বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:২৫ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পৌষপার্বন উপলক্ষ্যে ঢাকার নবাবগঞ্জের আকাশে-বাতাসে বুধবার বিকেল যেন ছিলো উৎসবের আমেজে ভরপুর। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহি গরুর দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার চন্দ্রখোলা কালি খোলা মাঠে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় এ গরু দৌড় প্রতিযোগিতা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌষপার্বন উপলক্ষ্যে বসেছে গ্রাম্য মেলা। সকাল থেকেই এ মেলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকার হাজারো নারী পুরুষ ও তরুণ তরুনী অংশ নেয় এ গরুদৌড় প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে। কালের বিবর্তনে গরু দৌড় প্রতিযোগিতা আজ নেই বললেই চলে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা নারী ও শিশুদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা এক মিলনমেলায় পরিণত করেছে। মেলায় খাবারের পসরার সাথে শিশুদের জন্য নাগরদোলাসহ নানা আয়োজনেরও কমতি নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা নারায়ন সরকার বলেন,“এটি শুধু একটি দৌড় প্রতিযোগিতা নয়, এটি আমাদের শেকড়ের টান। কয়েকশত বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যে ধারাবাহিকতা। এইদিনে পুরো এলাকায় পিঠাপুলিরও ধুম পড়ে যায়। স্বজনরা আসে বেড়াতে।
আয়োজক কমিটির সদস্য হাসান বেপারি বলেন, প্রতি বছরই তাঁরা পৌষ মাসের শেষ দিনে এই আয়োজন করেন। আধুনিক সভ্যতায় নিজস্ব সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার চিরচেনা ইতিহাসকে তুলে ধরতেই গরু দৌড় ও গ্রাম্যমেলার আয়োজন করা হয়।
স্থানীয় যুবক শুভ্র তালুকদার বলেন, তাঁদের বাপ দাদার আমলে থেকে চলে আসা এটা এখন অনেকটাই ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। হাজারো দর্শকের পদচারণায় চন্দ্রখোলা গ্রাম যেন আনন্দের নগরীতে পরিণত হয়েছে বলে মনে করেন এ যুবক।
উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ২০/২৫টি গরু দৌড় প্রতিযোগিতার জন্য এসেছে। গরুর সাথে রশি ধরে শত শত ভক্ত নিয়ে মালিকরাও এসেছেন। কেউবা গরুর সাথে বাদ্যযন্ত্র নিয়ে নেচে গেয়ে উল্লাস করে মাঠে প্রবেশ করেছেন। গরুর দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে কেউ গাছে, কেউ ঘরের চালায়, আবার কেউ বাড়ির উচু ঢিবিতে বসে উপভোগ করছে।
চন্দ্রখোলা বাজারের উত্তর পাশে আবদানি ও পূর্বে দুটি রাস্তায় যেন তিল ধরার জায়গা নেই। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেয় আয়োজক কমিটি।