শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৩ অপরাহ্ন
জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি::
নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, নেই জেলা প্রশাসকের কোন অনুমোদন। কোনো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকার পরেও জনবসতিপূর্ণ লোকালয়ে গড়ে উঠেছে ইটভাটা। ইটভাটার অনুমোদন না থাকলেও ইট তৈরির কার্যক্রম বন্ধ নেই ইটভাটা মালিকদের। একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় অবাধে ইট তৈরি করেই চলছেন অনুমোদনবিহীন আদিতমারী উপজেলার ইটভাটার মালিক ফারুক হোসেন। তিনি নিয়মনীতির কোনো কিছু তোয়াক্কা করছেন না।
সরেজমিনে আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের দেওডোবা গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, দেওডোবা বাজার থেকে পাঁচশ’ গজ দূরে এএফএইচ নামের একটি অনুমোদনবিহীন ইটভাটা জনবসতিপূর্ণ এলাকায় কার্যক্রম শুরু করেছেন। ইটভাটা তৈরির শুরুতেই এলাকাবাসীর অভিযোগ থাকলেও এসব অভিযোগ তোয়াক্কা বা আমলে নেয়নি কেউ। বর্তমানে ভাটাটিতে চলছে ইট তৈরির কার্যক্রম। তবে এখন পর্যন্ত ভাটায় ইট পোড়ার কার্যক্রম শুরু করতে পারেননি ইটভাটা মালিক ফারুক হোসেন। দু’একদিনের মধ্যে ভাটায় আগুন দেয়া হবে বলে এলাকাবাসী দাবি করছেন। এদিকে ইটভাটার চারিদিকে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি থাকায় ইটভাটাটি চালু হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সেখানকার সাধারণ লোকজন, ক্ষতি হবে হাজার হাজার একর ফসলী জমি। তারা দ্রুত অনুমোদনবিহীন এএফএইচ নামের ইটভাটাটি বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, এএফএইচ ইটভাটার মালিক ফারুক হোসেন ও তার আরও দুই বন্ধু মিলে ইটভাটাটি গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এরা তিনজনই বিভিন্ন ইটভাটায় কাজ করতেন বলে এলাকাবাসী দাবি করেন। এই ইঁভাটাটির দুই দিকে জনবসতি এবং অপর দিকে ফসলী জমির ক্ষেত। ভাটাটি চালু হলে এক দিকে যেমন এলাকার পরিবেশ দুষন হবে অন্যদিকে হাজার হাজার ফসলী জমির উৎপাদন বিনষ্ট হবে। এজন্য তারা লোকালয়ের এই ইঁভাটাটি বন্ধে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তার কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
পলাশী ইউনিয়নের দেওডোবা গ্রামের বাসিন্দা ও ইউপি সদস্য রণজিত্ কুমার জানান, জনবসতিপ‚র্ণ এলাকায় ইটভাটা চালু হলে সেখানকার লোকজন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কিন্তু প্রশাসন অনুমোদন দিলে কিছুই করার থাকবে না। তিনি এই ইটভাটাটি বন্ধের জোর দাবি জানান। এএফএইচ ব্রিকস-এর মালিক ফারুক হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এ ব্যাপারে বলেন, সরকারের অনুমতি নিয়েই তিনি ইটভাটা দিয়েছেন। এছাড়া তিনি আর কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান জানান, এখনও ইটভাটায় আগুন লাগানোর অনুমোদন দেয়া হয়নি। এরপরেও যদি ভাটায় আগুন লাগানো হয় তাহলে ওই ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া কোন ভাবেই কোন ব্যাক্তি বা সংস্থা জনবসতি লোকালয়ে ইটভাটা তৈরী করতে পারেন না। বিষয়টি তার জানা নেই এরপরেও অনুমোদন ছাড়া ওই ইঁভাটায় কেউ আগুন দেয়ার চেষ্টা কওে তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেয়া হবে।