রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৯ অপরাহ্ন

লালমনিরহাট নির্বাচন অফিসে চেক জালিয়াতি, অফিস সহায়ক পলাতক

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:: লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসের ৩টি চেক জালিয়াতির করে প্রায় দুই লাখ টাকা খোওয়ার ঘটনায় অফিস সহায়ক ওয়ালিউল ইসলাম(৫৫) ৭ দিন ধরে পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় নির্বাচন অফিসের সকল তালা পরিবর্তন করা হয়েছে।

নির্বাচন অফিস ও ব্যাংক সুত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতা ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের জন্য সোনালী ব্যাংক লালমনিরহাট শাখায় ৩৩০০৩৮৫৮ খোলা হয়। যার মাধ্যমে সরকারের সাথে এ অফিসের ব্যায় নির্বাহ হয়ে আসছে। অফিসের কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও সীলমোহরে উত্তোলন হয় এ হিসাব শাখার অর্থ। যা বেশির ভাগ সময় স্বাক্ষরীত চেক নিয়ে ব্যাংকে যান ওই অফিসের সহায়ক ওয়ালিউল ইসলাম। চেক বহি জমা রাখেন ওই অফিসের অফিস সহকারী তহমিনা বেগম।

গত ১০ জুলাই এমনি ভাবে একটি চেক রেজিষ্টারে করে স্বাক্ষর করেন নির্বাচন অফিসার আজাদুল হেলাল। কিন্তু ওই দিন টাকা উত্তোলন না করে চেকটি পকেটে রাখেন তিনি। তবে চেক বহি তাৎক্ষনিক ভাবে অফিস সহকারীর হাতে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রাখেন অফিস সহায়ক ওয়ালিউল ইসলাম।

ওই দিনই মুড়াসহ তিনটি চেক পাতা কেটে নেন অফিস সহায়ক ওয়ালিউল ইসলাম। সেই চেক দিয়ে কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে ১০ জুলাই সোনালী ব্যাংক লালমনিরহাট শাখা থেকে এক লাখ ৭১ হাজার ৯৩০ টাকা উত্তোলন করেন তার দুর সম্পর্কের আত্নীয় লালমনিরহাট শহরের জবা টেলিকমের সত্ত্বাধিকারী রশিদুল ইসলাম।

পরদিন ১১ জুলাই ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের সম্মানী ভাতা দিতে চেক নিয়ে ব্যাংকে যান নির্বাচন অফিসার আজাদুল হেলাল। কিন্তু ব্যাংকের ওই শাখায় টাকা নেই শুনে হতভম্ব হয়ে পড়েন তিনি। পরে ব্যাংক স্টেটমেন্ট তুলে দেখেন তিনটি চেকে এক লাখ ৭১ হাজার ৯৩০ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রাহক হিসেবে ওই হিসাব নম্বরে ব্যবহৃত চেকের ছায়ালিপি ও ব্যাংকের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দাবি করেন নির্বাচন অফিসার। কিন্তু বিধি সম্মত নয় দাবি করে ব্যাংক ব্যবস্থাপক সেই চেকের ছায়া লিপি দিতে অস্বীকার করেন।

এ ঘটনায় ওই দিনই চেক তিনটির (৪৪৫৭৫৭০,৪৪৫৭৫৭২, ৪৪৫৭৫৭৭) ছায়ালিপি চেয়ে ব্যাংক ব্যাবস্থাপক বরাবরে লিখিত আবেদন করেন তিনি। যেখানে বলা হয়েছে তার অফিসের সহায়ক ওয়ালিউল ইসলাম স্বাক্ষর জালিয়াতি করে টাকা উত্তোলন করে আত্নসাৎ করেন।

লিখিত আবেদনের পর জবা টেলিকমের সত্বাধিকারী রশিদুল ইসলাম মোবাইল ফোনে নির্বাচন অফিসারকে জানান, পাওনার টাকার বিপরীতে নির্বাচন অফিসের সহায়ক ওয়ালিউল ইসলাম তাকে এ চেক দিয়েছেন। তাই টাকা তিনিই উত্তোলন করেছেন। এ ঘটনার পর ওই অফিস সহায়ক পলাতক রয়েছেন। আরো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ১১ জুলাই নির্বাচন অফিসের সকল তালা পরিবর্তন করে নতুন তালা লাগানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) সকালে জবা টেলিকমের সত্ত্বাধিকারী রশিদুল ইসলাম জানান, অফিস সহায়ক ওয়ালিউল ইসলাম পাওনা ৩ লাখ টাকার মধ্যে মাত্র ৯৭ হাজার টাকার একটি চেক দিলে তিনি তা ব্যাংক থেকে তুলে নেন। চেকটিতে অফিস সহকারী ও কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও সীলমোহর দেয়া ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। এ ছাড়াও ওই সহায়কের দেয়া আরো ২টি চেক রয়েছে তার কাছে।

সোনালী ক্যাংক লালমনিরহাট শাখার ব্যবস্থাপক মামুনুর রশিদ হেলালী জানান, চেকের বাহককে টাকা দিতে বাধ্য ব্যাংক। তবুও চেক দাতা রশিদুলের মোবাইল নম্বর চেকের অপর পাতায় লিখে নেয়া হয়েছে। তবে চেক পাতার ছায়া লিপি’র আবেদনটি ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমতি পেলে গ্রাহককে দেয়া হবে।

সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার আজাদুল হেলাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ব্যাংকে চাপ দেয়ায় ব্যাংকের বরাত দিয়ে রশিদুল ফোনে জানান টাকা তিনি তুলেছেন এবং চেকপাতা ওয়ালিউল হস্তান্তর করেছেন। ঘটনার জানার পর থেকে তার অফিস সহায়ক লাপাত্তা রয়েছেন। বিষয়টি ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। চেকের ছায়ালিপি ও ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com