শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩৯ অপরাহ্ন
কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি:: এই এলাকায় কোন মাদক ধরলে আপনি বাধা দেন, মাদক ধরলেই বাধা দেন। আপনি (বিএনপি নেতা) কথা বইলেন না। এ সময় ওই বিএনপি নেতা উত্তেজিত হয়ে বলেন, “অসম্ভব অসম্ভব, শোনেন, শোনেন, ওয়েট”। খাড়ান, খাড়ান মিয়া। ওই আস্তে, শোনেন মিয়া, আপনি মাদক ধইরা টাকা লইয়া যান।
ঢাকার কেরানীগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডের মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে বিএনপি নেতার বাধার মুখে পড়ে ঢাকা জেলা দক্ষিণ গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল। এসময় ওই নেতার সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ওই নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
বহিষ্কৃত নেতা হলেন- খোরশেদ আলম জমিদার (৪৩)। তিনি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ছিলেন।
জানাগেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি নিপুণ রায় চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবুর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে খোরশেদ আলম জমিদারকে দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিএনপির নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা জেলা দক্ষিণ গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার তেঘরিয়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার ৩০৩ নম্বর আসামি আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হামিদকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হয়। এ সময় খোরশেদ আলম জমিদার ডিবি পুলিশের কাজে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তাঁর সাথে আভিযানিক দলের বাকবিতণ্ডতা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযানে অংশ নেওয়া ডিবি পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, আমি ওরে (আসামি) ধরছি। আমি আইডি কার্ড শো করছি, আমি ডিবি। তখন অনেক মহিলা মানুষও ছিল। তারপর আপনি এখানে এসে এমন করলেন। এর জবাবে খোরশেদ আলম জমিদার বলেন, সে (আসামি) আওয়ামী লীগ করে কিনা, তার নাম কমিটিতে আছে কিনা সেটা আগে জানবেন। কাগজ দেখাইবেন, তারপর ধরবেন। আপনি আন্দাজে এসে একটা লোকরে কেন ধরবেন? বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে খোরশেদ আলমকে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, আপনারা মাদক ধইরা টাকা লইয়া যান। আমার কাছে প্রমাণ আছে।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর সংগ্রাম করে ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়েছি। আমাদের নেতা-কর্মীরা মামলা, হামলা ও নির্যাতন সহ্য করেছে। খোরশেদ আলম জমিদারও জেল খেটেছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে বাধা দেওয়ার কারণে দলীয় সব পদ থেকে খোরশেদ আলম জমিদারকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিএনপি অন্যায়ের সঙ্গে কখনো আপোষ করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে যেই হোক, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।