শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন
সংগৃহীত ছবি নিজস্ব প্রতিবেদক, একুশের কণ্ঠ:: বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বুধবার বাদ জোহর মানিকমিয়া এভেনিউয়ে বেগম জিয়ার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাকে দাফন করা হবে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের ঠিক পাশে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। শেষ দিকে শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। মৃত্যুকালে খালেদা জিয়ার পাশে ছিলেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমান, পুত্রবধূ জুবাইদা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান, প্রয়াত ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান, নাতনি জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমান, ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার ও তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা, প্রয়াত ভাই সাঈদ ইস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন ইস্কান্দার, মেজ বোন সেলিনা ইসলামসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। পাশাপাশি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে লন্ডনে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে দেশে ফেরেন তিনি। তবে বয়সজনিত দুর্বলতা ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার কারণে তার শারীরিক অবস্থা ক্রমেই অবনতির দিকে যায়। সর্বশেষ গত ২৩ নভেম্বর তাকে গুরুতর অবস্থায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় চিকিৎসাধীন থাকার পর শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়া ১৫ আগস্ট ১৯৪৫ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বেনজির ভুট্টোর পর মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী।
গৃহবধূ থেকে রাষ্ট্রনায়কে উত্তরণের এই পথে চাপের কাছে নতি স্বীকার না করা এক সংগ্রামী ব্যক্তিত্ব তিনি। গণতন্ত্র, মাটি ও মানুষের প্রশ্নে আপসহীন এই নেত্রী চার দশকের পথচলায় হয়ে ওঠেন জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। তার নামের সঙ্গে নব্বইয়ের দশকেই জুড়ে যায় ‘আপসহীন’ শব্দটি। ১৯৮১ সলের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর ’৮২ সালে জিয়ার হাতে গড়া দল বিএনপির হাল ধরেন বেগম জিয়া। সহজাত দৃঢ়তায় স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্বের আসনে আসীন হন তিনি।
সেই সময় স্বৈরাচার এরশাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ’৮৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিলেও খালেদা জিয়া ছিলেন অনড়-অবিচল। সেই দৃঢ়তা পতন ডেকে আনে এরশাদের। সব সমীকরণ পাল্টে দিয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনে দেশের জনগণ। ৩ বার দেশের প্রধানমন্ত্রী হন তিনি।
২০০৮ পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনে দুর্বিষহ হয় তার জীবন। চক্রান্তমূলক নানা মামলায় জড়ানো হয় বেগম জিয়াকে। উচ্ছেদ হন নিজ বাড়ি থেকে, স্বৈরাচারের রোষানলে জেলখানার নিষ্পেষণে শেষে মৃত্যু হয় ছোটো ছেলের। আর ২০১৮ সালে কারাগারে অন্তরীণ হওয়ার পর থেকেই একে একে জটিলতা বাধে শরীরে।
‘দেশনেত্রী’, ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। তার মৃত্যুতে এক যুগেরও বেশি সময়ের একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান ঘটলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।