সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার পর আফগান পাসপোর্টধারী সব ব্যক্তির জন্য ভিসা ইস্যু অবিলম্বে স্থগিত ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই সিদ্ধান্ত জানায়। আজ রবিবার (৩০ নভেম্বর) রয়টার্স এ তথ্য নিশ্চিত করে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, “আফগান পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভ্রমণকারী সব ব্যক্তির জন্য ভিসা ইস্যু স্থগিত করা হয়েছে।”
গত বুধবার ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদের ওপর গুলির ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে আফগান নাগরিক রহমানউল্লাহ লাকানওয়ালকে চিহ্নিত করার পরই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের কাছে টহল দেওয়ার সময় পশ্চিম ভার্জিনিয়া ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য সারাহ বেকস্ট্রম ও অ্যান্ড্রু উলফের ওপর অতর্কিতে হামলা চালানো হয়। এতে একজন নিহত এবং অন্যজন গুরুতর আহত হন। সিআইএ নিশ্চিত করেছে, লাকানওয়াল ২০২১ সালে পশ্চিমা বাহিনী আফগানিস্তান ছাড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তিনি আফগানিস্তানে সিআইএর সহযোগী হিসেবে কাজ করেছিলেন।
শুক্রবার মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, লাকানওয়ালের বিরুদ্ধে হত্যা এবং সশস্ত্র অবস্থায় হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা—এই দুই অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ঘটনার পর অভিবাসন নীতিও কঠোর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার (ইউএসসিআইএস) পরিচালক জোসেফ এডলো বলেন, “মার্কিন জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে সব আশ্রয় আবেদনের সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত থাকবে।”
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও কঠোর অভিবাসন নীতি চালু করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
১। ঝুঁকিপূর্ণ ও নজরদারির তালিকায় থাকা ১৯টি দেশের গ্রিনকার্ড আবেদন পুনরায় যাচাই
২। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো” থেকে অভিবাসন স্থগিতের পরিকল্পনা
৩। দেশের জন্য সম্পদ নয় বা যুক্তরাষ্ট্রকে ভালোবাসে না”—এমন অভিবাসীদের বহিষ্কারের ঘোষণা
৪। দেশের শান্তি বিঘ্নকারী অভিবাসীদের নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি
৫। ২০২৬ সালে মাত্র ৭,৫০০ জন শরণার্থী গ্রহণ—১৯৮০ সালের পর সর্বনিম্ন লক্ষ্য
ট্রাম্প জানুয়ারি মাসে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই অভিবাসনকে কেন্দ্র করে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আফগান নাগরিকদের প্রতি এই নীতি আরও কঠোর হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া নতুন সিদ্ধান্তে আফগান পাসপোর্টধারী হাজারো আবেদনকারী অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।