শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:০৫ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভয়াবহ শীতকালীন ঝড়ের কারণে ৮ হাজারেরও বেশ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এই ঝড়ের প্রভাবে ব্যাপক তুষারপাত এবং টেক্সাস থেকে উত্তর ক্যারোলিনা পর্যন্ত বিশাল এলাকাজুড়ে বিপর্যয়কর বরফ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়্যার-এর তথ্যমতে, আজ শনিবার অন্তত ৩ হাজার ৪০০টি ফ্লাইট বিলম্বিত বা বাতিল করা হয়েছে এবং আগামীকাল রোববারের জন্য আরো ৫ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ১৪ কোটি মানুষ বর্তমানে শীতকালীন ঝড়ের সতর্কবার্তার অধীনে রয়েছেন। মার্কিন আবহাওয়াবিদদের মতে, বিশেষ করে বরফ কবলিত এলাকাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ঘূর্ণিঝড়ের সমতুল্য হতে পারে।
শনিবারের এই বড় ঝড়ের আগে শুক্রবার থেকেই টেক্সাস, ওকলাহোমা এবং কানসাসের কিছু অংশে তুষারপাত শুরু হয়েছে। এই ঝড়টি আর্কটিক অঞ্চল থেকে আসা তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে মিশে পুরো সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ এলাকাকে প্রভাবিত করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মেরিল্যান্ডের মার্কিন আবহাওয়া পূর্বাভাস সেন্টারের আবহাওয়াবিদ জ্যাকব অ্যাশারম্যান ব্রিটিশ বার্তা রয়টার্সকে বলেন, এটি একটি অত্যন্ত ভয়ংকর ঝড়। তিনি জানান, তীব্রতা ও বিস্তৃতির দিক থেকে এটিই চলতি মৌসুমের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ঝড়।
ডাকোটা এবং মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে হাড়কাঁপানো বাতাসের কারণে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে গেছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, পর্যাপ্ত পোশাক ছাড়া এই প্রচণ্ড ঠান্ডার সংস্পর্শে এলে খুব দ্রুত ‘হাইপোথার্মিয়া’ হতে পারে।
লুইজিয়ানা, মিসিসিপি ও টেনেসি অঙ্গরাজ্যে পরিস্থিতির সবচেয়ে বেশি অবনতি হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অ্যাশারম্যান জানান, সেখানে প্রায় এক ইঞ্চি পুরু বরফের স্তরে গাছের ডালপালা, বিদ্যুৎ লাইন ও রাস্তাঘাট ঢেকে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১২টি অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে জানান, সড়ক বিভাগ রাস্তাগুলোতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে। তিনি বাসিন্দাদের সম্ভব হলে ঘরে থাকার জন্য অনুরোধ করেছেন।
বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে, কারণ বরফে ঢাকা গাছের ডাল বা বিদ্যুতের তার ঝড় থেমে যাওয়ার অনেক পরেও ভেঙে পড়তে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তার প্রশাসন রাজ্য ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করছে এবং ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি ‘সহায়তা দেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে’।
এই ঝড়টি নিউ ইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির জন্য প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ, যিনি মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। শুক্রবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনওয়াইওয়ান-কে তিনি বলেন, রবিবার প্রত্যাশিত ভারী তুষারপাত মোকাবিলায় শহরের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ‘দেশের বৃহত্তম তুষার-প্রতিরোধী বাহিনীতে’ রূপান্তরিত করা হবে।