সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন

লালমনিরহাটে প্রত্যন্ত পল্লী এলাকায় জামায়াত নেতার গোপন বৈঠক ফাঁস

লালমনিরহাট প্রতিনিধি॥
লালমনিরহাটে প্রত্যন্ত এক পল্লী এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা আঃ হামিদ নামে এক জামায়াত নেতার গোপন বৈঠক ফাঁস হয়ে পড়েছে। এছাড়াও জামায়াত নেতা আঃ হামিদের বিরুদ্ধে জামায়াতের অন্তরালে উলফা জঙ্গি সংগঠনের সাথে সক্রিয় ভাবে জড়িত থাকারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে এলাকাবাসী সদর থানা পুলিশসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করার পরেও কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি পুলিশ।
অভিযোগে জানা গেছে, লালমনিরহাট সদর উপজেলার হারাটি ইউনিয়নের কাজীর চওড়া গ্রামের মৃত রফিক উদ্দিন ওরপে অপুর উল্ল্যাহ মুন্সীর পুত্র আঃ হামিদ (৫০), তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সদর উপজেলার হারাটি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউনিট কমিটির সেক্রেটারী ও জামায়াতের সুরা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জামায়াতের অন্তরালে তিনি উলফা জঙ্গি সংগঠনের সাথে সক্রিয় ভাবে জড়িত। তার বাড়িতে প্রতি সপ্তাহে জামায়াতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তাছাড়াও উক্ত আঃ হামিদ জামায়াত সেক্রেটারীর প্রভাব খাঁটিয়ে বিভিন্ন অফিস আদালতে অবৈধ সুবিধা হাসিল করতে না পেরে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে অর্থহাতিয়ে নেয়া তার প্রধান ব্যবসা। তিনি ইতিমধ্যে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, হারাটি বন্দর শাখার ব্যবস্থাপক ও সুপারভাইজার, অগ্রনী ব্যাংক লালমনিরহাট শাখা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, পল্লী বিদ্যুৎ অফিস কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ করেন। এসব মিথ্যা অভিযোগে তার চাহিদা মত অর্থ পেলে অভিযোগ তুলে নেন এবং অস্বীকার করেন।
অপরদিকে ২০১৭ তার ভাতিজি-কে দিয়ে মিথ্যা একটি ধর্ষন নাটকীয় মামলা দায়ের করে এবং তা আপোষ মিমাংসার কথা বলে ৭০হাজার টাকা নিয়ে আত্মসাত করেন। ২০১৮ইং সালে হারাটি ইউনিয়নের মৃত বক্তার আলীর ছেলে খায়রুল ইসলাম মিলন এর নিকট থেকে ব্যবসার কথা বলে ১মাসের জন্য ৬ লক্ষ টাকা গ্রহন করে দীঘদিন ধরে টালবাহনা করছেন। উক্ত টাকা চাইতে গেলে জামায়াত সেক্রেটারী আঃ হামিদ বাদী হয়ে ২৬/০৪/২০১৮ইং তারিখে লালমনিরহাট বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে খায়রুল ইসলাম মিলনসহ ৮জনের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। এ ভাবে জামায়াত সেক্রেটারীর প্রভাব খাঁটিয়ে সরকারী কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ তার অত্যাচারে অতিষ্ট ও মিথ্যা/মামলা/অভিযোগে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। এলাকাবাসী সদর থানা পুলিশসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করার পরেও কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি পুলিশ।
এ বিষয়ে সদর থানার উপ-পরিদর্শক এস আই মাইনুল ইসলাম বলেন, জামায়াত সেক্রেটারী আঃ হামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিন্তু অভিযোগকারীদের সাথে আমার যোগাযোগ না থাকায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না।
লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল-এ) সুশান্ত সরকার এ ব্যাপারে বলেন, জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে আমি কোন অভিযোগ পাইনি। সদর থানা পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার পরেও কেন ব্যবস্থা নেয়নি অভিযোগটি হাতে পেলে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিবো।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com