শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ০৯:০৮ অপরাহ্ন

৮ হাজার দুস্থ পরিবারের ঈদ উপহার ৪ কর্মকর্তা গ্রাস করেছেন

অনলাইন ডেস্ক:: ইসলামী ব্যাংকের সিএসআর ফান্ডের ৫ কোটি টাকায় ৮ হাজার বিধবা, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও ছিন্নমূল পরিবারের মাঝে ঈদসামগ্রী বিতরণের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু দুই বছর আগে ব্যাংকটির চারজন কর্মকর্তা ওই টাকা তুলে নিজেরাই ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। অনুসন্ধান করে বিষয়টির প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ঘটনায় জড়িত থাকায় ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ মনিরুল মওলা ও অন্য তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলাও করেছে দুদক।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সিএসআর খাতে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৮ হাজার বিধবা, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও ছিন্নমূল পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের জন্য অর্থ বরাদ্দ করে। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিভিশন থেকে সে বছর ২৫ জুন ব্যাংকটির গুলশান করপোরেট শাখাকে ৫ কোটি টাকার একটি ইন্টার ব্যাংক ক্রেডিট অ্যাডভাইস (আইবিসিএ) ইস্যু করে। ওই ক্রেডিট অ্যাডভাইসের অর্থ সিএসআর খাত থেকে নিয়ে ৮ হাজার পরিবারের প্রতিটি পরিবারকে ৬ হাজার ২৫০ টাকা করে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করার কথা ছিল। তবে বাস্তবে কোনো অর্থ বিতরণ করা হয়নি।

দুদক সূত্রে আরও জানা গেছে, নিয়ম অনুসারে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে আঞ্চলিক কার্যালয় বা শাখা কার্যালয়ে সিএসআর খাতে আইবিসিএ ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ প্রদান করা হয়। পরে জোনাল হেড বা ম্যানেজারের মাধ্যমে সেই অর্থ দিয়ে খাদ্যদ্রব্য বা অন্য কোনো সামগ্রী কিনে সুবিধাবঞ্চিতদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। এক্ষেত্রে বিভিন্ন সামগ্রী কেনার রসিদ থাকতে হয় এবং যাদের মধ্যে বণ্টন করা হয় তাদের তালিকা করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। দুদকের অনুসন্ধানে ওই ৫ কোটি টাকা বিতরণের দাপ্তরিক নথিপত্র পাওয়া যায়নি।

দুদকের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুলশান করপোরেট শাখার ৫ কোটি টাকা ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের একজন প্রিন্সিপাল অফিসার এসএম জামাল উদ্দিন রাসেলকে নগদে প্রদান করা হয়। ২০২৩ সালের ২৫ জুন ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন ডিএমডি আকিজ উদ্দিন গুলশান শাখা থেকে ৫ কোটি টাকা এসএম জামাল উদ্দীন রাসেলকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। সেই মোতাবেক তিনি ওই টাকা নিয়ে মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের হেড অফিসে গিয়ে আকিজ উদ্দিনের কাছে দিয়ে আসেন। অন্যদিকে ব্যাংকের এসএভিপি এএম শহীদুল এমরান ঘটনার দিন গুলশান শাখার ব্যবস্থাপককে নগদ ৫ কোটি টাকা তুলে তৎকালীন ডিএমডি আকিজ উদ্দিনের পাঠানোর লোককে (রাসেল) দিতে বলেন। এর জন্য তৎকালীন এমডি মনিরুল মওলা তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে তিনি জানান।

আরেক দিকে ব্যাংকের সিএসআর বিভাগের প্রধান মোশতাক আহমেদ ঘটনার দিন তৎকালীন ডিএমডি মিফতাহ উদ্দিনকে নির্দেশ দেন, ডিএমডি আকিজ উদ্দিনের মনোনীত ব্যক্তি রাসেল গুলশান করপোরেট শাখায় যাবেন। তাকে সিএসআর খাতের ৫ কোটি টাকা নগদ প্রদান করার জন্য তৎকালীন শাখা ব্যবস্থাপক এসএম সুলতান আহমেদকে টেলিফোনে বলার জন্য নির্দেশ দেন। সেই মোতাবেক ডিএমডি মিফতাহ উদ্দিন শাখা ব্যবস্থাপককে টেলিফোনে ওই নির্দেশনা জানিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন।

এভাবে প্রধান কার্যালয় থেকে আকিজ উদ্দিন শাখা ব্যবস্থাপককে নির্দেশ প্রদান করেন যে, তার পাঠানো লোক জামাল উদ্দিন রাসেলকে ৫ কোটি টাকা নগদ বুঝিয়ে দিতে হবে, অন্যথায় এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। পরে ব্যাংকের এসএভিপি শহীদুল এমরান এবং সিএসআর বিভাগের প্রধান মোস্তাক আহমেদ ফোন করে টাকা দ্রুত প্রদান করতে বলেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপ এবং চাকরি হারানোর ভয়ে শাখা ব্যবস্থাপক ওই ৫ কোটি টাকা নগদ প্রদান করতে বাধ্য হন বলে জানান শাখা ব্যবস্থাপক।

দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন বলেন, ইসলামী ব্যাংকের সিএসআর খাতের অর্থ বিতরণ না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এ মামলা হয়েছে। এতে ব্যাংকের সাবেক এমডি মনিরুল মওলা, সাবেক দুই ডিএমডি মিফতাহ উদ্দিন ও মো. আকিজ উদ্দিন এবং ব্যাংকের গুলশান করপোরেট শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক এসএম সুলতান আহমেদকে আসামি করা হয়েছে। দুদকের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান এ মামলার বাদী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com