সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০২:৪১ অপরাহ্ন
চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ
অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দ্রুত নগরায়ণ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের ফলে চট্টগ্রামের ৮০ শতাংশ ভবন ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। সেই সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি অপ্রতুল হওয়ায় ভূমিকম্পে লাখো মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। সব মিলিয়ে বড় মাত্রার ভূমিকম্পে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম মৃত্যুপুরীতে পরিণত হতে পারে।
জানা গেছে, বারবার ভূমিকম্পে চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফায়ার সার্ভিস বলছে, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পগুলোতে চট্টগ্রামে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভূমিকম্পে বেশ কিছু ভবন কমবেশি হেলে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বড় মাত্রার ভূমিকম্পে চট্টগ্রামে ক্ষতির মাত্রা অনেক হতে পারে। এ কারণে যে কোনো ভবন নির্মাণের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা জরুরি। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) তথ্য অনুযায়ী, নগরীতে ৩ লাখ ৮২ হাজার ১১১টি ভবন আছে। এর মধ্যে এক তলা ভবন ২ লাখ ৭৮ হাজার ৫টি, ২-৫ তলা ভবন ৯০ হাজার ৪৪৪টি। ৬-১০ তলা ভবন ১৩ হাজার ১৩৫, ১০ তলার ওপরে ভবন ৫২৭টি, ২০ তলার বেশি ভবন আছে ১০টি। বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে এসব ভবনের মধ্যে ৭০-৮০ শতাংশ বিভিন্ন মাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ। সিডিএ-এর সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস জানিয়েছেন, ৭-৮ মাত্রার ভূমিকম্পে চট্টগ্রাম মৃত্যুপুরীতে পরিণত হতে পারে। নকশা অনুমোদনের সময় আটটি স্তরের অনুমোদন নেওয়া হলেও নির্মাণের সময় ৭০-৮০ শতাংশ ভবন নির্মাণে এসব বিষয় মানা হয়নি। এ কারণে এসব ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। তবে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১০০টি ভবনের তালিকা তৈরি করে সিটি করপোরেশনকে হস্তান্তর করা হয়েছিল। ভবনগুলোর বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা।
অধিক ঝুঁকিতে বাণিজ্যিক ও সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান : ২০১১ সালে সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রামে ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে করা এক জরিপে নগর এলাকায় এক তলার ঊর্ধ্বে ১ লাখ ৮২ হাজার ভবনের মধ্যে ৯২ শতাংশ বা ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৫০টি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়। ওই জরিপে চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক, শিক্ষা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রাম উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় এখানকার ভবনে ব্যবহৃত উপকরণ অন্য এলাকার তুলনায় দ্রুত ক্ষয়প্রবণ। এ ছাড়া কর্ণফুলী নদী ও বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী এলাকায় বেলে মাটির ওপর গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, বেসরকারি ও বাণিজ্যিক স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। এসব স্থাপনা ভূমিকম্পের মারাত্মক ঝুঁকিতে আছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ যে কেনো মুহূর্তে ঘটতে পারে। এ কারণে ভবন নির্মাণের সময় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হয়। পাশাপাশি ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি রাখতে হয়। অগ্রিম প্রস্তুতি ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পারে। কিন্তু ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রস্তুতি একেবারেই অপ্রতুল। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভূমিকম্পের কারণে চট্টগ্রাম যে মাত্রায় ঝুঁকিতে আছে সেরকম প্রস্তুতি নেই।