শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৫ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
আফ্রিকায় টানা ভারী বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু ফ্যাসিবাদের সময় যারা খুন-গুমের শিকার হয়েছেন তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেব না: তারেক রহমান কেরানীগঞ্জে মা-মেয়ে খুন: ঋণের কিস্তি নিয়ে বিরোধে হত্যাকাণ্ডের পর ২১ দিন লাশ দুটি ফ্ল্যাটে রেখে বসবাস “মাদক ধরলেই আপনি বাধা দেন” কেরানীগঞ্জে বিএনপি নেতার সঙ্গে ডিবি পুলিশের বাকবিতণ্ডা দেশে ব্যবহৃত পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইনে পরিবর্তনের কথা জানাল ইসি মেক্সিকো ও দক্ষিণ আমেরিকার আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা জারি প্রার্থিতা ফিরে পেতে অষ্টম দিনের আপিল শুনানি চলছে পাকিস্তানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক খালে, একই পরিবারের ১৪ জন নিহত

কেরানীগঞ্জে মা-মেয়ে খুন: ঋণের কিস্তি নিয়ে বিরোধে হত্যাকাণ্ডের পর ২১ দিন লাশ দুটি ফ্ল্যাটে রেখে বসবাস

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি:: বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে নেয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে বাকবিতন্ডার জেরেই মা ও মেয়েকে হত্যা করে লাশ ফ্ল্যাটে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছেন গ্রেপ্তার শিক্ষিকা ও তাঁর বোন। হত্যাকাণ্ডের দুটি লাশ ফ্ল্যাটে রেখেই অভিযুক্ত দুই বোন ও তাঁদের পরিবার প্রায় ২১ দিন সেখানে বসবাস করে আসছিল।

গতকাল শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম তাঁর কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার নুসরাত মীম একটি এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নেন। ওই ঋণের জামিনদার ছিলেন তাঁর শিক্ষার্থী জোবাইদার মা রোকেয়া রহমান। নির্ধারিত সময়ে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পারায় রোকেয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করে এনজিও কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে রোকেয়া ও নুসরাতের মধ্যে একাধিকবার কথা-কাটাকাটি ও মনোমালিন্য হয়। গত ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে ফাতেমা প্রাইভেট পড়তে নুসরাতের বাসায় গেলে নুসরাতের ছোট বোনের (১৫) সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ফাতেমাকে গলা চেপে হত্যা করে তাঁর ওই বোন।

ওসি সাইফুল আলম বলেন, ঘটনার পর বিষয়টি আড়াল করতে ফাতেমার পোশাক পরে বাসা থেকে বের হয় নুসরাতের বোন। যাতে সিসিটিভি ফুটেজে মনে হয় ফাতেমা নিজেই বাসা ছেড়ে চলে গেছে। ওই ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর ফাতেমার মাকে ফোন করে মেয়ের অসুস্থতার কথা জানান নুসরাত। তৎক্ষণাৎ মেয়েকে নিতে নুসরাতের বাসায় ঢুকলে পেছন থেকে ওড়না পেঁচিয়ে রোকেয়ার গলা চেপে ধরেন তিনি। পরে দুই বোন মিলে শ্বাসরোধে রোকেয়াকে হত্যা করেন। ঘটনার পর রোকেয়ার লাশ নুসরাতের শোবার ঘরের বক্স খাটের নিচে ও ফাতেমার লাশ শৌচাগারের ফলস সিলিংয়ের ভেতর লুকিয়ে রাখা হয়। দুটি লাশ ফ্ল্যাটে রেখেই অভিযুক্ত দুই বোন ও তাঁদের পরিবার প্রায় ২১ দিন সেখানে বসবাস করে আসছিল। এর মধ্যে লাশ ঘরে রেখে গত ৬ জনুয়ারি শিক্ষিকা মীমের তিন বছরের ছেলের জন্মদিন পালন করতে পরিবারের সবাই ফরিদপুরের ভাঙ্গা এলাকায় নানা বাড়িতে যায়। এরপর ১০ জানুয়ারি সেখান থেকে তারা কেরানীগঞ্জে ফিরে আসেন।

