বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ন
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ নিজস্ব প্রতিবেদক, একুশের কণ্ঠ:: অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার বর্তমানে যে উত্তেজনা চলছে, তার কোনো প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়বে না।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারী) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
সাংবাদিকরা জানতে চান, সরকার যখন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বলছে, তখন মুস্তাফিজুরকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া এবং এর জেরে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ হওয়ার বিষয়টি ভবিষ্যতে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না। জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এ ঘটনায় অর্থনৈতিক বা সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি।’ তিনি বলেন, ‘আজকের ক্রয় কমিটির বৈঠকে খেলাধুলা নিয়ে একবারও আলোচনা হয়নি।
পাল্টা প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো যুক্তি ও বাস্তবতার ভিত্তিতেই নেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনার কারণে সরকারের অর্থনৈতিক কার্যক্রম বা ক্রয়ের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়বে না।
এটি শুধু অর্থ-বাণিজ্যের বিষয় নয়, বরং পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়—সাংবাদিকদের এমন মন্তব্যের জবাবে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চান না। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
নির্বাচনের দুই মাস আগে এমন ঘটনা রাজনৈতিক কি না এমন প্রশ্নে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ঘটনার প্রেক্ষাপট দেখতে হবে। শুরুটা বাংলাদেশ করেনি—এটা সবাইকে স্বীকার করতে হবে।
তিনি বলেন, খেলাধুলা অনেক সময় দেশের জন্য এক ধরনের কূটনৈতিক দূত বা ‘এম্বাসেডর’ হিসেবে কাজ করে। মুস্তাফিজুর রহমান একজন পরিচিত ও ভালো খেলোয়াড়। তাকে কোনো দয়া করে দলে নেওয়া হয়নি, যোগ্যতার ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছিল। এরপর হঠাৎ করে তাকে বাদ দেওয়া দুর্ভাগ্যজনক। পরবর্তী ঘটনাগুলোও অনাকাঙ্ক্ষিত। সব মিলিয়ে এটি দুই দেশের জন্যই ক্ষতিকর হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘খেলাধুলার সঙ্গে আবেগ জড়িয়ে গেছে।’ উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘হিটলারের সময়েও অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তখন বিশ্বজুড়ে বিরোধিতা থাকলেও মানুষ অংশ নিয়েছিল। তার মতে, দুই পক্ষ একটু বিবেচনা করে বিষয়টি সমাধান করবে। সরকার চায় না রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক কোনো ক্ষেত্রেই সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হোক।
এ ছাড়া এনবিআর দুই ভাগ করার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এটি করা সম্ভব হয়নি। তবে সব প্রস্তুতি শেষ। ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদেই এটি বাস্তবায়ন হবে বলে জানান তিনি।