সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৪১ অপরাহ্ন

নির্বাচনের মাঠ থেকে ছিটকে পড়লেন দেড়শো প্রার্থী

ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক:: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একইদিনে অনুষ্ঠিত হবে গণভোটও। জাতীয় এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এরপর শুরু হয় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নানান যাচাই-বাছাই, আপিল-শুনানি পর্ব। আর এই আপিল-শুনানি পর্বের শেষেই নির্বাচনের মাঠ থেকে ছিটকে পড়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী ১৫০ জন প্রার্থী।

এই ১৫০ জন প্রার্থীর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী রয়েছেন চারজন, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন চারজন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন, জাতীয় পার্টির (জাপা ও জেপি) ২১ জন, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ২২ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ৯৮ জন।

নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মনোনয়নপত্রে তথ্যগত অসঙ্গতি, ঋণখেলাপি হওয়া, মামলাজনিত জটিলতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকা এবং ১ শতাংশ ভোটার সমর্থন না থাকার মতো নানা কারণে এসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তবে ইসির এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

কোনও কোনও প্রার্থী উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলেও জানান। কয়েকটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠে ইসির নিরপেক্ষতা নিয়েও। যদিও ইসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে।

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, আপনারা অনেকেই হয়তো আমাদের সমালোচনা করতে পারেন। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানিতে কোনও পক্ষপাত হয়নি। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের আমরা ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের বিষয়টিও ছেড়ে দিয়েছি। কারণ আমরা চাই, সবার অংশগ্রহণে একটা সুন্দর নির্বাচন হোক। উই ওয়ান্ট দি ইলেকশন টু বি পার্টিসিপেট।

সিইসি বলেন, আই ক্যান এনশিউর। আমার ও আমার টিমের পক্ষ থেকে কোনও ধরনের পক্ষপাতিত্ব করে জাজমেন্ট দেইনি।

কত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা পড়েছিল

ইসি সূত্রে জানা যায়, সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল ৩ হাজার ৪০৬টি, মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল ২ হাজার ৫৬৮টি। এগুলো বাছাইয়ে বৈধ হয়েছে ১ হাজার ৮৪২টি। আর বাতিল হয়েছে ৭২৩টি মনোনয়নপত্র। সবচেয়ে বেশি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ঢাকা অঞ্চলে, ১৩৩টি। এবং সবচেয়ে কম বাতিল হয়েছে বরিশাল অঞ্চলে, ৩১টি।

আরও জানা যায়, ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত বাছাইয়ে ৭২৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিলের পর বৈধ প্রার্থী ছিল ১ হাজার ৮৪২ জন। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়ে। এরপর গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) থেকে টানা নয় দিনে আপিল করে ৪১৪ জন প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় এখন পর্যন্ত বৈধ প্রার্থী দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৫৭ জন।

নির্বাচনের মাঠ থেকে বিদায় নিয়েছে কোন দলের কতজন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের লড়াইয়ে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিল দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে নির্বাচন কমিশনের বিধি-বিধানের বেড়া ছেদ করে সবাই আসতে পারেনি নির্বাচনের মাঠে। বিদায় নিতে হয়েছে ১৫০ জন প্রার্থীকে। তাদের মধ্যে বড় রাজনৈতিক দল ও ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনীত প্রার্থীরাও রয়েছেন। তবে সবচেয়ে বেশি আছেন— যারা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের মাঠে অংশ নিতে চেয়েছিলেন।

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি শেষে জানা যায়, বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী রয়েছেন চারজন। তারা হলেন— কুমিল্লা-৪ আসনের মুঞ্জুরুল আহসান মুন্সী, যশোর-৪ আসনের টিএস আইয়ুব, চট্টগ্রাম-২ আসনের সারোয়ার আলমগীর এবং কুমিল্লা-১০ আসনের আবদুল গফুর ভুঁইয়া।

বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন চারজন। তারা হলেন— সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের মো. শফিকুল ইসলাম, ময়মনসিংহ-৬ আসনের মো. সাইফুল ইসলাম, কুমিল্লা-১০ আসনের মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া, যশোর-১ আসনের মো. মফিকুল হাসান তৃপ্তি।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী রয়েছেন একজন। চট্টগ্রাম-৯ আসনের ডা. এ কে এম ফজলুল হক।

জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনীত প্রার্থী রয়েছেন ১৪ জন। তারা হলেন- গাজীপুর-২ আসনের মোহাম্মদ ইস্রাফিল মিয়া, নোয়াখালীর-৬ আসনের নাছিম উদ্দিন, কুমিল্লা-৮ আসনের নুরুল ইসলাম মিলন, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের মো. মুজিবুল হক, সাতক্ষীরা-২ আসনের শেখ মাতলুব হোসেন লিয়ন, নীলফামারী-৩ আসনের মো. রোহান চৌধুরী, সাতক্ষীরা-৪ আসনের হুসেইন মুহাম্মদ মায়াজ, ঝালকাঠি-২ আসনের এম এ কুদ্দুস খান, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মানিকগঞ্জ-২ আসনের এস এম আব্দুল মান্নান, রংপুর-১ আসনের মো. মঞ্জুম আলী, ঢাকা-৩ আসনের মো. ফারুক, ঢাকা-১১ আসনের এস এম আমিনুল হক সেলিম ও গাইবান্ধা-১ আসনের মো. মাফুজুল হক সরদার।

আর জাতীয় পার্টির (জেপি) মনোনীত প্রার্থী রয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন— জামালপুর-২ আসনের মোস্তফা আল মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৫ আসনের আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৩ আসনের এম এ ছালাম, চট্টগ্রাম-১২ আসনের সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, জামালপুর-২ আসনের মো. আনোয়ার হোসেন, খুলনা-৬ আসনের মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও শেরপুর-২ আসনের মো. রফিকুল ইসলাম (বেলাল)।

এছাড়া অন্যান্য ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনীত প্রার্থীদেরও বিদায় নিতে হয়েছে। এসব দল থেকে প্রার্থিতা হারিয়েছেন মোট ২২ জন। তারা হলেন— কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. নজরুল ইসলাম, শরীয়তপুর-২ আসনে গণঅধিকার পরিষদের আখতারুজ্জামান সম্রাট, রংপুর-৬ আসনে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মো. কামরুজ্জামান, ঢাকা-১৩ আসনে আমজনতা দলের রাজু আহমেদ, গোপালগঞ্জ-১ আসনে গণঅধিকার পরিষদে মো. কাবির মিয়া, ময়মনসিংহ-১ আসনে বাংলাদেশ লেবার পার্টির মুহাম্মদ রাশেদুল হক, চট্টগ্রাম-১৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের মো. মুজিবুর রহমান চৌ., নারায়ণগঞ্জ-২ ও ঢাকা ১০ আসনের বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. আবু হানিফ হৃদয় এবং সিরাজগঞ্জ-২ আসনে জনতার দলের মো. সোহেল রানা।

এছাড়াও, নোয়াখালী-৫ আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের মো. কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী, চট্টগ্রাম-১২ আসনে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) এম. এয়াকুব আলী, নরসিংদী-২ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আলহাজ ইঞ্জিনিয়ার মুহসীন আহমেদ, চট্টগ্রাম-১১ আসনে গণঅধিকার পরিষদের মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন, নাটোর-২ আসনে এনপিপির জি এ এ মুবিন, ঢাকা-৮ নিউক্লিয়াস পার্টি বাংলাদেশের মোহাম্মদ সিদ্দিক হোসাইন, ঝিনাইদহ-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আলম বিশ্বাস, ময়মনসিংহ-৯ আসনে খেলাফত মজলিসের শামসুল ইসলাম, নরসিংদী-৪ আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের কাজী শরিফুল ইসলাম, বাগেরহাট-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুজিবর রহমান শামীম, নাটোর-১ আসনে খেলাফত মজলিসের মো. আজাবুল হক, পাবনা-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের মো. হাসানুল ইসলাম এবং ঢাকা-১৭ আসনের এবি পার্টির ফারাহ নাজ সাত্তার।

এদিকে প্রার্থিতা ফিরে পেতে উচ্চ আদালতেও যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কোনও কোনও রাজনৈতিক দলের। জাপা মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, যাদের আপিল খারিজ হয়েছে তাদের জন্য আমরা উচ্চ আদালতে রিট করবো।

৯৮ স্বতন্ত্র প্রার্থী হারিয়েছেন প্রার্থিতা

প্রার্থীতা হারানো ১৫০ জনের মধ্যে ৯৮ জনই স্বতন্ত্রভাবে লড়তে চেয়েছিলেন ভোটের মাঠে। তারা হলেন-

