বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫২ পূর্বাহ্ন

কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদের বিরুদ্ধে মামলার পাহাড়: বাদ যায়নি মৃত ঘোষিত জীবন্ত শিশুও!

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি ও নিউজ ডেস্ক ॥
ঢাকার কেরানীগঞ্জে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের প্রভাবশালী নেতারা। বিশেষ করে কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহীন আহমেদের বিরুদ্ধে হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও হামলার অভিযোগে একের পর এক মামলা দায়ের করা হচ্ছে। তবে একটি হত্যা মামলায় মৃত দাবি করা শিশু জীবিত থাকার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসায় এলাকা জুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

অগ্নিসংযোগ ও গাড়ি ভাঙচুরের মামলা
গত ১৭ আগস্ট ২০২৪ তারিখে শাহীন আহমেদসহ আওয়ামী লীগের তিন শতাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন কোন্ডা ইউনিয়নের এক বাসিন্দা। মামলায় শাহীন আহমেদকে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

ছাত্র রিয়াজ হত্যা মামলা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সরকারি ইস্পাহানি কলেজের ছাত্র রিয়াজ হোসেন (২১) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহতের ঘটনায় গত ২৭ আগস্ট কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা হয়। নিহতের চাচা রমজান আলী শওকতের দায়ের করা এ মামলায় শাহীন আহমেদসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৫১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ককটেল বিস্ফোরণ ও হামলার অভিযোগ
দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পথরোধ, প্রাণনাশের হুমকি ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে গত ৪ অক্টোবর বিএনপি নেতা মনির হোসেন বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় শাহীন আহমেদকে প্রধান আসামি করে আরেকটি মামলা করেন।

এ মামলার উল্লেখযোগ্য অন্য আসামিরা হলেন: সাবেক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের একান্ত সচিব জসিম মাহমুদ, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ইকবাল হোসেন ও সাকুর হোসেন সাকু, শুভাঢ্যা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি বাছের উদ্দিন, যুবলীগ নেতা মাহমুদ আলম এবং ছাত্রলীগ নেতা গাজী মাসুম বিল্লাহ ও জসিম উদ্দিন নীরবসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

মৃতু সাজিয়ে মামলা: চাঞ্চল্যকর ‘জিহাদ’ কাহিনী
সবচেয়ে নাটকীয় মোড় নেয় গত ৫ অক্টোবর দায়ের করা একটি মামলা। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. জিহাদকে (১১) গুলি করে হত্যার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন জিহাদের বাবা জহুরুল ইসলাম রাজু। ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা এই মামলায় শাহীন আহমেদ ও কেরানীগঞ্জের ১২টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদেরও আসামি করা হয়।

তবে মামলার পর জানা যায়, শিশু জিহাদ আসলে মারা যায়নি, সে সুস্থ ও জীবিত আছে। অভিযোগ উঠেছে, জনৈক শাহজাহান সম্রাট ও তার সহযোগীরা অসৎ উদ্দেশ্যে জিহাদের বাবাকে প্ররোচিত করে এই ভুয়া হত্যার মামলাটি দায়ের করিয়েছেন। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর মামলার সত্যতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে শাহীন আহমেদ ও সংশ্লিষ্ট আসামিরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com