সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকান্দা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি॥
ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনে নির্বাচন-পরবর্তী উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওই আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও বিশিষ্ট আলেমে দীন মাওলানা শাহ মো. আকরাম আলী (ধলা হুজুর)। একইসঙ্গে তিনি সকল পক্ষকে কাইজা-দাঙ্গা ও প্রতিহিংসা পরিহার করে এলাকায় শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ বার্তায় তিনি সালথা ও নগরকান্দার সর্বস্তরের মানুষের প্রতি এই আহ্বান জানান।
বিজয়ীকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
বার্তায় মাওলানা আকরাম আলী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মরহুম জননেতা কে.এম. ওবায়দুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা হিসেবে শামা ওবায়েদ দল-মত নির্বিশেষে এলাকার মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা ও সার্বিক উন্নয়নে সচেষ্ট থাকবেন।
নিজের প্রাপ্ত ভোট ও জনসমর্থন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ধলা হুজুর বলেন, “বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত ‘রিকশা’ প্রতীকে আপনারা যে স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন দিয়েছেন, তাতে আমি অভিভূত। বিপুল এই ভোট প্রমাণ করে মানুষ ইনসাফের রাজনীতি চায়। মুমিনের জীবনে হতাশা নেই; মহান আল্লাহ আমাদের পরিশ্রম ও সৎ নিয়তকে বিফল করবেন না।”
সহিংসতা রোধে কড়া বার্তা
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সালথা ও নগরকান্দার বিভিন্ন গ্রামে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাড়িঘর ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমরা একই এলাকার মানুষ। নির্বাচন আজ আছে, কাল নেই; কিন্তু আমাদের সামাজিক সহাবস্থান ও ভ্রাতৃত্ব চিরস্থায়ী। প্রতিহিংসার রাজনীতি এলাকায় অশান্তিই ডেকে আনে। আসুন, সবাই মিলেমিশে মানবতার কল্যাণে কাজ করি।”
মাঠের চিত্র
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের পর থেকে সালথা ও নগরকান্দার বিভিন্ন স্থানে দু’পক্ষের মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
ধলা হুজুর তাঁর বার্তায় ত্যাগী নেতা-কর্মী, প্রবাসী ভোটার এবং বিশেষ করে ছাত্র ও যুব সমাজকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, মানুষের এই জাগরণই আগামী দিনের শক্তি। ফলাফল যাই হোক, গণমানুষের ভালোবাসাকে পুঁজি করে আগামীতে আরও সুসংগঠিতভাবে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করেন তিনি।
এলাকাবাসী আশা করছেন, সকল পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ ও প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপে দ্রুতই সালথা-নগরকান্দায় স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসবে।