শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩৮ অপরাহ্ন
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ও অনলাইন ডেস্ক ॥
দীর্ঘ ২২ বছর পর ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে পা রেখে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “আমরা স্রেফ ক্ষমতা নয়, বরং দেশকে প্রকৃত অর্থে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাই। আমাদের লক্ষ্য ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়কে কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চলে রূপান্তর করা। বেকারত্ব দূর করে প্রতিটি হাতকে কর্মীর হাতে পরিণত করাই আমাদের মূল পরিকল্পনা।”
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। সকাল থেকেই কানায় কানায় পূর্ণ হওয়া জনসভায় তারেক রহমান তার আগামীর রাষ্ট্রদর্শন ও জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
জনগণের হারানো অধিকার পুনরুদ্ধারের ডাক
তারেক রহমান বলেন, “বিগত ১৬ বছর স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা শুধু নিজেদের স্বার্থ দেখেছে, জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষ তাদের সেই লুণ্ঠিত ভোটাধিকার ফিরে পাবে। আমরা জনগণের প্রত্যক্ষ সমর্থনে সরকার গঠন করে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে চাই। বিশেষ করে পঞ্চগড়ের বন্ধ চিনিকল পুনরায় চালু, চা শিল্প ও রেশন ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা হবে।”
যুবকদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থান
উত্তরাঞ্চলকে কৃষিনির্ভর উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি আমরা এই অঞ্চলে কৃষিনির্ভর শিল্পায়ন বিকশিত করব। দেশের অগণিত বেকার যুবককে যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা হবে। আমরা দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি দেশ পুনর্গঠনের জন্য। আর এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা আমাদের একান্ত কাম্য।”
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তারেক রহমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “নির্বাচনী সভায় এক দল অন্য দলের বিষোদগার করলে সাধারণ মানুষের কোনো লাভ হয় না। মানুষ জানতে চায় তাদের জন্য আমরা কী করব। আমরা সেই সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনাই তুলে ধরছি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া সবসময় বলতেন, বাংলাদেশ ছাড়া তার আর কোনো ঠিকানা নেই। বিএনপির প্রতিটি কর্মীও বিশ্বাস করে- দেশই আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা।”
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান- কোনোটিই নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের ছিল না। হাজার বছর ধরে আমরা যেভাবে মিলেমিশে আছি, আগামীর বাংলাদেশেও ধর্ম দিয়ে কাউকে বিচার করা হবে না। প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে।”