শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: মিয়ানমারে ২০২১ সালে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশটির সেনাবাহিনী নোবেল বিজয়ী অং সান সু চির গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে। এর প্রায় পাঁচ বছর পর এই প্রথম দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় ভোটকেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং সূর্য ওঠার পর ভোটারদের তুলনামূলকভাবে নিয়মিত প্রবাহ দেখতে পাওয়া গেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশটির ৩৩০টি শহরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশে আজ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটির সামরিক বাহিনী এবং বিরোধী ও জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে গৃহযুদ্ধ চলছে।
মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুন থেকে আল জাজিরার টনি চেং জানিয়েছেন, এর অর্থ হলো দেশের কমপক্ষে ২০ শতাংশ মানুষ এই পর্যায়ে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সবথেকে বড় প্রশ্ন হলো শহরগুলোতে ভোটার উপস্থিতি কেমন হবে?
তিনি আরো বলেন, অধিকাংশ ভোটাররাই মধ্যবয়সী, আমরা খুব বেশি তরুণ দেখিনি। ব্যালটের দিকে তাকালে, খুব কম সংখ্যক বিকল্পই দেখা যায়। এই বিকল্পগুলোর মধ্যে বেশিভাগই সামরিক দল।
জাতিসঙ্ঘ, কিছু পশ্চিমা দেশ এবং মানবাধিকার গোষ্ঠীসহ সমালোচকরা এই নির্বাচনকে এমন একটি অনুশীলন হিসেবে উপহাস করেছেন যা অবাধ, সুষ্ঠু বা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাদের মতে, নির্বাচনে সামরিক বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে না।
২০২০ সালে সাধারণ নির্বাচনে ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার কয়েক মাস পর সামরিক বাহিনী অং সান সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করে। তিনি এখনো কারাবন্দী রয়েছেন এবং তার দল ভেঙে দেয়া হয়েছে।
সামরিক বাহিনীপন্থী ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আবির্ভূত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২১ সাল থেকে মিয়ানমার শাসনকারী সামরিক বাহিনী বলছে, এই ভোট জাতির জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে একটি নতুন দিক তৈরির সুযোগ।
এদিকে জান্তাবাহিনীর প্রধান মিন অং হ্লাইং ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনকে পুনর্মিলনের পথ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি দেশটির রাজধানী নেপিদোতে ভোটকেন্দ্র খোলার কিছুক্ষণ পরেই ভোট দেন।
ইয়াঙ্গুন শহরের কেন্দ্রস্থলে স্টেশনগুলো রাতভর ঘেরাও করে রাখা হয়েছিল, বাইরে নিরাপত্তা কর্মীরা মোতায়েন করা হয়েছিল এবং সশস্ত্র অফিসাররা মোড়ে পাহারা দিচ্ছিলেন। এএফপির হিসাব অনুযায়ী, প্রথম এক ঘণ্টায় দুটি কেন্দ্রে মাত্র ১০০ জন ভোট দিয়েছেন।
মো মো মিন্ট গত দুই মাস ধরে সামরিক বিমান হামলা থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি বলেছেন, এই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়া অসম্ভব। যখন এই জান্তাবাহিনী আমাদের জীবন ধ্বংস করে দিয়েছে, তখন আমরা কিভাবে তাদের পরিচালিত নির্বাচনকে সমর্থন করব?
সূত্র : আল জাজিরা