ঢাকা-৩ ও ৭ আসনে রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা-১২ আসনে ফাহমিদা মজিদ, সাতক্ষীরা-৩ আসনে এম. এ আসফউদ্দৌলা খান, ঢাকা-১৭ আসনে মাসুদ খান, শেরপুর-২ আসনে মো. ইলিয়াস খান, সিলেট-৩ আসনে মইনুল বাকর, জামালপুর-৫ আসনে মাসুদ ইব্রাহিম, ঢাকা-৩ আসনে মো. নাজিম উদ্দিন, ময়মনসিংহ-৮ আসনে মো. আজিজুর রহমান ভুঞা, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে মো. ওয়াসেক ইকবাল খান মজলিস, ঢাকা-১০ আসনে মো. আশেক উল্লাহ, বরগুনা-২ আসনে মো. শামিম, সিলেট-২ আসনে মোহাম্মদ আব্দুস শহীদ, ঢাকা-১২ আসনে মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন, ঢাকা-৬ আসনে মো. হুসাইনুজ্জামান, চট্টগ্রাম-১০ আসনে মো. ওমর ইউসুফ খান, টাঙ্গাইল-৮ আসনে আবুল ফজল মাহমুদুল হক, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে মো. মাজফুজুর রহমান খালেদ, চাঁদপুর-৫ আসনে মো. জাকির হোসেন প্রধানীয়া, ঢাকা-৫ আসনে মো. রাশেদুল ইসলাম ও যশোর-৫ আসনে মো. কামরুজ্জামান।

এছাড়াও পটুয়াখালী-৩ আসনে মিজানুর রহমান বাবু, ভোলা-২ আসনে মহিব্যুল্লাহ খোকন, ফরিদপুর-৪ আসনে আব্দুল কাদের মিয়া, রাজশাহী-৫ আসনে মো. রায়হান কাওসার, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে মো. কাজী জাহাঙ্গীর, কুমিল্লা-৯ আসনে মোহাম্মদ মফিজুর রহমান, ময়মনসিংহ-২ আসনে মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক, ফেনী-২ আসনে এস এম হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, ঢাকা-১৯ আসনে মো. হারুনুর রশিদ, মাগুরা-১ আসনে কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া, নাটোর-৩ আসনে মো. দেলোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল-৮ আসনে এস এম হাবিবুর রহমান, চাঁদপুর-৪ আসনে মোজাম্মেল, চট্টগ্রাম-৯ আসনে মিলন কান্তি শর্মা, ফরিদপুর-১ আসনে শেখ আব্দুর রহমান জিকো, খুলনা-১ আসনে অচিন্ত্য কুমার মন্ডল, ফেনী-৩ আসনে মো. মাহবুবুল হক রিপন, গোপালগঞ্জ-৩ আসনে গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, নড়াইল-১ আসনে মো. সাকিব হাসান, রাজশাহী-১ আসনে মো. আল আসাদ, মানিকগঞ্জ-১ আসনে মো. আব্দুল আলী বেপারী, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে মো. হুমায়ুন কবির ও ঢাকা-১৮ আসনে এস এম এম শহীদুজ্জামান কোরেশী।

নওগাঁ-১ আসনে মো. সোহরাব হাসান, কিশোরগঞ্জ-১ আসনে মো. খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, ফেনী-১ আসনে নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া, নড়াইল-১ আসনে মো. সাকিব হাসান, খুলনা-৩ আসনে আবুল হাসনাত সিদ্দিক, জয়পুরহাট-১ আসনে মো. জালাল উদ্দিন মন্ডল, নড়াইল-১ আসনে গাজী মাহাবুয়াউর রহমান, পিরোজপুর-২ আসনে মাহমুদ হোসেন, সাতক্ষীরা-১ আসনে এস এম মুজিবর রহমান, জামালপুর-৫ আসনে হোছনেয়ারা বেগম, হবিগঞ্জ-৪ আসনে সালেহ আহমদ সাজন, রাজশাহী-৫ আসনে মো. জুলফার নাঈম মোস্তফা, গোপালগঞ্জ-২ আসনে সিপন ভূঁইয়া, ময়মনসিংহ-৬ আসনে তানভীর আহমেদ রানা, রাজশাহী-২ ও ৩ আসনে মো. শাহাবুদ্দিন, মাদারীপুর-১ আসনে মো. ইমরান হাসান, ফেনী-২ আসনে মো. ইসমাইল, চাঁদপুর-২ আসনে তানভীর হুদা, চট্টগ্রাম-৩ আসনে মো. মোয়াহেদুল মাওলা, ভোলা-৩ আসনে মো. রহমাত উল্ল্যাহ, ভোলা-৪ আসনে মুহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম, ভোলা-১ আসনে রফিজুল হোসেন, ঢাকা-১১ আসনে কোহিনুর আক্তার বীথি, মেহেরপুর-১ আসনে মোহা. মাহবুব রহমান, যশোর-২ আসনে মো. মেহেদী হাসান, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া-১ আসনে মো. হাবিবুর রহমান ও রাজবাড়ী-২ আসনে সোহেল মোল্লা।

