শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, একুশের কণ্ঠ:: সারাদেশের সাধারন মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে হাড়কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশার দাপটে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। উত্তরের হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা বেড়েছে, আর ঘন কুয়াশায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে এবং আগামী কয়েক দিন এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত কুয়াশার ঘনত্ব বেশি থাকায় সড়ক, নৌ ও আকাশপথে চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে বিঘ্ন। ঘন কুয়াশার কারণে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) দেশের বিভিন্ন নৌরুটে নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। এতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে ভোগান্তি বেড়েছে। শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ, দিনমজুর, শিশু ও বয়স্করা। শীতবস্ত্রের অভাবে অনেকেই খোলা আকাশের নিচে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে- ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ১১, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১১ দশমিক ৩, কুমিল্লা ও যশোরে ১১ দশমিক ৫, পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় ১১ দশমিক ৮, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও নীলফামারীর ডিমলায় ১২, কুষ্টিয়ার কুমারখালী ও নওগাঁর বদলগাছীতে ১২ দশমিক ২, ভোলা ১২ দশমিক ৪, নোয়াখালীর হাতিয়া, লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও পাবনার ঈশ্বরদীতে ১২ দশমিক ৫, চুয়াডাঙ্গায় ১২ দশমিক ৬, ফেনীতে ১২ দশমিক ৭ এবং নারায়ণগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, দিনাজপুর, সৈয়দপুর, পঞ্চগড় ও রাজশাহীতে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়াবিদদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রির নিচে নামলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ, ৬-৮ ডিগ্রির মধ্যে হলে মাঝারি এবং ৮-১০ ডিগ্রি হলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে রাতের তাপমাত্রা আরও ১–২ ডিগ্রি কমতে পারে। ফলে ভোর ও সকালের দিকে কুয়াশা আরও ঘন হবে এবং শীতের অনুভূতি বাড়বে। সোমবার মধ্যরাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত দেশের অনেক এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা থাকতে পারে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানার সই করা পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সোমবার দিন ও রাতে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। মঙ্গলবার রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং বুধবার দিনের তাপমাত্রাও কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। ফলে বছরের শেষ দিনগুলোতে শীতের প্রকোপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, জানুয়ারির শুরুতে তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হলেও শীতের দাপট পুরোপুরি কমবে না বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। তারা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এখন শীত কখনো হঠাৎ তীব্র হয়, আবার দীর্ঘ সময় ধরে কুয়াশাচ্ছন্ন অবস্থায় থাকে।
ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক ও নৌপথে চলাচলের সময় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএ। পাশাপাশি শীতজনিত ঝুঁকি এড়াতে শিশু, বৃদ্ধ ও ছিন্নমূল মানুষের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।