সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৮ পূর্বাহ্ন
লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাজস্ব খাতভুক্ত দ্বিতীয় ধাপে ’সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০১৮’ মে মাসের ৪ তারিখে আয়োজনের কথা থাকলেও টানা বেশ কিছু দিন সরকারি ছুটি থাকার কারনে তা পরিবর্তন করা হয়েছে। ’সহকারী শিক্ষক নিয়োগ এ পরীক্ষাটি আগামী ১১ মে শুক্রবার সকাল ১০টায় আয়োজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। সোমবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক জরুরী সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সারাদেশে ্রসহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার আর মাত্র দুইদিন বাকী। আর এমন সিদ্ধান্তে চাকুরি দেওয়ার নামে দালাল চক্রের দৌড় ঝাপ শুরু হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে ওই দালাল চক্রটি চাকুরীর দাম তুলেছে ১২ লক্ষ টাকা। তবে কিছু কিছু লোকের ক্ষেত্রে টাকার পরিমান ১০ লক্ষ হলেও হবে।
লালমনিরহাট জেলার কালিগঞ্জ উপজেলায় সরেজমিন অনুসন্ধানে গেলে তথ্য পাওয়া যায় একটি সক্রিয় দালাল চক্রের।
দালাল চক্রটি প্রাথূীদের লোভনীয় অফার দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। প্রার্থীরাও তাদের পাতা ফাঁদে পা দিচ্ছে। প্রার্থীদের বলা হয় পরীক্ষার দুই দিন আগে তাদের যৌথ ব্যাংক একাউন্ট এ নয়/দশ লক্ষ টাকা জমা রাখতে হবে এবং চাকুরী হয়ে গেলে শর্তের বাকী টাকা দিতে হবে। প্রার্থীকে অবশ্যই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। তারপর পরীক্ষার খাতায় কিছু না লিখে খাতা জমা দিয়ে বের হতে হবে। পরে ওই দালাল চক্রটির সদস্যরা রোল নম্বর দেখে খাতা বের করে সম্পূর্ণ সঠিক উত্তর লিখে দিয়ে আসবে। এভাবেই উপরের হাতসহ বিভিন্ন মাধ্যমের মধ্যে টাকা দেওয়া প্রার্থীকে পরীক্ষায় টিকিয়ে যৌথ একাউন্ট থেকে নিজ একাউন্টে মানি ট্রান্সফার করে নেয়া হয়।
এভাবেই বলছিলেন গত নিয়োগে টাকার মাধ্যমে উত্তির্ণ হওয়া একজন প্রার্থী।
তিনি আরও বলেন, ওই সময় আমাদের নিয়োগে মোট ৫ জনের কাছ থেকে সাত লক্ষ করে মোট পঁয়ত্রিশ লক্ষ টাকা নেয়া হয়। সেই বার আমাদের মধ্যে তিনজনের চাকুরি হয়। বাকি দুজনের হয়নি কিন্তুু ওই দালাল চক্রটি বলেছে এবার অবশ্যই তাদের বাকী দুজনের চাকুরি হবে এবং তাদের সাথে নতুন করে আরও পাঁচজন প্রার্থী যোগ হবে। এ জন্য তাদেরকে গুনতে হবে জনপ্রতি ১০ লক্ষ করে টাকা। তাদের শর্তে রাজি হলেই তবে তারা প্রার্থীর সাথে কন্ট্রাক্ট করবে নতুবা নয়।
পরে গত নিয়োগে চাকুরি না পাওয়া পরিবার দুটোর কাছে গিয়ে এ ব্যাপারে সব কিছু জানতে চাইলে। তাদের মুখেও একই বাণী শুনা যায়। তারা দালাল চক্রটিকে টাকা দিয়েছে পাঁচ লক্ষ। নিজের আবাদী সবটুকু জমি বিক্রি করে সেই টাকা তারা দিয়েছে। বেচেঁ থাকার শেষ সম্ব^ল বলতে তাদের আর কিছুই নেই। এখন তাদের একটাই আশা এবার বাকি টাকা দিয়ে দিলে এবারের নিয়োগ পরীক্ষায় দালাল চক্রটি তাদের চাকুরি নিশ্চিত করে দিবে।
যদি চাকুরি না হয় তাহলে কি করবেন এমন প্রশ্ন করা হলে তারা বলেন, অবশ্যই হবে, গত নিয়োগেই তাদের দুইজন নিকটতম আত্মীয় এবং আর একজন পরিচিত লোকের চাকুরি হয়েছে। এবার আমাদের চাকুরি হবেই। তারপরেও যদি না হয় তাহলে দালাল চক্রটি তাদের টাকা ফেরৎ দিয়ে দিবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভুক্তভোগী বলেন, ওই দালাল চক্রের এক সদস্যের বাড়ী কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলায়। লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ উপজেলায় তার শশুরবাড়ী হওয়ার সুবাদে এভাবেই কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন দালাল চক্রের ওই সদস্য।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দালাল চক্রের ওই সদস্যের বোনের স্বামী একজন উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা। তার মাধ্যমেই পরীক্ষা থেকে শুরু করে যে কোন নিয়োগ এবং বদলি সংক্রান্ত সব কিছুই মোটা অংকের টাকার মাধ্যমে করে নেয়া যায়। সব কিছু ম্যানেজ করে টাকার বিনিময়ে তিনিই প্রার্থীদের চাকুরি নিয়ে দেন।
এ ব্যাপারে খোঁজ নিতে কুড়িগ্রামের উলিপুরে গেলে জানা যায়, ওই দালাল চক্রের সদস্যের বোনের স্বামীর তেমন কোন ক্ষমতা না থাকলেও তিনি কুড়িগ্রাম জেলার নাম করা একজন বড় দালালের মাধ্যমেই এই কাজ গুলো করে থাকেন দালাল চক্রের এই ছোট সদস্যটি।
লালমনিরহাট জেলার গোয়েন্দার শাখার উপ-পরিচালক মোঃ একরামুর হকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন. গোয়েন্দা টিম সব সময় দালালচক্রের বিরুদ্ধে কাজ করে আসছে। এ রকম অবৈধ নিয়োগের ঘটনা দেশের প্রায় জায়গায় হচ্ছে। আমি বিশ^াস করি এখানে এ রকম ঘটনা ঘটলে লালমনিরহাট জেলা পুলিশ এদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারবে।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোঃ শফিউল আরিফ বলেন, কেন যে প্রার্থীরা চাকুরির জন্য দালালদের টাকা দিচ্ছেন তা আমাদের জানা নেই। আর দালালরা টাকা নিলেও কোন লাভ নেই, কারন পরীক্ষার দিনেই প্রশ্ন আসবে। আর পরীক্ষা শেষ হলেই সাথে সাথে আমরা খাতা গুলো ঢাকায় পাঠিয়ে দেব। তিনি দালালদের অযথা টাকা না দেওয়ার পরামর্শ দেন। তারপরেও যদি এর সাথে কেউ জড়িত থাকেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, মেধার গুণগত মান সরকার সবার আগে নজর দেয়। তাই প্রার্থীর মেধা বিবেচনা করেই নিয়োগ দেয়া হবে। এছাড়া তিনি এ সমস্ত দালালদের থেকে সবাইকে দুরে থাকার পরামর্শ দেন।