বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ন

চলতি মাসেই সংসদের প্রথম অধিবেশন

চলতি মাসেই সংসদের প্রথম অধিবেশন

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের এক মাসের মধ্যে অধিবেশন বসার বিধান রয়েছে। সেক্ষেত্রে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে পারে। একই সঙ্গে সংসদের সংরক্ষিত আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঈদুল ফিতরের আগেই অর্থাৎ চলতি রমজান মাসেই এই নির্বাচনী কার্যক্রম সম্পন্ন করতে চায় ইসি।

আইন অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ১ মাসের মধ্যে রাষ্ট্রপতি সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করবেন। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ফলাফলের গেজেটে প্রকাশ হয়েছে। সেক্ষেত্রে আগামী ১৩ মার্চের মধ্যে অধিবেশন বসার কথা। সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রথম অধিবেশন বসার আহ্বান জানাতে পারেন। সংসদ সচিবালয় তেমন প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে।

নিবাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সংসদের নারী সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন রোজার মধ্যে করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছি। শিরগিরই সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনের তফসিল দেওয়া হতে পারে। ঈদের আগেই এ নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করতে চাই।

সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আরপিও অনুযায়ী, যেদল সাধারণ আসনে যতটি আসন পায়, সেই অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯ আসনে ভোট হয়। নির্বাচনে বিএনপি পেয়েছে ২১২টি আসন। জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৭৭টি, এনসিপি ৬টি। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আসন পেয়েছে ১টি। গণঅধিকার পরিষদ আসন পেয়েছে ১টি। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ১ আসনে জয় লাভ করেছে। গণসংহতি আন্দোলন পেয়েছে ১টি আসন। খেলাফত মজলিস পেয়েছে ১টি আসন।

জাতীয় সংসদের নারী আসনের নির্বাচনের আইন অনুযায়ী, ৬টি আসনের ক্ষেত্রে ১টি সংরক্ষিত আসন বরাদ্দ। সেই হিসাবে বিএনপি ৩৪ দশমিক ৬৬ আসন বা ৩৫টি আসন পাবে। এর সঙ্গে কোনো দল বা স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা জোটবদ্ধ হলে এই সংখ্যা বেড়ে যাবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১ দশমিক ৩৩ বা ১১টি আসন পাবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১ দশমিক ১৬ শতাংশ বা ১টি আসন পাবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি পাবে ১টি আসন। অন্য ছোট দলগুলো নিজেদের মধ্যে জোট না করলে কোনো আসন পাবে না। তবে জোট করলে পাবে ১টি আসন। সাধারণত, কোনো দল সংসদে যতগুলো আসন পায়, সেই সংখ্যাকে ৫০ দিয়ে গুণ করে প্রাপ্ত ফলাফলকে ৩০০ দিয়ে ভাগ করলে যে ফল আসে, সেটিই হচ্ছে সংশ্লিষ্ট দলের সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা।

সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন প্রক্রিয়া :

সংবিধান অনুসারে বর্তমানে ৫০টি সংরক্ষিত মহিলা আসন রয়েছে। সংসদের আসনের সংখ্যানুপাতে নির্ধারিত এই মহিলা আসনে রাজনৈতিক দল বা জোট তাদের নির্ধারিত আসনের জন্য একক প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ায় তারা বিনা ভোটে নির্বাচিত হন। জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনের মতো সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার প্রয়োজন পড়লেও ভোটার ও আসন বণ্টনসহ কমিশনকে এই নির্বাচনের নানা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

আইন অনুযায়ী গেজেট হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচনের উদ্দেশে নির্বাচন কমিশন সাধারণ আসনে নির্বাচিত সদস্যদের রাজনৈতিক দল বা জোটওয়ারী সদস্যদের পৃথক পৃথক তালিকা প্রস্তুত করবে। তালিকা প্রস্তুতের পরের কার্যদিবসে সেই তালিকা নির্বাচন কমিশনে প্রকাশ্য কোনো স্থানে টাঙিয়ে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সংসদ সচিবালয়কে সেই তালিকার প্রত্যায়িত কপি পাঠিয়ে তা টাঙানোর জন্য বলবে। নির্বাচনের আগে সেই তালিকার আর কোনো পরিবর্তন করা যাবে না। তবে কোনো করণিক ভুল হলে নির্বাচন কমিশন তা সংশোধন করতে পারবে। আসন বণ্টন বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্যদের জন্য কোনো নির্ধারিত নির্বাচনী এলাকা নেই। তারা কেবল দলীয় বা জোটের সদস্য হিসেবে পরিচিত হবে। এক্ষেত্রে দল বা জোটের প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে মহিলা আসন বণ্টিত হবে।

আইন অনুযায়ী, শপথ নেওয়া সংসদ সদস্যরাই সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনে ভোটার হবেন এবং এই ভোটাররা কেবল নিজেদের দলের প্রাপ্ত আনুপাতিক আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য ভোট দিতে পারবেন। এক্ষেত্রে বণ্টিত আসনে একক প্রার্থী হলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন পড়বে না। কিন্তু বণ্টিত আসনের তুলনায় ওই দল বা জোটের প্রার্থী বেশি হলে ভোট নিতে হবে। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীরাই নির্বাচিত বলে গণ্য হবেন। অবশ্য এমন ভোটের নজির নেই।

সংরক্ষিত নারী আসন আইন-২০০৪ অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের মতো সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনে তফসিল ঘোষণা করা হয়। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তা রিটার্নিং অফিসার নিয়োগপ্রাপ্ত হন। নির্বাচন কমিশন জোটের তালিকা প্রকাশ্যে টানানোর পর এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ করবে। একই সঙ্গে মনোনয়নপত্র দাখিল, বাছাই ও ভোটের দিন ঘোষণা করবে। এ ছাড়া ভোটগ্রহণের স্থান নির্ধারণ করবে। ভোটের প্রয়োজন পড়লে সংসদ ভবনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদ অধিবেশন চলমান থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনের ক্ষেত্রে তা নেই। সংরক্ষিত আসনের ভোট সংসদ সচিবালয়ের যে কোনো স্থানে হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com