শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিনিধি: গ্রাম্য মেলায় নৌকা রাইডে উঠে স্কুল ছাত্রীকে উত্যক্ত করায় স্থানীয়দের হামলার শিকার হয় জামায়াত কর্মী দাবিদার আমির হোসেন (২৫)। গত মঙ্গলবার ৩ ফেব্সরুয়ারি সন্ধ্যায় ঢাকার নবাবগঞ্জের জয়কৃষ্ণপুর বামুনহাটি গ্রামের সিদ্ধা বাড়ীর মেলায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাকে নির্বাচনী ইস্যু করতে জামায়াত বিক্ষোভ মিছিল করে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার দাবি করে বলে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রীর মা।
বৃহষ্পতিবার ৫ ফেব্দুরুয়ারি পুরে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সিদ্ধা বাড়ি মেলায় আমির নামের যুবক ৯ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে শরীরে হাত দিয়ে মেলায় উত্যক্ত করে। এঘটনায় মেয়েটির ডাক চিৎকারে লোকজন এসে বিস্তারিত জেনে আমিরকে মারপিট করে। মেলার আয়োজকদের একজন স্থানীয় মুরুব্বী বাশি সিদ্ধা বলেন, ওই ছেলেটি বখাটে। এলাকায় তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। সে এর আগে মাদক নিয়েও গ্রেপ্তার হয়েছে। সে মেলায় একটি মেয়েক উত্যক্ত করে গায়ে হাত দেয়। এরপর উত্তেজিত জনতা তাকে মারপিট করে।
ওই ছাত্রীর মা বলেন, তাঁর মেয়েকে মেলার মধ্যে আমির নামের যুবক পিছন থেকে গায়ে হাত দিয়ে উত্যক্ত করে। বাধা দিলেও সে একাধিকবার এ ঘটনা ঘটায়। পরে মেয়ের চিৎকারে এলাকার লোকজন তাকে ধরে গণপিটুনি দেয়। এ ঘটনায় ছাত্রীর মা বাদি হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছে।
এদিকে ঘটনাকে মিথ্যা প্রমাণ করতে আমিরের স্ত্রী এলাকার ১০ জনকে আসামী করে আরো একটি মামলা করে। সেই মামলায় তিনি উল্লেখ করেছেন পূর্ব শত্রুতার জেরে তার স্বামীকে মারধর করা হয়েছে।
আহত আমিরের চাচা আইয়ুব খান বলেন, তাঁর ভাতিজা কোনো দল করে না। শুনেছি কোন মেয়েকে বিরক্ত করায় তাঁকে মারধর করে কিছু লোক। আহত হলে তাকে নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ঘোশাইল খালপাড়ে আমিরের বাড়িতে গিয়ে তার বাবা হান্নান খানের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তাঁকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। এসময় তার মুঠোফানটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য আমিরকে জামায়াত ইসলামীর কর্মী দাবি করে ঘটনার দিন গভীর রাতে ও পরের দিন বুধবার দুপুরে হামলার প্রতিবাদে নবাবগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল করে দলটির নেতাকর্মীরা। এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা জামায়াত ইসলামীর আমীর ইব্রাহিম খলিল বলেন, সে আমাদের দলের সাংগঠনিক কোনো সদস্য নয়, তবে নির্বাচনী কর্মী হিসেবে কাজ করছে। তিনি আরো দাবি করেন, নির্বাচনী প্রচারণায় গেল তাঁকে হামলা করা হয়।
এ ঘটনা নিয়ে দোহার ও নবাবগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানা মহলে বেশ আলোচনার জম্ম দিয়েছে। নবাবগঞ্জ থানার ওসি আনোয়ার আজাদ বলেন, স্কুল ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। এছাড়া আহত আমিরের স্ত্রী বাদী হয়ে ওই ছাত্রীর মামাসহ এলাকার ১০ জনের নামে আরো একটি মামলা করেছে। পুলিশ দুটি মামলাই গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে।