সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪০ পূর্বাহ্ন
তৃণমূল শক্তিশালী করতে স্থানীয় নির্বাচন জরুরী আজহারুল হক, লেখক ও সাংবাদিক:: তৃণমূল জনগোষ্ঠিকে শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় নির্বাচনকে আগে গুরুত্ব দিতে হবে। তা না হলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তা ভেস্তে যাবে। দীর্ঘ আন্দোলনের পর যদি সেই পুরনো ধাচের নির্বাচন ব্যবস্থাই চলমান থাকে তাহলে জুলাই বিপ্লবের আসল স্বপ্ন বিপন্ন হবে বলে মনে করেন সাধারণ মানুষ ও সুধী সমাজ। কারণ দেশের সর্বনিম্ন স্তরের ইউনিয়নের নির্বাচন যখন মুখ চিনে দলীয় বিবেচনায় প্রার্থী দেয়া হবে তখন আর জনগনের ম্যান্ডেট দেয়ার সুযোগ থাকে না। বিগত সরকারগুলোর আমলে যা হয়েছে সেই অবস্থা যদি ছাত্র-জনতার রক্ত মাড়িয়ে চলতে থাকে তাহলে এতো প্রাণের বিনিময়ে অর্জন কি? দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে না পারলে এ পরিবর্তনের কোনো মূল্য থাকবে না। লক্ষ্য যদি হয় হাত বদল তাহলে জনগণের ভোগান্তি লাঘবে কে হাল ধরবে। দেশে বা সমাজে যখন রাষ্ট্রীয় অনিয়ম এভাবে চলতে থাকে তখন সেই দেশে ফ্যাসিবাদতন্ত্র বা একনায়েকতন্ত্র জম্ম হবেই। এটাকে কেউ আর দমিয়ে রাখতে পারবে না। তাই দেশের বিগত সময়ের কথা বিবেচনা করেই তৃণমূলের মানুষের আস্থা ফেরাতে অবাধ নিরপেক্ষ একটি স্থানীয় নির্বাচন এখন অনেকটাই সময়ের দাবি।
বর্তমান সরকারকে শুধু রাজনৈতিক দলের স্বার্থগত দিক বিবেচনা করলেই হবে না। কারণ তারা দ্রুত ক্ষমতা পেতে চেষ্টা করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এ সরকার যদি হয় জনবান্ধব সরকার, সংকটকালীন সরকার তাহলে তাদের বুঝতে হবে জনগণের সংকট মোকাবেলা করাই তাদের বড় দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ। তৃণমূলের মানুষের চাওয়াকেই যদি প্রাধান্য দিতে চান তাহলে মানুষের মতামতের প্রাধান্য দেয়া উচিত। সেই দিক থেকে স্থানীয় নির্বাচন সরকারের জন্য একটা পাইলট প্রকল্পও হতে পারে।
৫ আগস্টের পর দেশের বেশীর ভাগ ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান নেই। ফলে জনগণের যে ভোগান্তি শুরু হয়েছে সেটাকে আমলে নিয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। এ অবস্থা তো আর বেশী দিন টিকতে পারে না। কারণ তৃণমূলের কোটি মানুষের কণ্ঠই আপনার রাজনীতির সিঁড়ি। সেটাকে আড়াল করে কৌশলী হওয়ার চেষ্টা করলে জনগণ মানবে না। একদিন আবার জেগে উঠবে। রাজনীতিবিদরা যদি সত্যিই জনকল্যাণে কাজ করেন তাহলে তাদের কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়। আর যদি রাজনীতির আড়ালে অর্থবিত্তের মালিক ও ক্ষমতাই মূখ্য হয় তাহলে যতবারই এদেশে বিপ্লব গণঅভ্যূত্থান হোক তাতে কোনো কাজে আসবে না।
আওয়ামী লীগের আমলে যতগুলো হয়েছে সে স্থানীয় নিবার্চন স্বচ্ছ হলে আজ দেশের মানুষের মধ্যে এত কষ্ট ও ক্ষোভের জন্ম হতো না। দিনের নির্বাচন রাতে আর জনতার ভোট দলীয় ক্যাডার বা প্রিজাইডিং অফিসার সিল মেরে বাক্স ভরবে এটা তো আর হতে পারে না। তাহলে পরিবর্তন কেন? আগামীতে যারা ক্ষমতায় আসবে তাদেরও কি এমন চিন্তা আছে কি না। সেটাও ভাবার বিষয় আছে। যে নির্বাচনকে ঘিরে এতো রক্তপাত হানাহানি জীবন বিসর্জন সেই পথ যদি পরিবর্তন না হয় তাহলে দেশের ভবিষ্যত আরো ভয়াবহতার দিকে দাবিত হবে।
জনগনের ভোট যদি তারা প্রয়োগ করতে পারে তাহলে জনপ্রতিনিধির কাছে জবাবদিহিতা পাওয়া যাবে। তারা জনগণকে সম্মান করবে। তা না হলে “যেই লাউ সেই কদু” এ প্রবাদে পরিণত হবে। জনগণকে কষ্টের পাহাড় নিয়েই চলতে হবে। আর বিনা ভোটে নির্বাচিতরা সেই পুরনো ফ্যাসিবাদের চেহারায় আর্বিভূত হবে। বর্তমান সরকার নির্দলীয় তাই তাদের অধীনে ইউনিয়ন পরিষদ পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হলে অনেকটাই স্বচ্ছ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু দলীয় সরকার ক্ষমতায় আসীন হলে সেই পরিবেশ থাকবে না এটা নিশ্চিত অনুমান করা যায়। সেই সরকারের সদিচ্ছা থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার দলীয়করণ হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ কেন্দ্রীয় সরকারের ইচ্ছাতেই সব সময় জেলা উপজেলায় সবকিছু বাস্তবায়ন হয় না। বিগত দিনেও হয়নি। স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সর্ম্পকের একটি বিষয় আছে। আর যদি হয় দলীয় বিবেচনায় প্রার্থী তাহলে তো কথাই নেই। এ ক্ষেত্রে মনোনয়ন বাণিজ্যের বিষয়তো রয়েছেই।
তাই সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে উচিত তৃণমূল নির্বাচন দিয়ে তাদের টেষ্ট কেস জনগণের মাঝে তুলে ধরা। তাহলে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মানুষের মনে কোনো ধোয়াশা থাকবে না। জনগণ যাকে চাইবে তাকে নির্বাচিত করবে। আর এখনই সময় এটা করার। দলীয় সরকারের অধীনে কোনদিন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি ভবিষ্যতেও এ সম্ভাবনা ক্ষীণ। রাজনৈতিক দলগুলোর এ বিষয়ে নমনীয়তা প্রত্যাশার দাবি রাখি।