সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন
লালমনিরহাট প্রতিনিধি॥
অন্যত্র বিয়ের ব্যবস্থা করার কারনে পরিবারের সাথে অভিমান করে গলায় রশি পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছে স্কুল ছাত্রী বিথী রানী রায়(১৭)।
সোমবার(৩০ এপ্রিল) সকাল দুপুরে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের কান্তশ্বরপাড়া শ্বশানে দাহ করা হয়।
স্কুল ছাত্রী বিথী রানী রায় লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের কান্তশ্বরপাড়া(ডাকাত পাড়া) গ্রামের বর্গাচাষি নিরঞ্জন রায়ের মেয়ে। সে চলতি বছর আদিতমারী কেবি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ দিন ধরে বিথীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে তার প্রতিবেশী ঈশ^র চন্দ্রের ছেলে প্রভাবশালী রতেœশ^র বর্মন(৫০)। রতেœশ^র গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে অংশ নেন। বিষয়টি জানা জানি হলে পরিবারের লোকজন অন্যত্র বিয়ে দিতে বিথীর জন্য পাত্র খুঁজেন।
গত রোববার(২৯ এপ্রিল) পরিবারের দেখা পাত্রের সাথে বিয়ের বিষয়টি জানতে পেয়ে প্রতিবাদ করে বিথী রানী। এতে বাবা মা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারপিট করে এবং রতœশ^রকে ভুলে যেতে বলেন।
ওই দিন রাতে পরিবারের সাথে অভিমান করে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে বিথী রানী। সোমবার সকালে পরিবারের লোকজন তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখে তড়িঘড়ি করে দাহ করার প্রস্তুতি নেয়। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় লোকজন আদিতমারী থানাকে মোবাইল ফোনে অবগত করে।
স্থানীয়দের খবরে আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) হরেশ্বর রায় ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই বিথী রানীর মরদেহ দাহ করা হয়। মারপিট ও আত্মহত্যার আলামত নষ্ট করে হৃদযন্ত্রের ক্রিড়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, বিথীর পরিবার ১১ গোত্রীয় হওয়ায় তাদের কেউ মারা গেলে মাটিতে পুতে(দাফন) রাখা হয়। কিন্তু পুলিশী ঝামেলা এড়াতে তড়িঘড়ি করে বিথীকে দাহ করা হয়েছে। প্রেমের বিষয়ে রাতে বিথীকে মারপিট করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) হরেশ্বর রায় জানান, আমরা(পুলিশ) যাওয়ার আগেই দাহ করা হয়েছে বিথীকে। তাই মামলা নয় থানায় এ ব্যাপারে একটি জিডি করা হয়েছে।