বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সমিতির (মুমুপকস) সদস্যবৃন্দের বক্তব্য ॥
সম্প্রতি ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি’ এবং দৈনিক কালবেলা’সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিজয় রাকিন সিটির ফ্ল্যাট ও জমি বরাদ্দ নিয়ে প্রচারিত প্রতিবেদনের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়েছে। উক্ত প্রতিবেদনে পরিবেশিত তথ্যসমূহ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জনমনে বিভ্রান্তি দূর করতে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সমিতি (মুমুপকস)-এর পক্ষ থেকে প্রকৃত সত্য নিচে তুলে ধরা হলো:

১. বরাদ্দ ও মালিকানা সংক্রান্ত প্রকৃত তথ্য
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, সরকার কর্তৃক বীনামূল্যে ভূমিহীন ও অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৮৭০টি ফ্ল্যাট বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছিল, যা ৫১৮ জন অবৈধভাবে দখল করেছেন। এটি সম্পূর্ণ অসত্য। প্রকৃতপক্ষে, এটি কোনো সরকারি অনুদানের প্রকল্প নয়; বরং জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃক মিরপুরস্থ মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সমিতির নামে ১৬.০২ একর জমি বরাদ্দের নির্ধারিত মুল্যর সকল বিধিবিধান প্রতিফলিত করে (সমাজসেবা অধিদপ্তরের অনুমোদিত সমিতির গঠনতন্র অনুসারে সমিতিতে অন্তর্ভুক্ত ৪১০ জন সদস্যদের মাঝে জনপ্রতি ১,৭৫ কাটার প্লট সমিতি কর্তৃক বরাদ্দ করা হলে প্লট বরাদ্দকৃত সদস্যের জমাকৃত সমিতির তহবিলের অর্থ) সমিতির নামের জমির সমূদয় মুল্য,জমির লীজ দলিল রেজিষ্ট্রেশন ফি,ভুমি উন্নয়ন কর,জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের বার্ষিক খাজনা, ৩০-৪০ ফিট গভীর হওয়ায় জমিতে মাটি ভরাট,জমির রুপান্তর ফি বাবদ সর্বমোট ২৮,৬৮,৮০,৪১৫/- (আটাইশ কোটি আটষট্টি লক্ষ আশি হাজার চারশত পনেরো টাকা) পরিশোধ করার পর জতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দায় মুক্ত ছাড়পত্র, বাস্তব দখল,লীজ দলিল ও নাম জারী সমিতির নামে সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে সমিতির জমিতে আধুনিক আবাসিক নগরী গড়ে তোলার লক্ষে সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে ও প্লট গ্রহীতা সদস্যর রেজিস্টার্ড আমমোক্তার ক্ষমতা বলে বহুতল ভবন নির্মানের জন্য নির্মাণ প্রতিষ্ঠাণ রাকিন ডেভলপমেন্ট কোম্পানি (বিডি) লিমিটেডর সাথে সমিতি নির্মাণ চুক্তি সম্পন্ন করে। নির্মাণ চুক্তি মতে জমির মালিক প্রতিষ্ঠান সমিতির অংশের ৮৭০ টি ফ্ল্যাট, ১.৭৫ কাঠা জমির বিপরীতে নির্মাণ চুক্তির রেশিও অনুযায়ী প্রতি সদস্যর নামে দুইটি ফ্ল্যাট (১৮৭২ ও ১৫৫৩ বর্গফুট) বরাদ্ধ, রেজিষ্ট্রিকৃত বণ্টননামা দলিল সম্পাদন সহ জাতীয় গৃহায়ণ ও ভুমি অফিসের নামজারি এবং সিটিকর্পোরেশনের হোল্ডিং টেক্স হাল নাগাদ পরিশেধ সম্পন্নপূর্বক নিজে ও ভাড়াটিয়া ফ্ল্যাটে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। এখানে ভুয়া বা অবৈধ দখলের কোনো সুযোগ নেই।
২. সদস্য অন্তর্ভুক্তি ও আইনগত ভিত্তি
সমাজসেবা অধিদপ্তর ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) অনুমোদিত সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সমিতির সদস্য অন্তর্ভুক্তি মুমুপকস-এর সম্পূর্ণ নিজস্ব এখতিয়ার। সমিতির এই সদস্য সংক্রান্ত বিষয়টি দেশের সর্বোচ্চ আদালত মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের অ্যাপিলেট ডিভিশনের এক আদেশের বলে মীমাংসিত ও নিষ্পত্তিকৃত।
৩. জমি বরাদ্দ প্রকৃত ইতিহাস
১৯৯৪ সালে ২৯০ জন সদস্যের নামে ১৬.০২ একর জমি বরাদ্দের যে দাবি করা হয়েছে তা ভিত্তিহীন।

