শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ০২:২০ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ॥
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে রাজধানী ছেড়ে যাওয়া ও আসা প্রায় পৌনে দুই কোটি মানুষের ঈদযাত্রা নিরাপদ ও যানজটমুক্ত করতে একগুচ্ছ বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। নির্দেশনায় পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল নিয়ন্ত্রণসহ যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের জন্য একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
৭ দিন মহাসড়কে ভারী যান চলাচল নিষিদ্ধ
ঈদযাত্রায় মহাসড়কে যানজট কমাতে আগামী ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মোট ৭ দিন ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি পরিষেবা যেমন- নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য, পচনশীল পণ্য, গার্মেন্টস সামগ্রী, ওষুধ, সার ও জ্বালানি বহনকারী যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
এড়িয়ে চলার অনুরোধ যেসব সড়ক
১৬ মার্চ থেকে ঈদযাত্রা সুগম করতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া নিচের রুটগুলো পরিহার করে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে ডিএমপি:
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক: কুড়িল থেকে আব্দুল্লাহপুর।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক: গুলিস্তান থেকে সাইনবোর্ড।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক/মিরপুর রোড: আড়ং ক্রসিং থেকে আমিনবাজার।
ঢাকা-কেরানীগঞ্জ ও মাওয়া সড়ক: ফুলবাড়িয়া, তাঁতীবাজার, বাবুবাজার ব্রিজ ও গুলিস্তান থেকে বুড়িগঙ্গা ব্রিজ পর্যন্ত।
মোহাম্মদপুর বসিলা ক্রসিং থেকে বসিলা ব্রিজ, আব্দুল্লাহপুর থেকে ধউর ব্রিজ এবং ফুলবাড়িয়া থেকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল সড়ক।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের জন্য নির্দেশনা
আন্তঃজেলা বাসগুলোকে অবশ্যই টার্মিনালের ভেতর থেকে যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে রওনা হতে হবে। কোনোভাবেই টার্মিনালের বাইরে বা সড়কে গাড়ি থামানো বা পার্কিং করা যাবে না। এছাড়া:
বিআরটিসির বাসগুলো নিজ নিজ ডিপো থেকে সরাসরি গন্তব্যে যাবে, কোনোভাবেই ঢাকা মহানগরীর ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না।
নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না এবং একই সিটের টিকিট একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি নিষিদ্ধ।
চালকদের একটানা ৫ ঘণ্টা এবং দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে বাধ্য করা যাবে না।
ফিটনেসবিহীন লক্কড়-ঝক্কর গাড়ি নামানো এবং উল্টো পথে গাড়ি চালানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
গাড়ি চালানো অবস্থায় মোবাইল বা হেডফোন ব্যবহার এবং উচ্চস্বরে গান বাজানো যাবে না।
যাত্রী ও পথচারীদের জন্য সতর্কবার্তা
নিরাপদ ভ্রমণের লক্ষ্যে ডিএমপি যাত্রীদের নির্দিষ্ট কাউন্টার থেকে বাসে ওঠার অনুরোধ জানিয়েছে। এছাড়া অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করা, মালামাল নিজ হেফাজতে রাখা এবং রাস্তা পারাপারে ফুট ওভারব্রিজ বা জেব্রাক্রসিং ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চলন্ত গাড়িতে ওঠা-নামা বা পণ্যবাহী যানে যাত্রী হওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
ডিএমপি জানায়, প্রতি ঈদে ঢাকা থেকে প্রায় দেড় কোটি মানুষ বাইরে যান এবং প্রায় ৪০ লাখ মানুষ ঢাকায় প্রবেশ করেন। এই বিশাল জনস্রোতের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতেই মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে পুলিশ।