শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৩২ অপরাহ্ন
মোঃ বিপ্লব, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কোনো একক দলের শাসন নয়, বাংলাদেশে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায় জামায়াতে ইসলামী। যেখানে আলেম-ওলামা, দেশপ্রেমিক ও স্বাধীনচেতা মানুষ একসঙ্গে কাজ করবেন; কিন্তু কোনো আধিপত্যবাদ মেনে নেওয়া হবে না। সবাইকে নিয়েই আগামীর বাংলাদেশ গড়া হবে, ইনশাল্লাহ।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী সবার সঙ্গে কাজ করতে চায়। তবে সে ক্ষেত্রে তিনটি শর্ত মানতে হবে, নিজে দুর্নীতি করা যাবে না, কোনো দুর্নীতিবাজকে আশ্রয় দেওয়া যাবে না এবং গরিব-ধনী, নারী-পুরুষ, সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, বিচার বিভাগ হবে সম্পূর্ণ স্বাধীন; সেখানে কোনো রাজনীতিবিদের হস্তক্ষেপ থাকবে না।
জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশ গড়ার কাজ কোনো একক দল একা করতে পারবে না। তাই আসন্ন নির্বাচনে শুধু জামায়াতে ইসলামী নয়, বাংলাদেশের মুক্তিকামী ১০ দলের জোটকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেই নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে। বেকার ভাতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকেই ক্ষমতায় গেলে বেকার ভাতা দেওয়ার কথা বলছেন। কিন্তু আমরা কারও হাতে অসম্মানের চাবি তুলে দিতে চাই না। আমরা চাই মানুষ মর্যাদার সঙ্গে কাজ করুক এবং নিজের উপার্জনে আত্মনির্ভরশীল হোক।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত ৫৪ বছরে বস্তাপচা রাজনীতি, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের মাধ্যমে দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থা বদলাতে হবে, বৈষম্যের অবসান ঘটাতে হবে। উত্তরবঙ্গ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে উত্তরবঙ্গ গরিব ছিল না। পরিকল্পিতভাবেই এই অঞ্চলকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। সৎ মায়ের সন্তানের মতো আচরণ করা হয়েছে, অথচ এই উত্তরবঙ্গই দেশকে খাদ্য ও পুষ্টি জোগান দেয়।
তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, আগামী দিনে উত্তরবঙ্গ থেকে আর কোনো বেকারের মুখ দেখতে চাই না। প্রত্যেক যুবক-যুবতীকে মর্যাদার কাজের মাধ্যমে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। বন্ধ থাকা চিনিকলগুলো চালু করে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানে ফিরিয়ে আনা হবে। স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য উত্তরবঙ্গের মানুষকে ঢাকামুখী হতে হয়, যা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। জামায়াত সরকার গঠনের সুযোগ পেলে দেশের কোনো জেলাই মেডিকেল কলেজবিহীন থাকবে না। ঠাকুরগাঁওয়েও একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে।
অর্থনৈতিক দুর্নীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশ থেকে চুরি করে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার করা হবে। ভবিষ্যতে আর কাউকে লুটপাট করতে দেওয়া হবে না। ভোটাধিকার প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারা মানুষের অধিকার রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বৈষম্য, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও স্বৈরতন্ত্রের অবসান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
এসময় জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, ঠাকুরগাঁও জেলার তিনটি সংসদীয় আসনের জামায়াত প্রার্থী এবং ১০ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।