শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩২ অপরাহ্ন
আবুল বাশার শেখ, ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:: ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা, হুমকি ও নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় ভালুকা পৌর এলাকার ‘হরিণ’ প্রতীকের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম।
সংবাদ সম্মেলনে মোর্শেদ আলম জানান, তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘হরিণ’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত ২২ জানুয়ারি থেকে তার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকেই ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর কর্মী-সমর্থকরা তার কর্মী-সমর্থকদের ওপর ধারাবাহিকভাবে হামলা চালাচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, উপজেলার মল্লিকবাড়ী ইউনিয়নের নয়নপুর এলাকায় তার নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। এ ছাড়া ৪নং ধীতপুর ইউনিয়নের রান্দিয়া গ্রামে তার কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে আহত করা হয়। আহতদের ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। উথুরা ইউনিয়নের হাতিবের ভাঙার ভিটা এলাকা এবং রাজৈ ইউনিয়নের মাঠের ঘাট এলাকাতেও তার কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি দাবি করেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক আহত কর্মীকে জোরপূর্বক মিথ্যা জবানবন্দি দিতে বাধ্য করা হয় এবং পরে তাকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে তার কর্মী-সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে, ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে এবং প্রচারণার কাজে ব্যবহৃত মাইক ও অটোরিকশা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এতে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
মোর্শেদ আলম বলেন, এই পরিস্থিতিতে সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী উন্মুক্ত থাকলে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব হবে না।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হামলা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।