তিনি আরও বলেন, গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) মীমের স্বামী হুমায়ুন স্ত্রীকে ঘর থেকে গন্ধ আসার কারণ জিজ্ঞেস করলে উত্তরে মীম বলেন, বাহির থেকে কুকুর মরার গন্ধ আসছে। গন্ধের উৎস খোঁজার একপর্যায়ে হুমায়ুন তাঁদের শোবার ঘরে খাটের নিচে লাশ দেখতে পেয়ে ভয়ে চিৎকার দিয়ে ফ্ল্যাটের বাইরে বেরিয়ে আসেন। তখন তার আত্মচিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা বিষয়টি জানতে পারে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি লাশ উদ্ধার করে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুসরাত ও তাঁর ছোট বোন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। গতকাল তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। নুসরাতের বোন নাবালিকা হওয়ায় তাকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে মা-মেয়ের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার শিক্ষিকা মীম আদালতে ‘হত্যার দায় স্বীকার করে’ জবানবন্দি দিয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) তদন্ত কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রনি চৌধুরীর আবেদনে ঢাকা জেলার জেষ্ঠ্য জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ মীমের জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আর অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মীমের বোনের (১৫) জবানবন্দি নেয়নি আদালত। তাকে গাজীপুরে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

এর আগের দিন কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকায় শিক্ষিকা নুসরাত মীমের ফ্ল্যাট থেকে ২১ দিন ধরে নিখোঁজ অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জোবাইদা রহমান ফাতেমা ও তাঁর মা রোকেয়া রহমানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শিক্ষিকা নুসরাত মীম (২৪), তাঁর স্বামী হুমায়ুন মিয়া (২৮), মীমের ১৫ বছর ও ১১ বছর বয়সী দুই বোনকে আটক করা হয়।

রোকের রহমানের স্বামী শাহীন মিয়া পেশায় আইনজীবীর মুহুরি। দুই স্ত্রী নিয়ে সংসার শাহীনের। প্রথম স্ত্রী রোকেয়ার একমাত্র সন্তান ফাতেমা। দ্বিতীয় সংসারে শাহীনের এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। একই এলাকায় পাশাপাশি থাকতেন তাঁরা।

শাহীন বলেন, দুই স্ত্রী হলেও গত ১৫ বছর কারও সঙ্গে কারও দেখা হয়নি, ঝামেলাও হয়নি। গত ২৫ ডিসেম্বর প্রচণ্ড শীত থাকায় আর বাইরে বের হইনি। পরদিন রোকেয়াকে ফোন দেই, কিন্তু ধরে না। গিয়ে দেখি (রোকেয়ার বাসায়) ঘর তালাবদ্ধ। খোঁজাখুঁজি করেও পাই না। এরপর থানায় যাই, মামলা নেয় না। পরে পুলিশ লোকেশন চেক করে দেখে, রোকেয়ার সর্বশেষ অবস্থান ছিল মীমের বাসার এলাকায়। প্রথমে ওই বাসায় খোঁজ নিতে গেলে মীমের স্বামী আমাকে হুমকি-ধমকি দেয়। তার দাবি, মীম আজ শনিবার আমাকে তাঁদের বাসায় যেতে বলেছিল। যদি বৃহস্পতিবার লাশ পাওয়া না যেত, তাহলে আজ শনিবার সেখানে গেলে তারা হয়ত আমাকেও মেরে ফেলত।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বলা হচ্ছে, ঋণের টাকার জন্য খুন। কিন্তু ওরা আমার মেয়ে ও স্ত্রীকে খুন করেছে গয়নার জন্য। তাদের কাছে দুটি সোনার চেইন, কানের দুল ও দুটি মোবাইল ছিল। তারা এগুলো নিয়ে গেছে। আর ঋণের বিষয় যদি আসে, তাহলে আমার স্ত্রী তো তার উপকার করছে। এজন্য তাকে খুন করতে হবে? আমি হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। যারা গেছে তাদের তো আর ফিরে পাব না, তবে বিচারটা যেন পাই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com