বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন

ভোট আগামীকাল: অনলাইনে তুঙ্গে ভয়ংকর ‘সাইবার যুদ্ধ’, মাঠ দখলে নামানো হয়েছে বট বাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক ও ডেস্ক রিপোর্ট ॥
মাঠের প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে গত রাতেই, কিন্তু নির্বাচনি উত্তাপ এখন আছড়ে পড়ছে স্ক্রিনে। আগামীকাল ভোট, আর এই শেষ মুহূর্তের সুযোগ নিতে ইন্টারনেটে শুরু হয়েছে এক ভয়াবহ ‘সাইবার যুদ্ধ’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে এখন গুজব আর অপতথ্যের জয়জয়কার। প্রার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে চলছে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও নোংরা চরিত্রহনন। একই সঙ্গে সাধারণ ভোটারদের মনে আতঙ্ক ঢুকিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত রাখার এক গভীর ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, যা ভোটের সামগ্রিক হারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নেপথ্যে সক্রিয় ‘বট বাহিনী’
সাইবার বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এবারের অপপ্রচারের মূল অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে সংগঠিত ‘বট বাহিনী’। এই বট বাহিনী মূলত স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার বা সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হাজার হাজার ভুয়া অ্যাকাউন্টের একটি নেটওয়ার্ক। এগুলো দেখতে রক্ত-মাংসের মানুষের অ্যাকাউন্টের মতো মনে হলেও আসলে নির্দিষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য প্রোগ্রাম করা। খুব অল্প সময়ের মধ্যে কোনো পোস্টে শত শত কমেন্ট, নির্দিষ্ট হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে কোনো তথ্যকে ভাইরাল করা এবং সন্দেহজনক সব অ্যাকাউন্ট থেকে গণহারে শেয়ার- এগুলোই প্রমাণ করে যে পেছনে একটি শক্তিশালী চক্র কলকাঠি নাড়ছে।

এআই ও এডিটিংয়ের কারসাজি
ইতোমধ্যেই বেশ কিছু ভয়ংকর ভুয়া কনটেন্ট জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

তারেক রহমানের ভুয়া ভিডিও: বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি ভিডিও ভাইরাল করা হয়েছে। সেখানে তাকে ভোটের বিনিময়ে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিতে দেখা যায়। এমনকি তার কন্যা জাইমা রহমানের নামে ভুয়া পেজ খুলে সেখানে দর্শকদের বিকাশ নম্বর দিতে বলা হয়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং পেজটিও নকল।

গণমাধ্যমের ভুয়া ফটোকার্ড: দেশের প্রথম সারির বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমের লোগো ব্যবহার করে অসংখ্য মিথ্যা তথ্য সম্বলিত ফটোকার্ড ছড়ানো হচ্ছে।

পুরোনো ছবির কারসাজি: রাজধানীর পূর্বাচলে ‘নৌকা নাই ভোটও নাই’ লেখা একটি গ্রাফিতির ছবি ভাইরাল হয়েছে, যা আদতে একটি পুরোনো ছবির এডিটেড সংস্করণ। মাত্র ২০ ঘণ্টায় এই পোস্টটি হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

ইন্টারনেট বন্ধের গুজব: ভোটের দিন ইন্টারনেট বন্ধ থাকবে- এমন একটি ভুয়া খবর টিকটকে ১২ লক্ষাধিক বার দেখা হয়েছে, যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোনো ঘোষণা আসেনি।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আরিফ মঈনুদ্দীন জানান, মাঠের প্রচারণা বন্ধ হওয়ার পর এখন অনলাইনে ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ চলছে। বট বাহিনীর মাধ্যমে ভোটারদের ভয় দেখানো বা জাল ফলাফল প্রচারের চেষ্টা হতে পারে। তার মতে, বাংলাদেশে ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকের মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি গুজব ছড়াচ্ছে। সরকার সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোর সাথে যোগাযোগ রাখলেও এর ফলাফল কতটা কার্যকর হবে, তা ভোটের পরেই স্পষ্ট হবে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, এই সাইবার যুদ্ধের প্রভাব থেকে বাঁচতে কেবল সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। প্রতিটি ভোটারকে হতে হবে সচেতন। যাচাই না করে কোনো তথ্য বিশ্বাস করা বা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকাই হতে পারে এই অপতৎপরতা রুখে দেওয়ার প্রধান হাতিয়ার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com