শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:১৫ পূর্বাহ্ন
জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট আন্তর্জাতিক ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: দক্ষিণ আমেরিকার তেলসমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি ও বিপণন ব্যবস্থা অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ। ঘোষণায় আরো বলা হয়, তেল বিক্রির অর্থ কীভাবে ব্যবহৃত হবে সেটাও যুক্তরাষ্ট্র নির্ধারণ করবে। খবর আল-জাজিরার।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর দেশটির তেল সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ জোড়ালো করছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) মার্কিন জ্বালানি বিভাগ জানায়, তারা বিশ্ববাজারে ভেনেজুয়েলার তেল ‘বাজারজাতকরণ শুরু করেছে’ এবং বিক্রির সব অর্থ ‘প্রথমে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ব্যাংকগুলোতে মার্কিন-নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
বিভাগটি আরো জানায়, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির এই অর্থ মার্কিন সরকারের বিবেচনার ভিত্তিতে আমেরিকান জনগণ ও ভেনেজুয়েলার জনগণের স্বার্থে ব্যয় করা হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই তেল বিক্রি অবিলম্বে শুরু হচ্ছে এবং প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। এটি অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে থাকবে।
এর কয়েক ঘণ্টা পর, ট্রাম্প নিজেই এই অর্থ কীভাবে খরচ হতে পারে সে বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ভেনেজুয়েলা তাদের তহবিল দিয়ে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য কিনতে সম্মত হয়েছে।
ট্রাম্প তার প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, আমাকে জানানো হয়েছে যে, ভেনেজুয়েলা আমাদের নতুন তেল চুক্তির মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে শুধুমাত্র আমেরিকায় তৈরি পণ্য কিনবে। তিনি আরো যোগ করেন, এই কেনাকাটার মধ্যে অন্যান্য জিনিসের পাশাপাশি থাকবে আমেরিকার কৃষি পণ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং ভেনেজুয়েলার বিদ্যুৎ গ্রিড ও জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি।
গত শনিবার ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার কয়েক দিন পরই এই ঘোষণাটি এলো। আইন বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা দেশটি ‘পরিচালনা’ করার এবং এর বিশাল তেলের মজুদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। ট্রাম্প মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেছেন, কারাকাস ওয়াশিংটনের কাছে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল হস্তান্তর করবে।
ইউরেশিয়া গ্রুপের ইরান ও জ্বালানি বিষয়ক সিনিয়র বিশ্লেষক গ্রেগরি ব্রু বলেন, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি নিয়ন্ত্রণের এই ঘোষণা ১৯৭০-এর দশকের আগের ইজারা ব্যবস্থার দিকে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ব্রু একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ব্যাখ্যা করেছেন যে, “ওই ব্যবস্থায় উৎপাদনকারী রাষ্ট্র তেলের মালিক হলেও পশ্চিমা কোম্পানিগুলো উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ পরিচালনা করে এবং শেষ পর্যন্ত লাভের সিংহভাগ নিজেদের কাছে রাখে।”
জাতিসংঘের একদল বিশেষজ্ঞও সতর্ক করে বলেছেন, ভেনেজুয়েলা ‘চালানো’ এবং এর তেলের মজুদ ব্যবহার করার বিষয়ে ট্রাম্প ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত তেলের মজুদ রয়েছে, সেগুলোকে সামরিক আগ্রাসন, বিদেশি দখলদারিত্ব বা সরকার পরিবর্তনের কৌশলকে বৈধ করার অজুহাতে ব্যবহার করা উচিত নয়।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান প্রোগ্রামের পরিচালক রেনাটা সেগুরা জানান, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি নিয়ন্ত্রণের মার্কিন পরিকল্পনার বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষ এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।
সেগুরা আল জাজিরাকে বলেন, আমাদের ধরে নিতে হবে যে হয় ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার এই শর্তগুলো মেনে নিয়েছে, অথবা তারা এগুলো মেনে নিতে বাধ্য হবে।
তবে তার মতে, ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী কী ভূমিকা পালন করবে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভেনেজুয়েলার সামরিক বাহিনী প্রচুর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতার অধিকারী এবং এমন একটি মুহূর্ত আসতে পারে যখন তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশেষ ব্যবস্থার সঙ্গে একমত না-ও হতে পারে।