প্রকৃত তথ্য হলো:
* ১৯৯৭ সালে ‘মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সমিতি’ সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রেশন লাভ করে।
* পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে সমিতির অনুকুলে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ অন্যান্য সমিতির নামে জমি বরাদ্ধের ন্যায় ততকালীন বাজার মূল্যে ১৬.০২ একর জমি বরাদ্দ লীজ দলিল সম্পাদন করে দেওয়া হয়।
* উল্লেখ্য যে, উক্ত জমির বিনামূল্যে সরকার কর্তৃক ভূমিহীন, অসহায় ও বেকার মুক্তিযোদ্ধাদের নামে বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে যা সম্পুর্ণ ভীত্তিহীণ ও বিভ্রান্তকর এবং এসংক্রান্ত কোনো শর্ত জমির বরাদ্ধ পত্রে কিংবা লীজ দলিলে উল্লেখ নেই।
৪. নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের সহিত সমিতির নির্মাণ চুক্তি সংক্রান্ত বিভ্রান্তকর তথ্য পরিবেশণ
নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের সহিত নির্মাণ চুক্তি সমিতি কর্তৃক যথাযথ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। অথচ স্বার্থান্বেষী কুচক্র মহলটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের সাথে সমিতির চুক্তি অবৈধ ও অনৈতিক দাবি করে বিভিন্ন দপ্তরের তথ্য পরিবেশণ করে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছে এবং এভাবে মিথ্য ও বানোয়াট তথ্য পরিবেশণ করে নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের অংশের ফ্ল্যাট ক্রেতাদের ফ্ল্যাটের মালিকানা অবৈধ আখ্যায়িত করে ফ্ল্যাট দখলের ষড়যন্ত্রও লিপ্ত রয়েছে,যা সম্পুর্ন বে আইনি।
৫. বর্তমান ষড়যন্ত্র ও আইনি পরিস্থিতি
সমিতির (মুমুপকস) সদস্য এবং বিজয় রাকিন সিটির ফ্ল্যাট মালিক নয় এমন কিছু বহিরাগত স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি বিজয় রাকিন সিটির বৈধ মালিকদের ফ্ল্যাট জোরপূর্বক বেদখল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-এর মাধ্যমে বৈধ মালিকদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করছে। ষড়যন্ত্রকারীরা ফ্ল্যাট বাজেয়াপ্ত করা এবং বৈধ মালিকদের উচ্ছেদের হুমকি দিচ্ছে, যা চরম বেআইনি।
৬. আর্থিক অনিয়ম ও আইনি পদক্ষেপ
উক্ত দুষ্ট চক্র মুমুপকস-এর কমিটির নির্দোষ সদস্যবৃন্দ এবং প্রায় ৪০ জন ফ্ল্যাট মালিকগণের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করে দুষ্টচক্রটি জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সমিতিতে মোঃ আবু মাসুদকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রশাসক নিয়োগ করিয়ে দুষ্টচক্রটির যুগসাজশে প্রশাসক সমিতির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হতে ১,১৭,৫০,০০০/- (এক কোটি ১৭ লক্ষ ৫০ হাজার) টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়াও আরও ১,৫২,০০,০০০/- (এক কোটি বায়ান্ন লক্ষ) টাকা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করলেও সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের তড়িৎ পদক্ষেপের কারণে উক্ত টাকা ফেরত পাওয়া গেছে এবং সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর তাকে অপসারণ করে সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর বাদী হয়ে প্রশাসকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা দায়ের করেছে, যা বর্তমানে চলমান। অধিকন্তু, বর্তমান প্রশাসক জনাব আবু মোঃ ইশতিয়াক আজিজও সমিতির তহবিল থেকে ৬৮ লক্ষ টাকার বেশি পরিমাণ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে তছরুপ করেছেন; তিনি মাত্র ১ মাসেই ৫৬ লক্ষ টাকা উত্তোলন করেছেন। অথচ পূর্ববর্তী সমিতির সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত কমিটি মাত্র মাসিক ২৫,০০০/- টাকা ব্যয়ে ২ জন কর্মচারী দিয়ে সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।
৭. সমিতির ভুয়া কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা
জনৈক খ ম আমির আলী নিজেকে সমিতির সিইও পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক বিবৃতি ও বক্তব্য দিচ্ছে। যা আমদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সমিতিতে সিইও পদে জনৈক আমির আলী কখনোই ছিলেন না এবং বর্তমানেও নেই। সমিতির গঠনতন্ত্রে সিইও পদবী নেই। যা প্রতারণার শামিল।

উপসংহার: এসব অপতৎপরতা বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার একটি অপচেষ্টা মাত্র। আমরা এই মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এসকল ষড়যন্ত্রকারী, প্রতারক ও অর্থ আত্মসাৎ কারীর বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com