শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৫২ পূর্বাহ্ন
একুশের কণ্ঠ নিউজ ডেস্কঃ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১০ টায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর জানার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে ছাত্র জনতা।বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করছেন ছাত্র-জনতা।
এ সময় ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা-ঢাকা,’ ‘ভারতের আগ্রাসন, ভেঙে দাও-গুড়িয়ে দাও,’ ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ-জিন্দাবাদ’, ‘শহীদের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’, ‘আমরা সবাই হাদি হবো, গুলির মুখে কথা বলব’- প্রভূতি স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাদির মৃত্যু খবরে তৎক্ষনাত কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী শাহবাগে একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। সেখানে ক্রমেই বাড়ছে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা। এতে শাহবাগ এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে আমরা গভীর শোকাহত।” জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে প্রকাশিত শোকবার্তায় বলা হয়, মহান আল্লাহ যেন তাকে ক্ষমা করেন, তার প্রতি রহম করেন এবং শাহাদাতের মর্যাদা দিয়ে জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন। জামায়াত নেতারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
এদিকে, বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ওসমান হাদির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলের মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন স্বাক্ষরিত শোকবার্তায় বলা হয়, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র, গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটির অন্যতম সদস্য ও ঢাকা–৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির অকালপ্রয়াণে এনসিপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা গভীরভাবে শোকাহত।
শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তার পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। এর আগে ওসমান হাদির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ এবং ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে পৃথক পোস্টের মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগে অংশ নিতে গেলে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।