এছাড়াও রয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, যশোর-১ আসনে মো. শাহজাহান আলী গোলদার, ফরিদপুর-৩ আসনে মোরশেদুল ইসলাম আসিফ, রাজশাহী-৩ আসনে মোসা. হাবিবা বেগম, শেরপুর-১ আসনে মো. ইলিয়াস উদ্দিন, ভোলা-২ মিজ তাসলিমা বেগম, রংপুর-৪ আসনে মো. জয়নুল আবেদিন, খুলনা-৪ আসনে এস এম আজমল হোসেন, গোপালগঞ্জ-২ আসনে রনী মোল্লা, খুলনা-৬ আসনে মো. আছাদুল বিশ্বাস, নড়াইল-১ আসনে মো. উজ্জ্বল মোল্ল্যা, কুমিল্লা-১ আসনে আবু জায়েদ আল মাহমুদ, ঢাকা-১৮ আসনে মো. মহিউদ্দিন হাওলাদার, কক্সবাজার-৩ আসনে মো. ইলিয়াছ মিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে মুছা সিরাজী, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে মো. আলমগীর হোসেন, ঝালকাঠি-১ আসনে মো. মোস্তাফিজুর রহমান, নেত্রকোণা-১ আসনে মো. লুৎফুর রহমান (ডিপ্টি), টাঙ্গাইল-৬ আসনে মো. সাইফুর রহমান, সিরাজগঞ্জ-১ আসনে মো. আব্দুর সবুর, চট্টগ্রাম-৮ আসনে মো. আজাদ চৌধুরী, পটুয়াখালী-৩ আসনে এস এম ফজলুল হক, ফরিদপুর-১ আসনে মো. শাহাবুদ্দীন আহম্মদ, বরগুনা-২ আসনে মো. শামীম, ঢাকা-১৫ আসনে মো. তানজিল ইসলাম, ময়মনসিংহ-৯ আসনে প্রফেসর এ আর খান ও গোপালগঞ্জ-২ আসনে মশিউর রহমান।

প্রার্থী বাছাইয়ে যেদিকে নজর ছিল ইসির

প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঋণখেলাপি কেউ যেনও অংশ নিতে না পারে সেদিকে কঠোর হবে ইসি। পাশাপাশি অন্যান্য আইন-কানুনও মানতে হবে প্রার্থীদের।

ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, এবারের আপিল শুনানিতে রিটার্নিং কর্মকর্তারা বাছাইয়ের সময় আইনে নির্ধারিত নিয়ম-কানুন মানার বিষয়ে কোনও ঘাটতি রয়েছে কি-না সেটি দেখা হয়েছে। এর ফলে হলফনামায় সই না থাকা, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থিত থেকে সই না করা, ‍ঋণখেলাপি থাকা, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ না করা, আয়কর বিবরণী না দেওয়া, মনোনয়নপত্র পূরণে অসম্পূর্ণতা রাখা, দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা, মামলা সংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ না করা, তথ্য গোপন করা, জামানতকারী হিসেবে ঋণখেলাপি না থাকা, সরকারি চাকরি থেকে অবসরের তিন বছর অতিবাহিত না হওয়া, দলের প্রত্যয়ন না দেওয়া ও ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক সই না থাকার বিষয়গুলো দেখা হয়েছে।

এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক সই জটিলতার কারণেই বেশিরভাগ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রার্থিতা হারাতে হয়েছে। এছাড়া ঋণখেলাপি কিংবা দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণেও স্বতন্ত্রসহ রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের আপিল নামঞ্জুর করা হয়েছে। তবে প্রতিবারের চেয়ে এবার অনেকটাই নমনীয়ভাবে বিষয়গুলো দেখা হয়েছে বলে জানান ইসির কর্মকর্তারা।

বাকি রয়েছে দুটি আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত

সীমানা জটিলতার কারণে পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচনি কার্যক্রম স্থগিত করে ইসি। পরে গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাবনা-১ ও ২ আসনের তফসিল নতুন করে ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন।

সেই নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, এই দুই আসনে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৮ জানুয়ারি। মনোনয়নপত্র বাছাই ১৯ জানুয়ারি, আপিল দায়ের ২০ থেকে ২৪ জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি ২৫ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৬ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ ২৭ জানুয়ারি। ভোটগ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি।

উল্লেখ্য, সংশোধিত তফসিলের নির্বাচন সময়সূচি অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com