বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন

জনগণই প্রকৃত মালিক: ‘প্রজাতন্ত্রের সেবক’ হওয়া সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ডেস্ক ॥
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের মূল চেতনা অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির অনুগত নন, বরং তাঁরা রাষ্ট্রের ও জনগণের সেবক। প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত প্রত্যেক ব্যক্তির প্রধান ও আবশ্যিক দায়িত্ব হলো সর্বদা সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করা।

সংবিধানের ম্যান্ডেট ও সেবার সংজ্ঞা
সংবিধানের ২১(২) অনুচ্ছেদ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য হইলো সর্বদা জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা করা।’ এই আইনি কাঠামোর অধীনে রাষ্ট্র বা সরকারের বিভিন্ন কর্মবিভাগ, সার্ভিস, ক্যাডার কিংবা স্বতন্ত্র ইউনিটে নিযুক্ত কর্মীরাই মূলত ‘প্রজাতন্ত্রের সেবক’। তবে এই সেবার মানে কোনোভাবেই ‘চাকর’ বা ‘দাস’ হওয়া নয়, বরং একটি সম্মানজনক ও দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা।

মূল দায়বদ্ধতা কার কাছে?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের আনুগত্যের কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে রাষ্ট্র ও তার আইন। কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা ব্যক্তির স্বার্থ রক্ষা নয়, বরং সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রাখাই তাঁদের মূলনীতি। প্রজাতন্ত্রের সেবক হিসেবে তাঁদের পরিচয় নির্ধারিত হয় রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য এবং জনস্বার্থ রক্ষার দক্ষতার ওপর।

সারকথা
সংক্ষেপে বলতে গেলে, প্রজাতন্ত্রের সেবক হলেন সেই ব্যক্তি যিনি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অধীনে থেকে দেশের আইন মেনে চলেন এবং কোনো ভেদাভেদ ছাড়াই জনসাধারণের অধিকার ও সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকেন। এটি কেবল পেশাগত দায়িত্ব নয়, বরং একটি সর্বোচ্চ পর্যায়ের সাংবিধানিক ও নৈতিক অঙ্গীকার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com