বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ন

ভেনেজুয়েলায় অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে রদ্রিগেজের শপথ গ্রহন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: মার্কিন সামরিক অভিযানে ক্ষমতাচ্যুত ও আটক ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো যখন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আইনি লড়াই লড়ছেন, ঠিক তখনই তার একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী দেলসি রদ্রিগেজ ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। খবর বিবিসির।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানী কারাকাসে এক বিশেষ সংসদীয় অধিবেশনে তিনি এই শপথ গ্রহণ করেন। অধিবেশনে মাদুরোর মুক্তির দাবি জানানো হয়।

৫৬ বছর বয়সী রদ্রিগেজ ২০১৮ সাল থেকে ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে গত শনিবার রাতে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে আটক করার ঘটনাকে ‘অপহরণ’ হিসেবে অভিহিত করে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শপথ গ্রহণের দুই ঘণ্টা আগে নিউ ইয়র্কের একটি আদালত কক্ষে নাটকীয় দৃশ্যের অবতারণা হয়। সেখানে মাদুরো মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদের চারটি অভিযোগে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে জোর দিয়ে বলেন যে, “তিনি এখনও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট।”

এদিকে, জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। তবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের বৃহত্তম তেল সম্পদ কোনো ‘অবৈধ নেতা’ বা ‘বিচার থেকে পলাতক’ ব্যক্তির হাতে ছেড়ে দেওয়া যায় না। সোমবার ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ একটি জরুরি বৈঠক আয়োজন করে। ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল মনকাদা বলেন, তার দেশ কোনো আইনি ন্যায্যতা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের ‘অবৈধ সশস্ত্র হামলার’ লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এই হামলাকে সমর্থন করে মাদুরোকে একজন ‘অবৈধ নামধারী প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি আরো যোগ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে গ্রেপ্তার করতে একটি ‘সুনির্দিষ্ট আইন প্রয়োগকারী অভিযান’ চালিয়েছে। মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদ ষড়যন্ত্র, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র এবং মেশিনগান ও ধ্বংসাত্মক সরঞ্জাম রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

সোমবার রাতে নিউ ইয়র্কের আদালতে মাদুরো নিজেকে নির্দোষ দাবি করে জানান, তাকে অপহরণ করা হয়েছে। ৩০ মিনিটের শুনানিতে মাদুরো বলেন, আমি একজন ভদ্রলোক। আমি এখনও আমার দেশের প্রেসিডেন্ট।” ৯২ বছর বয়সী বিচারক আলভিন হেলারস্টাইন মাদুরোকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, “এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য ‘সঠিক সময় এবং স্থান’ আসবে।

ভেনেজুয়েলায় গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ঘোষণায় বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ভেনেজুয়েলা ‘পরিচালনা’ করবে। ট্রাম্প আরো জানান, মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো অবকাঠামো মেরামতের জন্য ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগ করবে এবং তেল বিক্রি করে অর্থ উপার্জন শুরু করবে।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি সত্ত্বেও, মাদুরোর মিত্ররা এখনও ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন। রদ্রিগেজ শপথ নেবেন তা নিশ্চিত হওয়ার পর গত রবিবার মার্কিন ম্যাগাজিন ‘দ্য আটলান্টিক’-এ দেওয়া মন্তব্যে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, রদ্রিগেজ যদি ‘যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা না করেন’ , তাহলে তাকে মাদুরোর চেয়েও ‘বড় মূল্য দিতে হতে পারে’।

মন্ত্রিসভার একটি বৈঠকে রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কিছুটা সহযোগিতার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, আমরা মার্কিন সরকারকে আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে যৌথ উন্নয়নের লক্ষ্যে সহযোগিতামূলক কর্মসূচিতে আমাদের সঙ্গে কাজ করার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

মঙ্গলবার রদ্রিগেজের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সমর্থন জানাতে হাজার হাজার ভেনেজুয়েলাবাসী ফেডারেল লেজিসলেটিভ প্যালেসের বাইরে জড়ো হন। শপথ নেওয়ার পর রদ্রিগেজ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে বলেন, তিনি ‘ব্যথিত হৃদয়ে’ প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিচ্ছেন কারণ ‘অবৈধ সামরিক আগ্রাসন’ জনগণের অনেক কষ্ট বাড়িয়েছে। তিনি দেশের শান্তি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন।

অধিবেশনে মাদুরোর ছেলেও বক্তব্য রাখেন। তিনি তার বাবা-মায়ের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন যে, তারা অবশ্যই ভেনেজুয়েলায় ‘ফিরে আসবেন’। একইসঙ্গে তিনি রদ্রিগেজের প্রতি তার ‘নিঃশর্ত সমর্থন’ ব্যক্ত করেন। মাদুরোর মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৭ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com