শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:১০ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, একুশের কণ্ঠ:: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মারা গেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন)।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
বিএনপি মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে সোমবার রাত ২টায় ডা. এ জেড জাহিদ হোসেন গণমাধ্যমে বলেন, বেগম জিয়া অত্যন্ত সংকটময় সময় অতিক্রম করছেন। কাজেই এই অবস্থায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে আমরা শুধু এটুকুই বলতে পারি, তার সুস্থতার জন্য মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে দোয়া করবেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে গত ২৩ নভেম্বর বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৭ নভেম্বর তার ফুসফুসে সংক্রমণ দেখা দিলে কেবিন থেকে ‘ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে’ স্থানান্তর করা হয়। ৮০ বছর বয়সি খালেদা জিয়া বিভিন্ন জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। এর মধ্যে রয়েছে লিভার সংক্রান্ত জটিলতা, কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, আথ্রাইটিস ও ইনফেকশনজনিত সমস্যা।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তিনি তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান।
১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় ইস্কান্দার মজুমদার ও তৈয়বা মজুমদারের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর পিতা দেশভাগের পর ভারতের জলপাইগুড়ি থেকে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যান। তাদের আদি বাড়ি ফেনী জেলায়। তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে অধ্যয়ন করেন।
১৯৬০ সালে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তিনি ফার্স্ট লেডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং এ সময় বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সফরে অংশ নেন। তিনি যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার ও নেদারল্যান্ডসের রানী জুলিয়ানাসহ বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
১৯৮১ সালে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি তিনি বিএনপিতে সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দেন। পরের বছর ১৯৮৩ সালের মার্চে ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।
রাজনৈতিক জীবনে বেগম খালেদা জিয়া একটি ব্যতিক্রমী রেকর্ডের অধিকারী। তিনি কখনো কোনো সংসদীয় আসনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে তিনি পাঁচটি ভিন্ন আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তিনটি আসনেই বিজয় লাভ করেন। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা ও অবদান ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।