সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন
লালমনিরহাট প্রতিনিধি::
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তর মুসরদ মদাতী এলাকায় গৃহবূধ সাহিদা বেগমের উপর এসিড নিক্ষেপ মামলার অবস্থা জানাতে জেলা পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক গত ৪ মে একাধিক পত্রিকায় এসিড মামলা আসামী আবু হানিফাকে ৪ মাসেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো আসামী পরিবারের লোকজন বাদীর পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশ হলে পুরো বিষয়টি নিয়ে নড়েচরে বসে পুলিশ বিভাগ। উল্টো আসামী পরিবারের লোকজন বাদীর পরিবারকে ভয়ভীতিসহ বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশ হলে পুরো বিষয়টি নিয়ে নড়েচরে বসে পুলিশ বিভাগ। গত ৮ এপ্রিল পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক এক পত্রে আগামী ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে পুরো বিষয়টি অধিকতর তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনসহ বর্তমান অবস্থা জানতে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হককে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলা সুত্রে জানা যায়, গত ১৮ জানুয়ারী রাতে জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তর মুসরদ মদাতী গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের স্ত্রী সাহিদা বেগম কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে এসিড নিক্ষেপ করেন প্রতিবেশী জমসের আলীর পুত্র আবু হানিফা। ওই এসিড নিক্ষেপে সাহিদা বেগমের মুখ, গলা ও বুক ঝলসে যায়। এ সময় স্থানীয়রা এসিডদগ্ধ সাহিদা বেগমকে উদ্ধার করে প্রথমে কালীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে ব্র্যাক এসিডদগ্ধ সাহিদা বেগমকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করান। ওই ঘটনায় সাহিদা বেগমের ভাই শাহিনুর রহমান বাদী হয়ে স্থানীয় থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ২৬, তারিখ ঃ ১৯/০১/২০১৮ইং। কিন্তু ঘটনার ৪ মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামীকে গ্রেফতার বা ওই মামলার অভিযোগ পত্র (চার্জশীট) দাখিল করতে পারেনি পুলিশ। ফলে ঘটনার পর থেকে আসামী আবু হানিফের পরিবারের লোকজন বাদীর পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ গত ৪ মে প্রচারিত বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে পুলিশ বিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে। ফলে গত ৮ মে পুলিশের রংপুর রেঞ্জ’র ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক আগামী ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে পুরো বিষয়টি অধিকতর তদন্ত, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনসহ বর্তমান অবস্থা জানতে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হককে একটি পত্র দিয়েছেন। গত ৯ মে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক এক পত্রে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) শহীদ সোহ্রাওয়ার্দীকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
লালমনিরহাট পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।