বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ন
শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি॥
শ্রীনগর উপজেলার তন্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, যুবলীগের সভাপতি জাকির হোসেন এর ক্ষমতার দাপটের কাছে জিম্মি হয়ে পরেছে ওই ইউনিয়নের শতাধিক পরিবার। ব্রাক্ষ্মন খোলা গ্রামের ওই চেয়ারম্যান নিজের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নিজের বাড়িতে রাস্তা নেওয়ার জন্য ওই এলাকার শতাধিক পরিবারকে জিম্মি করে তাদের ফসলী জমি, বসত বাড়ি সহ সরকারী স্কুলের মাটি ভেকু দিয়ে কেটে নেওয়াসহ কয়েকশত গাছ কেটে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ করেন, জাকির হোসেন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তন্তর ইউনিয়নটাকে রামরাজত্বে পরিনত করেছেন। তার চোখে শুধু প্রতিশোধের নেশা। প্রতিশোধ নিতে নিজের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বিগত চেয়ারম্যানের আমলে নির্মিত প্রায় ৬৬ লাখ টাকা ব্যায়ে ইট বিছানো দেড় কিলোমিটার রাস্তাটির সব ইট তুলে ফেলা হয়েছে। একাজে তিনি উপজেলা এলজিইডির কোন অনুমুতি বা সরকারী বরাদ্দ না নিয়ে বরং স্থানীয়দের কাছ থেকে জোর পূর্বক প্রায় ৩০ লাখ টাকা চাঁদা তুলেছেন। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে বা মাটি কাটতে বাধা দিলে রাতের আধারে ওই এলাকার ত্রাস চেয়ারম্যানের বিয়াই জেলা যুবদলের নেতা নাসির উদ্দিনের টর্চার সেলে আটকে রেখে রাত ভর নির্যাতন চালানো হয় বলে এলাকাবাসি জানান।
গতকাল রবিবার সকালে সরজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভেকু দিয়ে মাটি কাটার কারনে একেক জনের বাড়ির সামনে বড় বড় গর্ত। এছাড়া জমিতে ছোট ড্রেজার বসিয়ে অনেকটা পুকুর বানানো হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাটি কাটা হয়েছে নির্বিচারে। মানুষের ভেতরে বোবা কান্নাসহ চাপা কষ্ট বিরাজ করছে। কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেননা। ষাটোর্ধ কয়েকজনকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তথ্য জানতে চাইলে তারা কোন কথা না বলে চোখ মুছতে মুছতে বাড়ির ভিতরে চলে যান।
ব্রাক্ষ্মন খোলা মালিবাগান এলাকা থেকে দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১২ ফুট প্রসস্থ রাস্তাটি উপজেলার এলজিইডির তালিকা ভুক্ত এবং তাদের অর্থায়নে ইট বিছানো হয়। কিন্তু ইউপি নির্বাচনে যারা তার বিরোধিতা করেছে তাদের বাড়ি ঘর কেটে কোন কোন স্থানে রাস্তাটি ২৫ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত করা হয়েছে। মাটির যোগান দেওয়া হয়েছে অন্যদের জমিতে ড্রেজার বসিয়ে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, মনে হচ্ছে আমরা এরশাদ শিকদারের এলাকায় বসবাস করছি।
ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আকবর জানান, ১০ দিন আগে এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে বিষয়টি লিখিত ভাবে জানিয়েছিল। তাতে আরো উল্টো ফল হয়েছে ।
উপজেলা এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী আঃ মান্নান বলেন, এলজিইডির রাস্তার ইট তুলে নেওয়া অন্যায়। আমার অফিসের লোক পাঠিয়ে যে তথ্য পেয়েছি তাতে জাকির চেয়ারম্যান যা করছে তা নিয়ম বহির্ভূত।
তন্তর ইউপি চেয়ারম্যান টর্চার সেলের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, জনগনের সুবিধার জন্যই রাস্তা করা হচ্ছে। তবে অর্থের উৎস কোথায় পেলেন এমন প্রশ্নের তিনি কোন উত্তর দিতে পারেননি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলামের কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান জেলায় মিটিং চলছে তাই পরে কথা বলবো।