শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ শানাল ফকিরের বাড়ীর ওরশ উপলক্ষ্যে মাঘী পূর্ণিমাকে সামনে রেখে ঢাকার দোহারের নুরুল্লাহপুরে চারশত বছরের পুরনো গ্রাম্য মেলা উপলক্ষ্যে শুক্রবার বিকেলে সুন্দরীপাড়া রুপালী যুব সংঘের উদ্যোগে গরুদৌড় প্রতিযোগতার আয়োজন করা হয়। বিকেল জুড়েই দোহার নবাবগঞ্জের আকাশে-বাতাসে ছিলো উৎসবের আমেজে ভরপুর। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য গরুদৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে হাজারো নারী পুরুষ এতে অংশ নেয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শানাল ফকিরের বাড়ীর ওরশ উপলক্ষ্যে প্রতি বছরের ন্যায় গ্রাম্য মেলার প্রস্তুতি চলছে। ঠিক সেই মাঠেই বিভিন্ন এলাকার হাজারো নারী পুরুষ ও তরুণ তরুনী গরুদৌড় প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে ভীড় জামায়। কালের বিবর্তনে গরু দৌড় প্রতিযোগিতা আজ নেই বললেই চলে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা নারী ও শিশুদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। মেলায় খাবারের পসরার সাথে শিশুদের জন্য নাগরদোলাসহ নানা আয়োজনেরও কমতি নেই।
গরুদৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজক কমিটির মিজানুর রহমান মোল্লা বলেন,“এটি শুধু একটি গরুদৌড় প্রতিযোগিতা নয়, এটি আমাদের বাংলার পুরনো ঐতিহ্য। বাঙ্গালীর শেকড়ের টান। কয়েকশত বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যে ধারাবাহিকতা রক্ষা করেই এ উৎসবে মেতে উঠছে নতুন প্রজম্ম।

ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবির বলেন, প্রতি বছরই তাঁরা মাঘী পূর্ণিমার আগে এই আয়োজন করেন। আধুনিক সভ্যতায় নিজস্ব সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার চিরচেনা ঐতিহ্য রূপ তুলে ধরতেই গরুদৌড় ও গ্রাম্যমেলার আয়োজন করা হয়।
উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১৫/২০টি গরু দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। গরুর সাথে রশি ধরে শত শত ভক্ত নিয়ে মালিকরাও এসেছেন। কেউবা গরুর সাথে বাদ্যযন্ত্র নিয়ে নেচে গেয়ে উল্লাস করে মাঠে প্রবেশ করেছেন। গরুর দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে কেউ গাছে, কেউ ঘরের চালায়, আবার কেউ বাড়ির উচু ঢিবিতে বসে উপভোগ করছে। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেয় অনুষ্ঠানের অতিথিবৃন্দ।