শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক ও ডেস্ক রিপোর্ট ॥
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও চাকরিতে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক তালিকায় গডফাদাররা। মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন থেকে দেশকে রক্ষা করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে নতুন সরকার। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী ১৮০ দিনের একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এখন থেকে সরকারি-বেসরকারি চাকরি, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে ‘ডোপ টেস্ট’ বা মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এমনকি বিদেশগামী কর্মী এবং আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রেও এই নিয়ম কার্যকর হবে।
গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়ার পর গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে দ্রুত অ্যাকশনে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এরই মধ্যে ‘জৈব নমুনায় মাদকদ্রব্য শনাক্তকরণ (ডোপ টেস্ট) বিধিমালা’ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিধিমালায় যা আছে
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, মাদকাসক্ত শনাক্ত হওয়ার পর নির্ধারিত চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্টে ফল পজিটিভ এলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি চাকরির অযোগ্য বিবেচিত হবেন। এছাড়া সড়ক, নৌ ও আকাশপথের চালকদের ক্ষেত্রেও এই পরীক্ষা কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে।
তালিকায় প্রভাবশালীদের নাম
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) সূত্র জানায়, বিগত দিনে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংস্থাগুলো অসহায় ছিল। এবার খুচরা বিক্রেতা থেকে শুরু করে প্রভাবশালী ‘গডফাদারদের’ তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে। মাদক নির্মূলে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বরদাশত করা হবে না বলে মন্ত্রণালয় থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত
মাদকবিরোধী সংগঠন ‘মানস’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. অরূপ রতন চৌধুরী বলেন, “বিগত সরকার জিরো টলারেন্সের কথা বললেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি, ফলে মাদকাসক্তের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটিতে ঠেকেছে। ডোপ টেস্ট কার্যকর করতে হবে আকস্মিকভাবে, যাতে কেউ আগে থেকে সতর্ক হওয়ার সুযোগ না পায়।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “উচ্চশিক্ষায় ভর্তি ও চাকরিতে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা সরকারের সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। তবে এই কার্যক্রমকে সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে।”
প্রস্তুত ডিএনসি
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. হাসান মারুফ জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে। সেটি হাতে পেলেই দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান ও বিধিমালার প্রয়োগ শুরু হবে। ডোপ টেস্টের আইনি ভিত্তি তৈরি হওয়ায় মাদকের চাহিদা অনেকাংশে কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।