সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৯ অপরাহ্ন
রাঙামাটি প্রতিনিধি ঃ
চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে তিন পার্বত্য জেলায় আগামী ১৩ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। রবিবার (০৫ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফরিদা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে ,‘জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত ১৩ এপ্রিল ‘চৈত্র সংক্রান্তি’ উপলক্ষে ঘোষিত সাধারণ ছুটি শুধু রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলার জন্য প্রযোজ্য হবে। তিনটি পার্বত্য জেলা ব্যতিত দেশের অন্যত্র সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য এই ছুটি ঐচ্ছিক ছুটি হিসেবে প্রযোজ্য হবে।’
এই বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলার তিন জেলা প্রশাসককে দেওয়া হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান বিজু-সাংগ্রাই-বৈসুক-বিষু-বিহু উৎসব। পাহাড়ে বসবাসরত ১৩টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীদের প্রধান সামাজিক উৎসবও এটি। মূলত বাংলা পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বর্ষ বরণকে কেন্দ্র করে তিন পার্বত্য জেলায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ১৫ দিনব্যাপী উৎসব করে থাকে।
মুল উৎসব হয় ৩০ চৈত্র বা ১৩ এপ্রিল। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা পরিষদ ও জেলা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট পৃথকভাবে বর্ণিল এ উৎসবের আয়োজন করে থাকে। উৎসবে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পিঠা তৈরি, পাজন রান্না, মঞ্চনাটক, চিত্রাঙ্কন ও বর্ণমালা লিখন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া আয়োজিত মেলায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য, ব্যবহার্য পোশাক, গহনা ও তৈজসপত্র স্হান পায়। এ আয়োজনের মাধ্যমে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করে।