রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিনিধি, কেরানীগঞ্জ ॥
ঢাকা-৩ আসনে (কেরানীগঞ্জের পাঁচটি ইউনিয়ন) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ১০ প্রার্থীর মধ্যে আটজন প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় তাঁদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীসহ এ আটজন মোট প্রদত্ত ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশের কম ভোট পেয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. উমর ফারুক ঘোষিত ফলাফল থেকে এ তথ্য জানা যায়।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রত্যেক প্রার্থীকে নির্ধারিত অঙ্কের জামানত জমা দিতে হয়। জামানত ফেরত পেতে হলে কোনো প্রার্থীকে মোট প্রদত্ত ভোটের অন্তত এক-অষ্টমাংশ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট অর্জন করতে হয়। এর কম ভোট পেলে জামানত রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়।
এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৬১৮ জন। ভোট পড়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ২৯৮টি। যা মোট ভোটারের ৫৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। সে হিসেবে জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল কমপক্ষে ২৪ হাজার ১৬২ ভোট।
ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ৯৮ হাজার ৭৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহীনুর ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৮২ হাজার ২৩২ ভোট। এ দুই প্রার্থী ছাড়া বাকি আটজনই নির্ধারিত ভোটসংখ্যা অর্জন করতে পারেননি।
জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সুলতান আহম্মদ খান (হাতপাখা) পেয়েছেন ৬ হাজার ২৪৫ ভোট, জাতীয় পার্টির ফারুক আহমেদ (লাঙ্গল) পেয়েছেন ১ হাজার ৭০ ভোট, গণসংহতি আন্দোলনের বাচ্চু ভূঁইয়া (মাথাল) পেয়েছেন ৩৭৮ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মনির হোসেন (ফুটবল) পেয়েছেন ৩১০ ভোট, বাসদের মজিবুর হওলাদার (মই) পেয়েছেন ১৯৬ ভোট, গণফোরামের মোহাম্মদ রওশন ইয়াজদানী (উদীয়মান সূর্য) পেয়েছেন ১৭৪ ভোট, কংগ্রেসের মোহাম্মদ জাফর (ডাব) পেয়েছেন ১৫০ ভোট ও গণধিকার পরিষদের মো. সাজ্জাদ (ট্রাক) পেয়েছেন ৯৬ ভোট।
ঢাকা-৩ আসনটি কেরানীগঞ্জের আগানগর, জিনজিরা, শুভাঢ্যা, কোন্ডা ও তেঘরিয়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।