে যাচ্ছে। গত ১০ বছরে মোদি সরকার বাংলাদেশকে ৮ বিলিয়ন ডলারের এলওসি দিয়েছে। ৮ বিলিয়ন! আর আপনারা ঘৃণা করেন মুসলমানদের?
আমি পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলেছিলাম যে, বাংলাদেশে আমাদের হিন্দু ভাই-বোনদের মন্দিরগুলো রক্ষা করা উচিত। আপনারা সেখানে টাকা দিচ্ছেন, আর এদিকে মহারাষ্ট্রের নির্বাচনের জন্য মুম্বাই আর মহারাষ্ট্রের মানুষকে বলছেন, দেখো, আমরা একজন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছি।’