বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর বন্ধক রাখা স্বর্ণ বিক্রি করে দেয় জুয়েলারী ব্যবসায়ি রাজেশ সরকার। নির্দিষ্ট সময় শেষে গহনা ফেরত চাইলে মূলধন তিন লাখ টাকার পরিবর্তে সাড়ে ৪লাখ টাকা দাবি করে ওই স্বর্ণ দোকানী। পরে সেই টাকা নিয়ে হুমায়ন নামের গ্রাহক হাজির হলে তাঁকে মারপিট করে টাকা রেখে বিদায় করে দেয়। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বাগমারা বাজারে ২৬ ফেব্রুয়ারি এ ঘটনা ঘটেছে। আহত হুমায়ন নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছে। মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপার সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় উপজেলার বাহ্রা ইউনিয়নের বলমন্তচর গ্রামের বাসিন্দা ও বাগমারা বাজারের মুরগী ব্যবসায়ী মো. হুমায়ুন (৬০) বাদী হয়ে ওই দুই স্বর্ণ ব্যবসায়ীসহ তিনজনের নামে ও অজ্ঞাত আরও ৩/৪ জনকে আসামি করে নবাবগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন, বাগমারা বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী উপজেলা কলাকোপা ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামের সুশান্ত সরকারের ছেলে রাজেশ সরকার (২৮) ও উপজেলার বাহ্রা ইউনিয়নের বাহ্রা পশ্চিম পাড়া গ্রামের পরশমনির ছেলে রূপ কুমার (৩০)। এছাড়াও রূপের ছোট ভাই সবুজ মনিকে (২৮) এবং অজ্ঞাত আরও ৩/৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগের নথি থেকে জানা যায়, ব্যবসায়িক প্রয়োজনে হুমায়ুন ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি জুয়েলারি ব্যবসায়ী রাজেশের কাছে প্রায় সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণের গহনা বন্ধক রেখে সুদে ৩ লাখ টাকা ধার নেয়। একই বছর জুলাই মাসের ১৭ তারিখে হুমায়ুন রাজেশকে সুদসহ সাড়ে তিন লাখ টাকা দিয়ে বন্ধক রাখা গহনা ফেরত চাইলে রাজেশ জানায় আরেক ব্যবসায়ী রূপের কাছে জমা আছে। ৩/৪ দিন সময় লাগবে। পরে সেই গহনা ফেরত না দিয়ে কালক্ষেপন করতে থাকে।
ভুক্তভোগী হুমায়ুন বিষয়টি বাগমারা বাজার বণিক সমিতির কাছে বিচার চাইলে তারা কয়েকবার রাজেশ ও রূপের সঙ্গে বসে মিমাংসার চেষ্টা করে। একাধিকবার এটা নিয়ে কথা হয়। গত২৬ ফেব্রুয়ারি বাগমারা বাজার বণিক সমিতির সদস্যদের উপস্থিততে রাজেশ ও রূপ জানায়, স্বর্ণ তাঁতিবাজার থেকে কিনে এনে দিতে হবে। বর্তমানে স্বর্ণের দাম বেশি থাকায় হুমায়ুনকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা দিতে হবে।
হুমায়ুন এতে রাজি হলে সেদিন বিকেলেই সাড়ে ৪ লাখ টাকা নিয়ে রাজেশ ও রূপের সঙ্গে সিএনজি যোগে তাঁতিবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। টিকরপুর এলাকার এন মল্লিক তেলের পাম্পের পূর্ব পাশের ফাঁকা সড়কে আগে থেকে থেকে উৎ পেতে থাকা রূপের ছোট ভাই সবুজসহ অজ্ঞাত আরও ৩/৪ জন তাঁদের সিএনজির গতিরোধ করে সকলে মিলে হুমায়ুনকে মারধর করে। এসময় রূপ হুমায়ুনের সঙ্গে থাকা সাড়ে ৪ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
এ বিষয়ে কোনো আইনী সহায়তা গ্রহণ করা যাবে না মর্মে হুমায়ুনকে হুমকি ধামকি দেয় রাজেশ ও রুপ। হুমায়ুনকে অসুস্থ অবস্থায় নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়। এ বিষয়ে হুমায়ন বলেন, আমার সাথে প্রতারণা করেছে রাজেশ। আমি তাঁদের সঠিক বিচার চাই।
এঘটনায় স্বর্ন দোকানী রাজেশ বলেন, তাঁর কাছে স্বর্ণের গহনা বন্ধক রেখে হুমায়ুন তিন লাখ টাকা নিয়েছিলো। কয়েকমাস পরে সে টাকা দিয়ে স্বর্ণ ফেরত চায় হুমায়ুন। স্বর্ণ আমার মহাজন রূপের কাছে জমা দিয়েছিলাম। সে স্বর্ণ ফেরত দিতে তালবাহানা করে। পরে বাগমারা বাজার কমিটি আমাকে চাপ দিলে তাঁদের মাধ্যমে হুমায়ুনকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা কিস্তি তুলে পরিশোধ করি। এ টাকা নিয়ে হুমায়ুন ভাই ও তার এলাকার মজিদ ভাই স্বর্ণ আনতে রূপের সাথে তাঁতিবাজারে যাওয়ার পথে ছিনতাই ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে আমি ছিলাম না।
এ বিষয়ে রূপের সঙ্গে কথা বলতে তার বাগমারা বাজার স্বর্ণ পট্টির মায়ের আর্শীবাদ স্বর্ণ বিতানে গেলে তালাবদ্ধা পাওয়া যায়। তাঁর মুঠোফোন ০১৮৪৩৮৫৬২৫৭ এ কল দিলেও সেটিও বন্ধ দেখায়।
নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি )মোঃ আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, এ ঘটনায় বুধবার সকালে মামলা নেয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে।