রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০১ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
রাজধানীতে শিশুদের অসুস্থতায় মধ্যবিত্তের কাছে সাধারণত যে নামটি প্রথমে মনে আসে সেটি বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট, শিশু হাসপাতাল নামে যা পরিচিত। রাজধানীর শ্যামলীর কাছে শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত এই হাসপাতালে বর্তমানে হাম সংক্রমণ নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা উপচে পড়ায় মহাখালীতে অবস্থিত সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে (আইডিএইচ) ভর্তির জন্য ‘রেফার’ করা হচ্ছে।
হাসপাতালের বৈকালিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন এ তথ্য দেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে হাম প্রাদুর্ভাবের সংকট মোকাবিলায় পরপর দুটি ওয়ার্ড নির্ধারণ করা হয়। হাম সংক্রমণ নিয়ে আসা শিশুদের জন্য প্রথমে ১৮ শয্যার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত একটি ওয়ার্ড, পরে রোগীর চাপ বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ শয্যার আরেকটি ওয়ার্ড নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়া অন্যান্য ওয়ার্ড ও কেবিনে আরও ১৫ জন রোগী ভর্তি আছে বলেও জানান তিনি। সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন আরও বলেন, ‘হাম সংক্রামিত কোনো রোগীকে এখন আমরা আর ভর্তি করতেই নিতে পারছি না। রোগী এলে ওষুধ-পথ্য লিখে দিই। পরীক্ষার প্রয়োজন হলে তাও করিয়ে নিই। তবে ভর্তির প্রয়োজন হলে রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত আইডিএইচে রেফার করি।’
এদিকে দুই ওয়ার্ডে কর্মরত চিকিৎসাসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তাদের পর্যবেক্ষণও জানা গেছে। তারা বলছেন, এমন সংকটে গণমাধ্যামসহ সব মাধ্যমে সাধারণত সতর্কতামূলক পরামর্শ তুলে ধরা হয়, কিন্তু এবার তা নজরে পড়ছে না। বিশেষ করে বুকের দুধ পান করানোর গুরুত্বের বিষয়টি তুলে ধরা হচ্ছে না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে তারা বলেন, বাংলাদেশে হাম সংক্রমিত ৩৪ শতাংশেরই বয়স ৯ মাসের কম। কারণ এর আগে মায়ের দুধ পান করেই তাদের শরীরে সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে ওঠার কথা, যে কারণে ৯ মাস বয়স হলে এই টিকা দেওয়া হয়। অথচ ভর্তি রোগীর অনেকের মায়ের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা শিশুকে বুকের দুধ পান করাননি। তবে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছিলেন তারা। এ ছাড়া কোনো কোনো শিশু দুটি ডোজের মধ্যে একটি ডোজ নিয়েছে বলেও পর্যবেক্ষণে তুলে ধরেন কর্মরতরা।
প্রসঙ্গত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঢাকা কার্যালয়ের বরাতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে গত দুই বছরে শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের ক্ষেত্রে যে রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতি (ইমিউনিটি গ্যাপ) সৃষ্টি হয়েছে, বিদ্যমান হাম প্রাদুর্ভাবের এটিই প্রাথমিক কারণ। হামে আক্রান্ত শিশুদের পরিসংখ্যান তুলে ধরে সংস্থাটি বলছে, রোগীদের ৬৯ শতাংশের বয়স ২ বছরের নিচে। তাদের টিকাদানের ব্যবস্থা যথাযথ ছিল না।
হাম ও রুবেলা নির্মূলের লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ বেশ ভালো করছিল জানিয়ে সংস্থাটি পরিসংখ্যান দেয়। এতে প্রতি ১০ লাখ জনসংখ্যায় হামের সংক্রমণের হার তুলে ধরা হয়। পরিসংখ্যান অনুসারে এই হার ছিল ২০২২ সালে ১ দশমিক ৪১, ২০২৩ সালে ১ দশমিক ৬০, ২০২৪ সালে ১ দশমিক ৪৩ এবং ২০২৫ সালে শূন্য দশমিক ৭২। বর্তমানে সেই হার মাত্র ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ। অথচ ২০২৬ সালের মধ্যে দেশ থেকে হাম ও রুবেলা নির্মূল করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।